ফরম পূরণের চার বছর পর পরীক্ষা

hayat90
ফরম পূরণের চার বছর পর পরীক্ষা 

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

প্রিয় পাঠক বৃন্দ! আপনারা সকলে কেমন আছেন? আশা করি আল্লাহর রহমতে সকলে খুব ভালো আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় এবং আল্লাহ তা'আলার অশেষ মেহেরবানীতে খুব ভালো আছি। আলহামদুলিল্লাহ। আজকে আপনাদের সামনে আবারো নতুন একটি বিষয় নিয়ে ফিরে আসলাম। আর তা হল "ফরম পূরণের চার বছর পর পরীক্ষা"।



কয়েকদিন পূর্বে হঠাৎ মোবাইলে একটি মেসেজ আসে সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে। সেখানে আজকে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। আমার ফোনে যখন এই মেসেজটি আসে তখন আমি কোন গুরুত্ব দেইনি। আমি মনে করেছিলাম এই মেসেজটি অন্য কারো হয়তোবা ভুল করে আমার নম্বরে চলে এসেছে।

দুইদিন পূর্বে হঠাৎ করে একজন আমার কাছে আসে অ্যাডমিট কার্ড উঠানোর জন্য আমি তাকে জিজ্ঞাসা করি কিসের এডমিট কার্ড তখন সে আমাকে জানায় সমাজসেবা অধিদপ্তরে পরীক্ষা হবে তার জন্য এডমিট কার্ড উত্তোলন করব। আমি তার কাছে জানতে চাইলাম কতদিন পূর্বে সার্কুলার হয়েছিল। তখন সে জানায় এটি ২০১৮ সালের দিকে সার্কুলার হয়েছিল এবং সে সময় ফরম পূরণ করা হয়েছে।



আমি তাকে অ্যাডমিট কার্ডটি ডাউনলোড করে প্রিন্ট কপি তার হাতে ধরিয়ে দিলাম এবং এরপর আমি আমার সেই মেসেজটি খুঁজে বের করে লগইন করে আমারটিও ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে রেখে দিয়েছিলাম। আমি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করব কিনা এই নিয়ে চিন্তাভাবনা করছিলাম। আর এ বিষয়ে তো আমার তেমন প্রস্তুতিও ছিল না। চিন্তা করলাম শেষমেষ পরীক্ষাটা দিয়েই ফেলি। আরেক বন্ধু কে নিয়ে চলে গেলাম পরীক্ষা দিতে।


আসলে চার বছর আগে ফরম পূরণ করেছি বিষয়টি ভাবতেই অবাক লাগতেছে এতদিন পরে পরীক্ষা বিষয়টি কেমন যেন হাস্যকর মনে হচ্ছে। আর হবেই না কেন দীর্ঘ চার বছর এখানে তো নয় অনেক পূর্বে। ফর্ম পূরণের কথা মনে ছিল না সে যদি আমার কাছে এডমিট কার্ড নিতে না আসতো তাহলে আমি হয়তোবা জানতে পারতাম না যে 21 তারিখে আমার সার্কুলারের একটি পরীক্ষা আছে। তো যাই হোক তার মাধ্যমে আমি শেষ মুহূর্তে হলেও জানতে পেরেছি এবং পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছি।

পরীক্ষার হল গুলোতে গিয়ে দেখলাম প্রায় প্রতিটি রুমেই পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কম। চার বছরের মধ্যে তো অনেক কিছুই হয়ে গেছে কেউ হয়তোবা পড়ালেখা থেকে ছিটকে পড়েছে অনেকেই আবার হয়তোবা দেশের মাটি ত্যাগ করে বিদেশের পাড়ি দিয়েছে কর্মজীবনে কেউ হয়তো বা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার কারণে এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি।

এই হল আমাদের বাংলাদেশের সার্কুলার এর অবস্থা যদিও আমরা বিভিন্নভাবে প্রতারিত হই তারপরও আমরা আশা নিয়ে পরীক্ষাগুলোই অংশগ্রহণ করি যদি পরীক্ষাতে টিকতে পারি আর যদি সরকারি চাকরি হয় এই চিন্তা ভাবনা নিয়েই আমরা অনেকেই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে থাকি কিন্তু যদি ফরম পূরণের চার বছর পাঁচ বছর পর পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় তাহলে কিভাবে সম্ভব। এ কারণে অনেকের স্বপ্নগুলো নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে জীবনটা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।

যাই হোক চাকরির উদ্দেশ্যেই যে সকলকে পড়ালেখা করতে হবে এমনটা নয়। পড়ালেখা শেখার পরে বিভিন্ন কাজকর্ম করা যায়। একজন ব্যক্তি যদি শিক্ষিত হয় তাহলে সেও একটি দেশের সম্পদ বলা যেতে পারে। তাকে যে সরকারি চাকরি করতেই হবে এমন কোন কথা নাই বরঞ্চ সেতার অভিজ্ঞতা টাকে কাজে লাগিয়ে জীবনে যেমন উন্নতি করতে পারে তেমনি ভাবে দেশেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।



শিক্ষা অর্জন করে যদি সে শিক্ষাকে কেন্দ্র করে কৃষিকাজ বা অন্যান্য কাজও করে তাহলেও তার খ্যাতি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়বে এবং ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় জীবন পর্যন্ত সে মর্যাদার আসনে সময় সিন হবে।

প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবশ্যই সচেতন হতে হবে যাতে করে সার্কুলারের অল্প কিছুদিনের মধ্যেই পরীক্ষা নিয়ে নিয়োগের ব্যবস্থা দ্রুত করতে পারে। কারণ দেশে বেকারত্বের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি হচ্ছে। দেশের বেকারত্বের সংখ্যা কমিয়ে আনার জন্য অবশ্যই শূন্য পদগুলোতে দ্রুত গতিতে পরিবর্তন আনা দরকার। যে প্রতিষ্ঠানগুলোতে লোকবল এর প্রয়োজন তারা যদি সঠিকভাবে দ্রুত এগিয়ে আসে তাহলে আমাদের এরকম সমস্যাগুলি দ্রুতই সমাধান হবে এই আশা আমরা সবাই রাখতে পারি।

খুন এতক্ষণ যারা আমার সাথে সময় ব্যয় করলেন তাদের সকলকেই অন্তরের অন্তস্থল থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে আজকের আলোচনা এখানে শেষ করছি পরবর্তীতে আবারও কোন আলোচনা নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হব ততক্ষণ সকলের সুস্থ থাকুন ভালো থাকুন এবং আমার জন্য সর্বদা দোয়া করুন। আল্লাহ হাফেজ।

    

Comments

sereybd

যেকোন প্রয়োজনে আমাদের ডিসকোর্ড চ্যানেলে যোগাযোগ করতে পারেন। - https://discord.gg/P4UFyjaZ

আপনার পোস্ট @sereybd দ্বারা কিউরেট করা হয়েছে। Serey Bangladesh কমিউনিটিতে পোস্টটি শেয়ার করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ

৥realsort-elyas দ্বারা ম্যানুয়ালি কিউরেট করা হয়েছে