বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
প্রিয় পাঠকবৃন্দ! আপনারা সকলে কেমন আছেন? আশা করি আল্লাহর রহমতে সকলে খুব ভালো আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় এবং আল্লাহ তা'আলার অশেষ মেহেরবানীতে খুব ভালো আছি। আলহামদুলিল্লাহ। আজকে আপনাদের সামনে আবারো নতুন একটি বিষয় নিয়ে ফিরে আসলাম। আর তা হল "আমাদের এলাকার গোরস্থান এ ফটোগ্রাফি"।
আমাদের গ্রাম ছোট্ট একটি গ্রাম। দেখতে অনেক সুন্দর। দেখতে একটি শহরের মতো মনে হয়। বাংলাদেশের মধ্যে আমাদের গ্রামের মতো এত সুন্দর একটি গ্রাম অন্য কোথাও আছে কিনা তা আমার জানা নাই। তবে আমাদের গ্রামটি অন্যান্য গ্রামের চাইতে সকল দিক দিয়েই ভিন্ন। আমাদের গ্রামের বিভিন্ন পর্যায়ে বড় বড় ব্যক্তিরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মে নিয়োজিত আছেন।
বাংলাদেশে সর্ববৃহৎ গোরস্থানের মধ্যে আমাদের গ্রামে যে গোরস্থান রয়েছে এটি দ্বিতীয় বৃহত্তম গোরস্থান। এর আয়তন প্রায় ১০০ বিঘার উপরে। বিভিন্ন ধরনের গাছ-গাছালি দিয়ে পুরো গোরস্থানটা পরিপূর্ণ হয়ে আছে। আমাদের গোরস্থানে বিভিন্ন গাছ গাছালি থাকায় গোরস্থানে বৃক্ষরোপনের দিক দিয়ে সারা বাংলাদেশে প্রথম স্থান অধিকার করে আছে। আপনাদের সামনে আমাদের গোরস্থান নিয়ে ফটোগ্রাফি তুলে ধরব।
আমাদের গোরস্থানের পাশে একটি জায়গা আছে যেখানে ঈদগাহ অবস্থিত। অত্র ঈদগাহটি গোরস্থানের অংশ। অত্র ঈদগাহে মাইয়েতের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। কয়েকদিন পূর্বে একটি মাইয়েতের নামাজে জানাজার কিছু ছবি আপনাদের সামনে প্রদর্শন করেছিলাম।
গতকালকে ঘুরতে ঘুরতে আমাদের সেই কেন্দ্রীয় গোরস্থানের ভিতরে প্রবেশ করি। এবং সেখানে প্রবেশ করার পরে ফটোগ্রাফি করে আপনাদেরকে দেখানোর উদ্দেশ্যে। এতে গোরস্থানের প্রধান ফটকের বাইরে থেকে এবং ভেতর থেকে ছবি ক্যাপচার করা হয়। গোরস্থানে প্রবেশের মুখেই বাম দিকে একটি নান্দনিক অজুখানার ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে। যেটা সকলের এই নজর কাড়বে বলে আমি মনে করি। ফটোগ্রাফিতে সেটি আপনাদেরকে দেখানো হবে ইনশাআল্লাহ।
এরপর কয়েক ধক যেতে না যেতেই চোখে পড়বে মানুষদেরকে বসানোর জন্য সুন্দর একটি আসন যেখানে বৃদ্ধ মানুষেরা এসে বিশ্রাম গ্রহণ করে। কমিটি সুন্দর একটি ব্যবস্থা তৈরি করে রেখেছেন। এমনকি যে সকল বৃদ্ধরা কবর পর্যন্ত যেতে অক্ষম বা ভিড়ের কারণে যেতে পারেনা তাদেরকে পাত্র থেকে করে মাটি এনে দেওয়া হয় এবং সেখানে বসে থেকেই তারা মাটি দেওয়ার কাজে অংশগ্রহণ করতে পারে।
তারই পশ্চিম দিকে অর্থাৎ প্রবেশ করার বামে একটি ঘর তৈরি করা আছে যেখানে মানুষ বিশ্রাম সহ রাত্রে থাকার জন্য একটি ঘর তৈরি করা আছে। আর অত্র ঘরে দুইজন খাদেম রাত্রে অবস্থান করে। একজন খাদেম এর সাথে সেখানে আমার সাক্ষাৎ হয় এবং তার সাথে ফটোগ্রাফি তুলে রাখে। পুরো গোরস্থানের ভেতরে লাইটিং করা আছে এবং সুন্দর রাস্তার ব্যবস্থা করা আছে। গোরস্থানের চতুর্দিকে ইট বালু দিয়ে বাউন্ডারি করা আছে। এই বাউন্ডারি যেমন একদিকে গোরস্থানের সৌন্দর্য বর্ধিত করেছে তেমনি বাইরের অনুপ্রবেশ কেও বাধা প্রদান করেছে।
একটা সময় ছিল যখন প্রচুর পরিমাণে শিয়াল বসবাস করত। গোরস্থানের ভেতরটা সম্পূর্ণ ক্লিন করা হয়েছে। অনেক সময় আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন দেখেছি গোরস্থানে প্রবেশ করতে অনেক ভয় লাগতো কারণ এত বেশি পরিমাণে ঝোপ-ঝঙ্গল ছিল যার কারণে কেউ প্রবেশ করতে পারত না। বর্তমানে সেই চোখ জঙ্গল পরিষ্কার করে দিয়ে শুধু বড় বড় যে কাজগুলো আছে সেগুলোই রাখা আছে। এ কারণে বর্তমানে গোরস্থানে একাই প্রবেশ করলেও তেমন একটা ভয় কাজ করে না।


