আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর ইন্তেকালে সারা বিশ্ব শোকাহত

hayat90
আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর ইন্তেকালে সারা বিশ্ব শোকাহত

প্রিয় পাঠক আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। আপনারা সকলে কেমন আছেন আশা করি সকলেই ভালো আছেন আমিও আপনাদের দোয়ায় এবং আল্লাহ তায়ালার অশেষ মেহেরবানীতে ভালো আছি। দুঃখ ভরা ক্লান্ত হৃদয়ে আজকে আপনাদের সামনে একটি বিষয়ে আলোচনা করতে যাচ্ছি তা হচ্ছে বিশ্ববরেণ্য আলেম আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর ইন্তেকাল।


বিশ্ববরেণ্য আলেম আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী ইন্তেকালে সারা বিশ্ব আজ শোকাহত। তিনাকে কোরআনের পাখি উপাধিতে ভূষিত করা হয়। তিনি প্রায় ১২-১৩ বছর যাবত কারা ও অন্তরে ছিলেন। তিনি প্রায় ৫০ বছর ধরে ইসলামের খেদমতে জীবনটাকে অতিবাহিত করেছেন। জনসাধারণের মাঝে 50 বছর ধরে তিনি কোরআন এবং সুন্নাহর প্রচার প্রচার করে গেছেন। বিশ্ববরেণ্য আলেম আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদী মানুষের হৃদয়ে কুঠিরে এক অনন্য স্থান দখল করে আছেন।

কোরআন এবং সুন্নাহর আলোচনায় তার অসংখ্য অনুসারী তৈরি হয়। দল মত নির্বিশেষে সকলের কাছেই তিনি ছিলেন একজন প্রিয় ব্যক্তিত্ব। তিনি ছিলেন গভীর জ্ঞানের অধিকারী। ইসলাম প্রচারে তিনি ছিলেন দৃঢ়চেতা, অকুতোভয়। তিনি বাতিলের কাছে কখনো আপোষ করেননি। ইসলামের হক কথা বলার জন্য তিনাকে অনেক কষ্ট স্বীকার করতে হয়েছে।

তিনি ভীষণভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে কারা থেকে তাকে চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। দিদাকে যখন হাসপাতালে নেওয়া হয় তখন আমরা দেখেছি তার হাস্যজ্জল চেহারা। কত সুন্দর তার হাসি এত বছর কারা অন্তরে থাকার পরও তেনার মুখ দিয়ে এত সুন্দর হাসি তার ভক্তবৃন্দ বা তার অনুসারী সবাইকে মুগ্ধ করে। তেনার হাসি ছিল যেন ভুবন ভুলানো হাসি। মুখে যদিও তার মুচকি হাসি ছিল কিন্তু অন্তরে ছিল রক্তক্ষরণ। এরকম আমরা অনেকেই আছি আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হলেও আমাদের মুখে লেগে থাকে সর্বদা একটা মুচকি হাসি। ভেতরের রক্তক্ষরণ আমরা হাসি দিয়ে নিবারণ করে রাখি। এমনটি আমরা দেখেছি আমাদের বিশ্ব বরেণ্য আলেম আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী মুখে।

আমাদের বাংলাদেশের একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র আজকে ডুবে গেল অস্ত চলে গেল। আমরা হারালাম একজন জ্ঞানী এবং আল্লাহর অলিকে। আল্লাহতালার ফয়সালা কি ছিল জানিনা তবে এতটুকু আমরা জানতে পেরেছি তার মৃত্যুর পরেই নাকি একটা মাঝারি ধরনের রূপমণ সৃষ্টি হয় বাংলাদেশ। এ ব্যাপারে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ভালো জানেন। এখানে আমার মন্তব্য বৃথা যেতে পারে। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কার ইসমাকি সেটা তিনিই ভাল জানেন।

আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর ইন্তেকালে আমরা বাংলাদেশের সহ সারা বিশ্ব আজ শোকাহত। শুধু বাংলাদেশ নয় সারা বিশ্ব আজকে একজন ভালো মানের আল্লাহর ওলি কে আল্লাহর জমিন থেকে বিদায় জানানো। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাঁর একজন প্রিয় বান্দাকে দীর্ঘদিন কষ্ট ভোগ করার পর আপন করে নিলেন, কাছে ডেকে নিলেন। তিনি আজ জুলুমের কারাগার থেকে চিরদিনের জন্য মুক্ত হয়ে গেলেন। এসবই আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের ইচ্ছা।

তবে আমরা এমন একজন বিশ্ববরেণ্য বিখ্যাত আলেম বিখ্যাত দায়ীকে হারালাম এমন এক কোরআনের পাখিকে হারালাম যার কাছ থেকে আর কোনদিন আমরা কোরআন এবং হাদিসের কথাগুলো শুনতে পাবো না। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এই কোরআনের পাখিকে আপন করে নিয়ে আমাদেরকে তার বুলিগুলো সোনা থেকে বঞ্চিত করে দিলেন। আমরা সবাই একটা আশা নিয়ে ছিলাম আমরা অবশ্যই এই কোরআনের পাখি থেকে আবারও কোরআন এবং হাদিসের কথাগুলো শুনতে পাবো তিনি খাঁচা থেকে বেরিয়ে আমাদেরকে অবশ্যই আবারো কোরআন এবং হাদিসের বাণী গুলো সুন্দর কন্ঠে শুনিয়ে আমাদের হৃদয়কে শীতল করে দিবেন।

কোরআনের এই পাখিকে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন জান্নাতের সুউচ্চ মাকাম দান করুন। সকলে বলি আল্লাহুম্মা আমিন। এবং আমাদের সকলকে ধৈর্য ধারণ করার তৌফিক দান করুন। তার শোকসন্তপ্ত পরিবারকে ধৈর্য ধারণ করার তৌফিক দান করুন।


আজকের পোস্টটি পড়ার জন্য সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ।


Comments