রাগ শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর
প্রিয় পাঠক বৃন্দ! আপনারা সকলে কেমন আছেন? আশা করি আল্লাহর রহমতে সকলে খুব ভালো আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় এবং আল্লাহ তা'আলার অশেষ মেহেরবানীতে খুব ভালো আছি। আলহামদুলিল্লাহ। আজকে আপনাদের সামনে আবারো নতুন একটি বিষয় নিয়ে ফিরে আসলাম। আর তা হল "রাগ শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর"।
রাগ বা ক্রোধ দ্বারা একজন সুস্থ মানুষও মানসিক ভারসাম্য হারাতে পারে বা মানসিক ভারসাম্য লোক পেতে পারে । এমন কি এটা তার মনোরোগও হতে পারে অর্থাৎ তার মনের মধ্যে রোগ বাসা বাঁধতে পারে। রাগের দরুন শরীরে যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এই উত্তেজনা মানুষকে হিতাহিত জ্ঞানশূন্য করে এবং মন্দ কাজের উৎসাহ যোগায়। এই হেদায়েত জ্ঞানশূন্য হয়ে যাওয়ার কারণে যে কোন কাজ করতে সে দ্বিধাবোধ করে না।
ক্রোধ সম্পর্কে একজন স্বাস্থ্য বিজ্ঞানী পিথাগোরাস কি বলেন তা আমরা জানার চেষ্টা করবো। তিনি বলেন ক্রোধ বা রাগ দুর্বুদ্ধি থেকে আরম্ভ হয়ে অনুশোচনায় শেষ হয়। তাহলে আমরা জানতে পারলাম যে রাগের কারণে কোন সুবুদ্ধি তার মাথায় আসেনা। মাথায় যা আসে তা হল অপরাধমূলক কিছু চিন্তা যা পরবর্তীতে তাকে অনুশোচনায় ফেলে দেই। ক্রোধ থেকে অবশ্যই আমাদেরকে বেরিয়ে আসতে হবে যদি আমরা সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে চাই।
বিজ্ঞানীরা আরও বলেন যে, রাগ এক ধরনের মানসিক রোগ। এর ফলে হজম শক্তির ব্যাঘাত ঘটে। বিজ্ঞানীদের মতে রাগ হচ্ছে একটা মানসিক রোগ। মানসিক রোগের কারণে হিতাহিত জ্ঞান অনেক ক্ষেত্রে লোক পেয়ে যায়। তাহলে রাগ আমাদেরকে অবশ্যই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। রাগের কারণেই হজম শক্তির গোলমাল দেখা দেয়। সুস্থ সুন্দর জীবন যাপন করতে হলে অবশ্যই আমাদেরকে রাগমুক্ত জীবনযাপন করতে হবে কারণ রাগের কারণে আমাদের মানসিক এমন কি শারীরিক রোগ হতে পারে তাই অবশ্যই আমাদেরকে দূরে থাকতে হবে।
রাগের কারণে শারীরিক প্রতিক্রিয়ায় সংস্কৃতি দ্রুত হয় তার ফলে ফুসফুস কে বেশি কাজ করতে হয়। বাস্তবেও যদি আমরা বিষয়টি দেখি তাহলে বুঝতে পারবো যখন একজন ব্যক্তি রেগে যান তখন তার সংস্কৃতি দ্রুত চলাচল করতে থাকে এতে ফুসফুস দ্রুত চলাচল করতে থাকে ফলে সে হাঁপিয়ে ওঠে ফলে তার হিতাহিত জ্ঞান লোক পেয়ে যায়।। সংস্ক্রিয়া যখন দ্রুত চলতে থাকে তখন যদি ফুসফুস ওই পরিমাণ কাজের শক্তি পায় না ফলে রক্তচাপ বৃদ্ধি পায় এবং মাথা ঘোরা দেখা দেয়। শরীরের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং মাথা ঘোরা থেকে মুক্তি পেতে হলে অবশ্যই আমাদেরকে রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
আর একজন মহা গবেষক যে এস্টার বলেন যদি কেউ রাগ সহকারে ১৫ মিনিট থাকে তাহলে তার এত শক্তি নষ্ট হয় যার পরিমাণ হচ্ছে সাধারণ অবস্থায় ওই শক্তি দিয়ে সে নয় ঘন্টা কাজ করতে পারতো। তাহলে রাগ কতটা মারাত্মক হলে আমাদের এত ক্ষতি হয় আমরা কখনো এরকম চিন্তা করেছি কি। 15 মিনিট রাগ অবস্থায় থাকার কারণে আমাদের শরীর থেকে নয় ঘন্টা কাজ করার শক্তি চলে যায়। তাহলে যারা প্রচন্ড রাগী বা ক্রোধপ্রবাণ ব্যক্তি তাদেরকে অবশ্যই এই ধরনের কথাগুলো বুঝাতে হবে এবং তাদের রাগ কমানোর জন্য তাদের সাথে এ বিষয়গুলো শেয়ার করতে হবে।
আমরা সামনে যদি আরো দেখি তাহলে দেখতে পাই ক্রোধ অবস্থায় হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনাও বেশি থাকে অর্থাৎ যারা হার্টের রোগী রাগ অবস্থায় অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা শিকার হতে পারেন। এছাড়াও তাদের কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়। সহজে তাদের কোষ্ঠকাঠিন্য পরিষ্কার হয় না। এর অন্যতম কারণ হলো রাগের সময় পেট অন্তরের কাজ করার ক্ষমতা প্রায় নষ্ট হয়ে যায়। যখন একজন ব্যক্তি প্রদান্নিত হয় তখন তার পেটের সমস্যা হয় হলে তার অন্ত্র গুলো সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না ফলে তার পেটে বিভিন্ন রকম রোগ সৃষ্টি হয়। যার ফলে খাবার ভালো করে হজম হয় না শরীরে এজন্য বিভিন্ন ধরনের রোগ এসে বাদাম বাসা বাঁধে এছাড়াও রাগ চোখের প্রচুর ক্ষতি করে এবং স্বাভাবিক সৌন্দর্য নষ্ট করে দেই।
তাহলে রাগ বা ক্রোধ থেকে কত সমস্যা আমাদের শরীরে বাসা বাঁধে তার সহজেই আমাদের অনুমেয় করতে পারি। এত ধরনের ক্ষতি হয় যা মানুষ বা ক্রোধান্বিত ব্যক্তিগণ কখনো চিন্তা করতে পারেনি। আসলে অনেক কিছুই আমাদের অজানা রয়ে গেছে। অজানাকে জানতে বুঝতে আমাদের হায়াতে জিন্দেগি শেষ হয়ে যাবে তবুও আমাদের জানা বুঝা শেষ হবে না। এইজন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাঁর প্রিয় হাবিব রাসুলের উপর প্রথম কথাটি নাযিল করেছিলেন এক করা পড়ো বুঝ জানো হৃদয় অঙ্গম কর।
তাই রাগ থেকে আমাদের সকলকেই দূরে থাকতে হবে এবং চেষ্টা করতে হবে যত সম্ভব রাগ না হতে চেষ্টা করা। তবুও যদি রাগ এসে যায় তা ইসলামী পদ্ধতিতে বা উপায়ে তা দমন করা আমাদের বাঞ্ছনীয়। রাগ দমনের ইসলামী নীতি বা উপায় নিম্নোক্ত একটি কাব্যর মাধ্যমে আপনাদের বলে দেবো আর তা হল-
"দাঁড়ানোতে হলে রাগ জলদি বসে পড়ো
বসাবস্থায়ী হলে রাগ শোয়ার ভান করো।
তাতেও যদি তুমি কামিয়াব না হও
তাড়াতাড়ি অজু করে নামাজ পড়ে লও।"
অত্র ৪ লাইনের কাব্য থেকে আমরা ইসলামিক নীতি জানতে পারলাম যে রাগ হলে রাগ দমনের জন্য আমাদের কি কি করা উচিত বা কিভাবে করতে হবে। যখন একজন ব্যক্তিকে রাখবে বসবে তখন জলদি সে বসে পড়বে তাও যদি না হয় তাহলে সে শুয়ে পড়বে তাতে যদি তার রাগ না সারে তাহলে তাড়াতাড়ি করে ওযু করে সে সলাতে দাঁড়িয়ে যাবে এর দ্বারা অবশ্যই সে মুক্তি লাভ করবে যদি আল্লাহ চাই।
কারণ আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনুল কারীমে এরশাদ করেছেন নিশ্চয়ই সালাত মানুষকে অশ্লীলতা ও ফাহেশা কাজ থেকে বিরত রাখে। কোন ব্যক্তি যখন তাকবীরে তাহরিমার মাধ্যমে সালাতে দাঁড়িয়ে যায় তখন তার অন্য কোন কাজ করা হারাম হয়ে যায় সে চাইলেও অন্য কোন কাজ আর করতে পারবে না। যতক্ষণ নামাজের মধ্যে থাকে ততক্ষণ সে গুনাহ থেকে বেঁচে থাকে আর যখনই নামাজ শেষ হয়ে যায় তখনই সে আবার গুণহার দিকে প্রবৃত্তি হয়।
যে পরিশেষে বলবো আমরা যারা ক্রোধ প্রবণ ব্যক্তি আছে তারা অবশ্যই এই ইসলামী ধারনা নীতিটুকু মেনে চলার চেষ্টা করব। এরকমভাবে ক্রোধের সময় কাজ করলে অবশ্যই আমাদের ক্রোধ প্রশমিত হবে এবং ধীরে ধীরে তা লোভ পেয়ে একসময় লীন হয়ে যাবে।
পরিশেষে বলবো যারা আমার লেখা ধৈর্য সহকারে পড়লেন বা পরিদর্শন করলেন তাদের সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ। পরবর্তীতে আবারো কোন বিষয় নিয়ে আপনাদের সামনে আলোচনা করব। সকলের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি। সকলে আমার জন্য দোয়া করবেন। আল্লাহ হাফেজ।



রাগ শয়তানের পক্ষ থেকে আসে।