বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
প্রিয় পাঠকবৃন্দ! আপনারা সকলে কেমন আছেন? আশা করি আল্লাহর রহমতে সকলে খুব ভালো আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় এবং আল্লাহ তা'আলার অশেষ মেহেরবানীতে খুব ভালো আছি। আলহামদুলিল্লাহ। আজকে আপনাদের সামনে আবারো নতুন একটি বিষয় নিয়ে ফিরে আসলাম। আর তা হল "মহানন্দা নদীর কূলে ফটোগ্রাফি"।
আজকে আমার পিতা নদীতে মাছ শিকার করার জন্য যাই। সকালবেলা নাস্তা না করে ই পিতা চলে যায়। সকালের নাস্তা দেওয়ার জন্য আমিও নদীর ধারে যাই। নষ্টা দেওয়ার পরে আমার ছেলে সহ সেই মুহূর্তটিকে ক্যামরা বন্দী করে। আমাদেরকে ছাড়াও শুধুমাত্র নদী কেউ ক্যামরা বন্দী করে। প্রাকৃতিক এসব নদীর দৃশ্য যে কারো নজর কাড়বে। আমাদের বাড়ি থেকে আমাদের মহানন্দা নদী খুব বেশি দূরে নয় কিন্তু সচরাচর নদীর কূলে আমাদের যাওয়া হয় না।
আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন প্রায়ই প্রতিদিনই আমাদের বা আমরা নদী যেতাম। নদী গিয়ে খেলাধুলা করতাম সাঁতার কাটতাম। পাখিতে বাসা করতো পাখি ধরতাম তাদের ডিম গুলো সংগ্রহ করতাম বিভিন্ন খেলায় ব্যস্ত থাকতাম। ছোটবেলার স্মৃতি গুলো আজও মনে পড়তে মনটা কেমন যেন হয়ে যায়। আজকের ফটোগ্রাফি গুলো আপনাদের সামনে শেয়ার করব। আশা করি আজকের ফটোগ্রাফি আপনারাও উপভোগ করতে পারবেন।
দীর্ঘদিন পর আজ নদীর কূলে সকালবেলা যাই। নদীতে আমার পিতা বেশ কয়েকদিন যাবৎ মাছ ধরার জন্য অবস্থান করে। আমাদের এলাকায় মাছ ধরার সেই বিশেষ পদ্ধতি নাম হচ্ছে তাগঘী। এটি নদীর গভীরতায় বাস পেতে সেখানে অবস্থান করতে হয়। এই বিশেষ পদ্ধতি অবলম্বন করে অনেকেই নদীতে মাছ শিকার করে। দুইটিকে দুইটা মাস মধ্যখানে বসার জন্য বড় একটি কাঠ অথবা কলাগাছ দিয়ে মজা তৈরি করে এবং সেই মাচাতে অবস্থান করতে থাকে। এটি অন্যতম আরেকটি পদ্ধতি। এর মাধ্যমে মাছ শিকার করা হয়।
তাগঘি যে সকল উপাদান দ্বারা তৈরি করা হয় তা হল নাইলন সুতা ও বড়শী। মাছের খাবারের জন্য যেই উপাদান গুলো লাগে সেগুলো হল সরিষার খৈল, লালি, গাব ফল, বিভিন্ন ধরনের সুগন্ধি জাতীয় মসলা, লাল মাটি, ভাত, প্রভৃতির মাধ্যমে মাছের চার হিসাবে ব্যবহার করা হয়।
এই পদ্ধতিতে মাছ শিকার করে তারা বড় বড় মাছ ধরতে পারে। আমাদের এখানে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় ছোট বড় মাছ ছেলেরা পেয়ে থাকে। যে মাছগুলো ছেলেরা পায় সেই মাছের দাম গুলো অনেক হয়ে থাকে। কয়দিন আগে একটি বছর ওজন প্রায় সাড়ে সাত কেজি এ বিশেষ পদ্ধতির মাধ্যমে ধরা হয় এবং ওই একটি মাস থেকে সাত হাজার টাকা হাকা হয়। এ বিশেষ পদ্ধতিতে মাছ ধরতে অনেক ধৈর্যের পরাকাষ্ঠা দিতে হয়। সারাদিন বসে থাকার পরে কেউ মাছ পাই আবার কেউ খালি হাতে বাড়ি ফিরে আসে।
কেউ দিনের পর দিন কাটিয়ে দিচ্ছে একটি মাছ শিকার কার করতে পারছে না। আবার কেউ হয়তোবা ধৈর্য হারিয়ে মাছ শিকার করা ছেড়ে দিচ্ছে। আবার কেউ হয়তোবা প্রতিদিন ই ছোট-বড় কমবেশি মাছ শিকার করতে পারছে। যারা দুই একটি মাছ শিকার করতে পারে তাদের উৎসাহ উদ্দীপনা আরও বহুবনে বৃদ্ধি পায়। এখানে আপনারা হয়তো দেখতে পাচ্ছেন অনেক দূরে একটি নৌকা। এই নৌকাতে শিকারিরা সাজাও করে এবং সেখানে অবস্থান করে।



অভিনন্দন, আপনার পোস্ট @sereybd দ্বারা কিউরেট করা হয়েছে। Serey Bangladesh কমিউনিটিতে পোস্টটি শেয়ার করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ