আন্ডার গ্রাউন্ড পদ্ধতি

jakaria

                   আন্ডার গ্রাউন্ড পদ্ধতি:

-----------------------------------------------

যমন খনি কাঁচামাল ডিপজিট এর গভীরতা বেশি হয় তখন এই পদ্ধতিতে মাইনিং করা হয়ে থাকে। বেশিরভাগ খনিতে ব্যবহার উপযোগী কাঁচামালের স্তরের পুরুত্ব ৫ থেকে ১৫ ফুট পর্যন্ত হয়ে থাকে। তবে কখনো কখনো এই পরিমাণের তারতম্য হতে পারে। মাইনিং শুরু করার আগে খনিতে একটি প্রবেশ দ্বার ও এটা থেকে সামনের দিকে অগ্রসব মান সুরঙ্গ পথের প্রয়োজন। এই পথ বাহির দিক থেকে খনি মুখী করে করা হয়। ইহা সাধারণত রুম ও পিলার পদ্ধতিতে করা হয়। এ পদ্ধতির একটা সুবিধা হল যে মাইনিং এর জন্য আর কোন প্রবেশ দ্বার করার প্রয়োজন পরে না। তবে ইহা ব্যয় বহুল পদ্ধতি কারণ মাইনিং চলাকালে কোন অসুবিধার সম্মুখীন হলে এতে নিরাপদে আশ্রয় গ্রহণ করার মত উপযোগী করে নির্মাণ করতে হয়। ইহা মূলত: বাউন্ডারী রেখা (খনি যে পর্যন্ত বিস্তৃত তা চিহ্নিত করণ রেখা) পর্যন্ত প্রবেশ দ্বার ও সেখান থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত সুরঙ্গ পথ তৈরি করতে হয়। তার পর প্রবেশ দ্বারের দিক থেকে কাজ শুরু করা হয়। পূর্বে স্থাপিত পিলারগুলোর মধ্যে যেগুলোর গুরুত্ব কম সেগুলো অপসারণ করা যেতে পারে। আন্ডার গ্রাউন পদ্ধতিতে মাইনিং করতে হলে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পরিকল্পনা করা হয় এবং ধারাবাহিকভাবে পরিকল্পনা মাফিক আগানো হয়। বাস্তবিক পক্ষে সব আন্ডার গ্রাউন্ড মাইনিং এ ড্রিলিং ও ব্লাস্টিং করে কাঁচামাল সংগ্রহ করা হয়। এই কাজে হস্ত চালিত, বিদ্যুৎ বা বায়ু চালিত ড্রিল ব্যবহার করা হয়। কাঁচামালের খন্ডগুলো হাত দিয়ে বা বেলচার সাহায্যে গাড়ীতে বোঝাই করা হয়। তবে আধুনিক কালে ইহা কারলোডার দ্বারা করা হয়।

 

কে ছাড়া অন্যান্য খনিতে কম ব্যায়ে মাইনিং করার জন্য যে সব পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়ে থাকে তা কে মাইনিং এর জন্য উপযোগী হলে ব্যবহার করা যায়। তবে মাইনিং এর জন্য যে পদ্ধতি ব্যবহার করা হোক না কেন সর্বায়ে কোন নিষ্কার্শিত পদার্থ থাকলে তা ভালভাবে অপসারণ করতে হবে। যেহেতু কর্দমাক্ত মেঝ এবং ট্রাকটর কাঁচামালের পরিবহন খরচ বৃদ্ধি করে এবং কাঠের কাজ জটিল করে তোলে। তার পর উত্তম মানের পোস্ট দ্বারা কাঠের কাজ ভালভাবে করা উচিত। কাঁচামাল পরিবহনেও উপযুক্ত ট্রাক ব্যবহার করা উচিত এবং একে ভালভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে। কারণ নিম্ন মানের ট্রাক, পরিবহন খরচ বৃদ্ধি করে। সচরাচর থেকে ৬ ঘন মিটার ক্যাপাসিটির ড্যামকার দ্বারা রেল পথে কাঁচামাল বিশোধন প্লান্টে স্থানান্তর করা হয়। এই গাড়ি স্টীম, তৈল বা গ্যাসলিন দ্বারা পরিচালিত হয়ে থাকে। কখনো কখনো কাঁচামাল রজ্জুপথে ও প্লান্টে স্থানান্তরিত করা হয়ে থাকে। যেখানে যোগযোগ ব্যবস্থা ভাল নয় কিন্তু প্লান্ট ও খনির মধ্যে সুবিধাজনক দূরত্ব থাকে সে ক্ষেত্রে রজ্জু পথে কাঁচামাল পরিবহন করা অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হয়। আর যদি যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল হয় সেক্ষেত্রে ট্রাকটর কেই পরিবহনের জন্য ব্যবহার করা হয়।

কাঁচামাল মাইনিং এর জন্য প্রয়োজনীয় খরচ সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারিত করা দূরহ। কারণ সব খনির ভৌতিক অবস্থা, খনিজের পরিমাণ, যোগাযোগ ব্যবস্থা এক রকম থাকে না। তাছাড়া বিশোধন প্লান্টের দূরত্ব ও তারতম্য হয়ে থাকে। উপরোক্ত বিষয়গুলো হতে প্রাপ্ত সুযোগ সুবিধার উপর নির্ভর করে এ খরচ কম বেশি হতে পারে ।

 

                        শ্যাফট মাইনিং ঃ 

 শ্যাফট মাইনিং একটি আন্ডার গ্রাউন্ড মাইনিং পদ্ধতি। সাধারণত এই পদ্ধতিতেই বল কে মাইনিং করা হয়। যখন মাইনের গভীরতা খুব বেশি এবং কে কাইয়ের ন্যায় অবস্থান করে সে ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। তবে শ্যাফট মাইনিং সব বলতে মাইন এ একই ধরনের হয় না। এ পদ্ধতিগুলোর মধ্যে একটা পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। ইংল্যান্ডের দক্ষিন ডেভেন এর একটি বল কে খনির মাইনিং পদ্ধতির বিবরণ নিম্নে আলোকপাত করা হল।

খনির সুবিধাজনক স্থানে প্রয়োজনীয় গভীরতা পর্যন্ত আয়তাকার শ্যাফট পোতা হয়। তবে এর গভীরতা ৩৬ মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। পুরাতন মাইনগুলোতে শ্যাফটের আকার (১.২ × ১.৮) মিটার ছিল। এ শ্যাফটের দুইটি অংশ থাকে। এক অংশ বর্গাকার যার আকার (১.২ × ১.২) মিটার এবং অপর অংশ আয়তাকার যার আকার (১.২×.৬ ) মিটার। বর্গাকার অংশ বাকেট হলেজ এর জন্য এবং আয়তাকার অংশ মই ও খনি খননকারীর জন্য ব্যবহৃত হয়। আধুনিককালে কে উত্তোলন কাজে ওয়াগন ব্যবহৃত হয়। এই ওয়াগনের সাইজ শ্যাফটের সাইজের উপর নির্ভর করে। খনির পার্শ্ব দেয়ালগুলোতে খুব মজবুত করে টিম্বারিং করা হয়।

ওভার বার্ডেন অপসারিত হওয়ার পর কে স্তর পাওয়া যায়। এই অবস্থায় খনিতে পানি বা অন্যান্য নিষ্কাশিত পদার্থ নিঃসরণ হতে পারে। তাই ক্লে বেডকে শ্যাফট মুখী করে সামান্য ঢালু করে দেয়া হয়। এতে নিষ্কাশিত পদার্থ বা পানি শ্যাফট এর কাছে এসে জমা হয়। তারপর নির্দিষ্ট সময়ান্তে ইহা পাম্পিং করে অপসারণ করা। হয়। ১.৮ মিটার গভীর ও ২ মিটার প্রশস্ত স্থান থেকে কে অপসারণ করা হয় যা টিম্বারিং করে বা স্টীল দ্বারা সাপোর্ট দেওয়া থাকে। আগেকার দিনে শ্যাফট থেকে ২৭ মিটার আর বর্তমানে ইহা ৯০ মিটার পর্যন্ত মাইনিং করা হয়ে থাকে। তারপর সংগৃহীত ক্লে ওয়াগন বা হুইল ব্যারে করে নেরোগেজ রেলের উপর দিয়ে কে বিশোধন প্লান্টে নিয়ে আসা হয়।

খনি থেকে কে হাতে, মেকানিক্যাল পিক বা কোদালের সাহায্যে সংগ্রহ করে হুইল ব্যারো বা ওয়াগনে করে বিশোধন প্লান্টে নিয়ে যাওয়া হয়। এভাবে শ্যাফট পর্যন্ত কে অপসারণ করা হয়। কিছু কিছু শ্যাফট এর ক্ষেত্রে পানি পাম্পিং করার প্রয়োজন পরে। শ্যাফট মাইনিং এ দক্ষ শ্রমিকের প্রয়োজন হয়। ওপেন কাস্ট পদ্ধতিতে খনির যে কোন স্তরের ক্লে পুরাপুরিভাবে অপসারণ করা যায়। কিন্তু এ পদ্ধতিতে তা পুরাপুরিভাবে সম্ভব পর হয়ে উঠে না হোয়াইট ওয়্যারের জন্য প্রয়োজনীয় বেশির ভাগ বল কে এই পদ্ধতিতেই মাইনিং করা হয়।

 

                  হাইড্রোলাইসিস পদ্ধতি ঃ

ইহা একটি ক্লে মাইনিং পদ্ধতি। ক্লের মাইনিং পদ্ধতি মূলত: ক্লে ডিপজিট এর প্রকৃতির উপর নির্ভর করে। এ বিষয়ে আমারা পূর্বেই অবগত হয়েছি। যে সব ক্লের খনি পাহাড়ে অবস্থান করে এদের ব্লাস্টিং করে ঢিলেঢালা করা হয়। তারপর সেখান থেকে কে সংগ্রহ করা হয়। এভাবে কে সংগ্রহ করতে করতে পিট এমন এক পর্যায়ে উপনিত হয় যখন পিট খাড়া আকার ধারণ করে। তখন পিটের খাড়া পার্শ্বে স্টীল পাইপের মাধ্যমে উচ্চ চাপে শক্তিশালী ওয়াটার জেট চালনা করা হয়।

 

 

 

My.NOT.3rd.Sub-ce_body_pe.P_20-21

Comments