মাকড়সা একটি অদ্ভুত প্রাণী"

hayat90

মাকড়সা একটি অদ্ভুত প্রাণী

আসসালামু আলাইকুম বন্ধুরা! তোমরা সকলে কেমন আছো? আশাকরি সকলেই আল্লাহর রহমতে ভালো আছো, আমিও তোমাদের দোয়ায় এবং আল্লাহর অশেষ কৃপায় খুব ভালো আছি। আজকে তোমাদের সামনে নতুন একটি বিষয় নিয়ে হাজির হলাম। আজকে একটি প্রাণী নিয়ে আলোচনা করব। আশা করি তোমরা সকলে মনোযোগ সহকারে পড়বে এবং তা আনন্দ উপভোগ করবে। 

আজকের বিষয় "মাকড়সা একটি অদ্ভুত প্রাণী"।

চলো বন্ধুরা তাহলে শুরু করি। আমাদের গ্রাম অঞ্চলে একটি ধাঁধা প্রচলিত আছে আর তা হলো আট পা ষোল হাঁটু জাল পেড়েছে ন্যাংড়া ঝাটু। এর উত্তর হলো মাকড়সা। বুঝলে বন্ধুরা। মাকড়সার আটটি পা রয়েছে এবং প্রত্যেক পায়ে দুইটি করে হাঁটু রয়েছে।

পৃথিবীতে বিভিন্ন ধরনের বা জাতের মাকড়সা রয়েছে। এরা হচ্ছে স্থলচর প্রাণী। এরা সন্ধ্যার সময় শিকার ধরার জন্য জাল বুনতে শুরু করে। এরা জাল বোনে শিকার ধরে। আবার কিছু মাকড়সা আছে যারা জাল না বুনিয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে শিকার ধরে।

 

মাকড়সা একটি অদ্ভুত প্রাণী কারণ আল্লাহ তাদেরকে এমন নৈপুণ্য শক্তি প্রদান করেছেন যার জন্য তারা সুন্দরভাবে একটি জাল বা ওয়েব বানিয়ে থাকে এবং এই জালে কোন কিছু আটকা পড়লে তারা সাথে সাথে টের পেয়ে যায়। বর্তমান বিজ্ঞানীরা যে ওয়েব তৈরি করেছে এই মাকড়সাকে অনুকরণ করেই সারাবিশ্বের নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে। এটা আমার ধারণা মাত্র। এই কারণেই নেটের দুনিয়াকে তারা ওয়েব নামকরণ করেছে।

মাকড়সা কোন প্রাণীকে যখন স্বীকার করে তখন তাকে বিষপ্রয়োগে আগে অচেতন করে ফেলে তারপর তাকে খায়।

অধিকাংশ মাকড়সার বিষগ্রন্থি থাকলেও এই বিষ সাধারণত মানুষের পক্ষে ক্ষতিকর নয়, তবে ব্যতিক্রম হলো ব্ল্যাক উইডো ও ব্রাউন রেক্লুজ মাকড়সা। প্রথমটির বিষ মানুষের স্নায়ুতন্ত্র অসাড় করে দেয় এবং দ্বিতীয়টির দংশনে দংশিত স্থানে পচন ধরে।

মাকড়সা থেকে হোমিও ওষুধ তৈরি হয় ট্যারেন্টুলা। এই ওষুধটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে হোমিও জগতে। এই ওষুধে রোগীর অদ্ভুত কিছু বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়। গান শুনলে নাচতে শুরু করে এটি হলো অন্যতম একটি লক্ষণ।

মাকড়সা রসূল সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম এর হিজরতের সময় আল্লাহর রাসূলকে নিরাপত্তা দান করেছিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম ও হযরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু যে গুহায় আশ্রয় নিয়েছিলেন সেই গুহার মুখে মাকড়সা তার জাল বুনে ছিলো এবং সেখানে এক জোড়া কবুতর ডিম পাড়ে বসে ছিল। এতে কাফির-মুশরিকরা সেখানে গিয়েও এই অবস্থা দেখে তারা সেখান থেকে ফিরে এসেছিল এবং আল্লাহ তার প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লাম এবং হযরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু কে সেই কাফির-মুশরিকদের হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন।

আজকে এখান থেকেই আমার আলোচনা শেষ করছি। পরবর্তীতে আবার কোন বিষয় নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হবো। সকলে ভালো থাকেন সুস্থ থাকেন। আল্লাহ হাফেজ।

Comments