আমাদের গ্রামটি হলো যমুনা নদীর পূর্ব পাশে। আমাদের এই গ্রাম গুলো একটা দ্বীপের মতই বলা যায় যার চতুর্পাশে দিয়ে শুধু পানি আর পানি। দীপ বলতে আমাদের জায়গাগুলো নদীর একপাশে ভাঙ্গে আরেক পাশে গড়ে। মানুষের জীবনযাত্রা খুবই অদ্ভুত। আল্লাহতালা কখন কাকে কোন জায়গায় রাখে বলা যায় না। আল্লাহ তাআলা আমাদের যে অবস্থায় থাকুক না কেন আমরা সর্ব অবস্থায় তার উপর শুকরিয়া আদায় করি (আলহামদুলিল্লাহ)।
আমরা প্রথমে ঘোড়াগাছা নামের একটি গ্রামে বসবাস করতাম। সেই গ্রামটি ভেঙে যাওয়ার পরে আমরা নাটুয়ারপাড়া নামের একটি গ্রামে এসে ঘরবাড়ি আবার তৈরি। তখন রাস্তাঘাটের কোন ভালো ব্যবস্থা ছিল না শুধু নৌকা চলাচল করত, তখন আমাদের ওখান দিয়ে বলা যায় শুধু পানি আর পানি কোথাও ওরকম ভাবে রাস্তা নেই শুধু ধান চাষ আবাদের যে মাঝখানে আইল থাকে তার ওপর দিয়েই চলাচল করা হতো। তো যখন আমাদের ঘর বাড়ির ভিটা ছিল সবই নদীতে বিলীন হয়ে গিয়েছে। আবার আমরা যখন নতুন একটি জায়গায় বা নাটুয়ার পারা নামের একটি গ্রামে বসবাস করতে শুরু করলাম, নতুন ভাবে জীবন যাপন করতে আবার শুরু করলাম।
তো সরকার ধীরে ধীরে রাস্তাঘাট তৈরি করার জন্য প্রজেক্ট দিয়েছে চেয়ারম্যানদের কাছে তারা আমাদের জন্য শুধুমাত্র চলাফেরা করার জন্য সামান্য রাস্তা তৈরি করে দিল। এক পর্যায়ে আবার যখন বর্ষাকাল চলে আসে তখন রাস্তাগুলো আবার পানিতে ডুবে যায় মানুষের চলা চল কষ্টকর হয়ে যায়। ঠিক তেমনি ভাবে শুধু রাস্তা নয় মানুষের থাকার জায়গা পর্যন্ত ডুবে যায় অবশেষে আশ্রয় নিতে হয় গাছের ডালে ডালে। এইতো হল আমাদের গ্রামের অবস্থা।
তবে আগের তুলনায় এখন অনেক উন্নত হয়েছে আমাদের গ্রাম। আগে শুধু হেরিকন অথবা মোমবাতির মাধ্যমে আলো জ্বালিয়ে আমরা থাকতাম। এক পর্যায়ে যখন সৌর বিদ্যুৎ আমাদের এলাকায় আসে তখন থেকেই প্রায় সৌর বিদ্যুৎ নেয়া হয়। সৌরবিদ্যুৎ নেওয়ার পর দীর্ঘ ১৬ থেকে ১৮ বছর চলে যায় এই সৌর বিদ্যুতের মাধ্যমে। এরপরে সরকার আমাদের জন্য কারেন্টের ব্যবস্থা করে দেয়। এই কারেন্ট এর প্রজেক্ট যখন 18 কিম্বা 19 সালে আসলো এরপর কাজ করতে করতে 2021 সালের শেষের দিকে অথবা 2022 সালের প্রথম দিকেই ঘরে ঘরে পৌঁছে যায়।
এই হলো আমাদের গ্রামের অবস্থান। আলহামদুলিল্লাহ আগের তুলনায় অনেক ভালো আছে আমাদের গ্রাম উন্নত হয়েছে বেশ।


