শীতকালীন সর্দি-কাশির সমস্যায় ঘরোয়া ওষুধ খান সুস্থ থাকুন
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম
প্রিয় পাঠক বৃন্দ! আপনারা সকলে কেমন আছেন? আশা করি আল্লাহর রহমতে সকলে খুব ভালো আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় এবং আল্লাহ তা'আলার অশেষ মেহেরবানীতে খুব ভালো আছি। আলহামদুলিল্লাহ। আজকে আপনাদের সামনে আবারো নতুন একটি বিষয় নিয়ে ফিরে আসলাম। আর তা হল "শীতকালীন সর্দি-কাশির সমস্যায় ঘরোয়া ওষুধ খান সুস্থ থাকুন"।
কপিরাইট মুক্ত ছবির উৎস: pexels
শীতকাল মানেই সর্দি কাশির সমস্যা। শীতের প্রথম দিকে খুসখুসে কাশির সমস্যা দেখা দেয় অনেকেরই। এ ধরনের কাশিতে থুতু বা কফ সাধারণত হয় না কিন্তু একটি অস্বস্তিকর কাশির সৃষ্টি করে। শীতকালে বিভিন্ন দূষণের মাত্রা বেশি থাকে বলে শুকনো কাশিতে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতাও বেশি দেখা যায় ফলে শুকনো কাশি থেকে খুব সহজে মুক্তি পাওয়া যায় না। বিভিন্ন দূষণের কারণে হাঁপানি, যক্ষ্মা, ফুসফুসের সংক্রমণ ইত্যাদি হয়ে থাকে এবং শুকনো কাশিও হয়ে থাকে। শুকনো কাশির সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে আমরা অনেক ধরনের মেডিসিন সেবন করি। আজ ঘরোয়া উপায়ে এর থেকে মুক্তি মিলতে টিপস সেয়ার করবো ।
কপিরাইট মুক্ত ছবির উৎস: pexels
ঘরোয়া উপায়ে করণীয়:
এলাচ:
অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরা ও জীবাণুনাশক এবং এটি খেলে গলাব্যথা এবং শুকনো কাশি ভালো হয়। সর্দি কাশি এবং ঋতু পরিবর্তনের সময় যে জ্বর হয় সেগুলো থেকে মুক্তি দিতে পারে এলাচ। এক কাপ পরিমাণ হালকা পানি অল্প মধু মিশিয়ে তাতে কয়েকটি এলাচ দিয়ে পানি ফুটিয়ে এলাচ ছেঁকে নিয়ে সেই পানি পান করুন এতে করে আপনার শুষ্ক কাশি দূর হয়ে যাবে।
মধু:
মধু অনেক উপকারী একটি বস্তু। ছোট বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এই মধু ব্যবহার করা হয়। সারাদিনে কয়েকবার মধু খেলে আপনি অনেকটা সুস্থ কাছে থেকে রক্ষা পাবেন। হালকা গরম পানি সাথে এবং চায়ের সাথে আপনি মধু খেতে পারেন। অনেকেই তুলসী পাতার রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে কাশির জন্য পান করেন এতেও ফলাফল খুব দ্রুত হয়। এটি নিজের জন্য আপনি প্রয়োগ করতে পারেন।
Free copyright: pexels
তুলসী পাতা:
গ্রাম অঞ্চলে তুলসী পাতার ব্যবহার লক্ষ্যণীয়। বিশেষ করে ছোট বাচ্চাদের ক্ষেত্রে মধুর সাথে মিশিয়ে এ তুলসী পাতার রস কাশির জন্য ব্যবহার করা হয়। বাড়িতে একটি তুলসী গাছ থাকলে ডাক্তারের কাছে কাশির জন্য যাওয়া লাগে না। প্রতিদিন যদি সকাল সন্ধ্যা আপনি তুলসী পাতা দু চারটি ছিড়ে চিবিয়ে খান তাহলে আপনি সর্দি কাশি থেকে মুক্তি পেতে পারেন এতে করে আপনার খরচ অনেকটা কমে যাবে। ঘরের ওষুধ খান সুস্থ থাকুন। অনেকেই আবার দেখা যায় তুলসী পাতা গরম পানিতে ফুটিয়ে চায়ের মত করে তা পান করেন। এতেও অনেকটা উপকার সাধিত হয়।
আদা:
আদার উপকারিতা আমরা অনেকেই জানি। চায়ের সাথে আমরা প্রায় আদা ব্যবহার করে থাকি। বিশেষ করে সবাই রং চায়ের সাথে আদা খেয়ে থাকে। গলার সুখ করার এবং শুষ্ক কাশির জন্য এই আদা অতুলনীয় কাজ করে থাকে। এটি গ্রাম বাংলার প্রায় ঘরে দেখা যায়। কাশির জন্য এটিও আপনাকে ডাক্তারের কাছে টাকা খরচের হাত থেকে বাঁচিয়ে দিবে। গরম পানির সাথে আগামী সে এবং সেই সাথে হালকা এক চিমটি লবণ মিশিয়ে সেই পানি দিয়ে আপনি কুলকুচি বা গড়গড়া করে খেতে পারেন এতে আপনার অনেক উপকার সাধিত হবে।
মসলা চা:
গ্রাম অঞ্চলের অনেক দোকানেই মসলা চা বিক্রি করে থাকে। আপনি চাইলে বাড়ি তো এটি তৈরি করে শুষ্ক কাজের জন্য খেতে পারেন এতে বিশেষ ফল পাবেন। এইজন্য নং আদা তেজপাতা গরম মসলা ইত্যাদি মিশিয়ে চায়ের সাথে খেতে পারেন। এই মিশ্রণটি আপনার জন্য অত্যন্ত ভালো হবে বিশেষ করে যাদের শুষ্ক কাশি ভালো হতে চাই না তারা যদি এটি সেবন করে তাহলে অল্প সময়ের ভিতরেই তারা শুষ্ক কাজী থেকে মুক্তি লাভ করতে পারবে।
কপিরাইট মুক্ত ছবির উৎস: pexels
পিয়াজ:
আমরা অনেকেই জানিনা পিয়াজ আমাদের জন্য একটি উপকারী বস্তু বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন ধরে শুষ্ক কাশিতে বা সর্দিতে ভুগছেন তারা পিঁয়াজের রস গরম করে তাতে হালকা লবণ দিয়ে যদি সেবন করেন তাহলে দুরবিসহ কাশি থেকে আপনি রক্ষা পাবেন। এক্ষেত্রে দেশি পিয়াজ খুব উপকারী। সর্দির ক্ষেত্রে পেঁয়াজ থেকে হোমিওপ্যাথি একটি ওষুধ তৈরি করা হয় যা সর্দিতে খুব সুন্দর ভাবে কাজ করে। সুতরাং এটিকেউ আপনি মধুর সাথে মিশিয়ে দিলে কয়েকবার সেবন করে দেখতে পারেন।
এতক্ষণ যারা আমার সাথে ছিলেন তাদের সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে আজকের আলোচনা এখানেই ইতি টানছি পরবর্তীতে আবার কোন বিষয় নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হব সে পর্যন্ত সকলে সুস্থ থাকুন ভালো থাকুন। আল্লাহ হাফেজ।



তোমার পোস্ট টা অনেক ভালো হয়ছে