ভাইভা পরীক্ষা

hayat90
ভাইভা পরীক্ষা

প্রিয় পাঠক বৃন্দ! আপনারা সকলে কেমন আছেন? আশা করি আল্লাহর রহমতে সকলে খুব ভালো আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় এবং আল্লাহ তা'আলার অশেষ মেহেরবানীতে খুব ভালো আছি। আলহামদুলিল্লাহ। আজকে আপনাদের সামনে আবারো নতুন একটি বিষয় নিয়ে ফিরে আসলাম। আর তা হল "ভাইভা পরীক্ষা"।

ছবি সোর্স 
পরীক্ষা মানে ভীতি, পরীক্ষা মানে আলাদা একটা টেনশন। পরীক্ষাকে ভয় পায় না এমন লোক পৃথিবীতে খুঁজে পাওয়া মুশকিল। পৃথিবীতে যত রকম কাজ আছে তার মধ্যে অন্যতম একটি ভীতিকর কাজ হল পরীক্ষা। পরীক্ষা মানেই অন্যরকম অনুভূতি ভিন্নরকম দুশ্চিন্তা। প্রত্যেকটা স্টেপ এই পরীক্ষা দিতে হয়। প্রতিটা সেকেন্ড প্রতিটা মিনিট প্রতিটা ঘন্টা প্রতিটা দিন প্রতিটি বছর আমাদেরকে পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয়।

পরীক্ষাতে সবাই কৃতকার্য হতে পারে না। পরীক্ষায় ভীতির কারণে অনেকেই সেন্সলেস হয়ে পড়ে। পরীক্ষার কথা শুনলেই অনেকের অসুস্থতা বেড়ে যায়। বর্তমান সময়ে প্রতিযোগিতা বহুবনে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিযোগিতা বেড়ে যাওয়ার কারণে পরীক্ষা অনেক হার্ড হয়ে যাচ্ছে।

আজকে রিয়েল ভাইভা দিতে গিয়েছিলাম মসজিদের জন্য। আজকাল প্রতিটি ক্ষেত্রেই পরীক্ষা দিয়ে জায়গা নিতে হয়। আজকের ভাই ভাই পরীক্ষায় তিনজন বিচারক দায়িত্ব পালন করেন। তিনজন বিচারকের মধ্যে দুইজন আমার সরাসরি শিক্ষক ছিলেন। দুইজন শিক্ষকের মধ্যে একজন শিক্ষক হলেন হেফজ বিভাগের। তিনি আমাকে কেরাতের উপরে বেশ কিছু প্রশ্ন করেন। প্রশ্নের মধ্যে সবগুলোর উত্তর যথাযথভাবে দিতে অপরাধ হয় এবং বেশিরভাগ প্রশ্নের উত্তরই সঠিক ভাবে দিতে পারি।

ছবি সোর্স 
এরপর মাদ্রাসার শিক্ষক আমাকে কয়েকটি প্রশ্ন ধরেন। তিনি যেভাবে আমাকে প্রশ্নগুলো করেন ঠিক মনে হচ্ছিল যেন বিসিএসের ভাইভা দিতে এসেছি। তিনি আমাকে প্রশ্নগুলো ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে করছিলেন। সহজ প্রশ্নগুলো কেউ তিনি পেজ দিয়ে করার কারণে যথাযথ উত্তর সবগুলোই দিতে পারি নাই। এক্ষেত্রে তিনি খুব বিচক্ষণতার সহিত প্রশ্ন করছিলেন এবং মিটমিট করে হাসছিলেন।

পরের জন্য আমাকে দুইটি প্রশ্ন করেন আরবি গ্রামার অনুযায়ী। গ্রামার তো অনেকদিন হয়ে গেল পড়া তারপরও দুইটি প্রশ্নের মধ্যে একটি প্রশ্ন উত্তর যথাযথভাবে দিতে পারি। এরকম ক্ষেত্রে যে ধরনের প্রশ্ন করেছে আসলে এতটুকু দরকার ছিল না। তবে ভাইভা পরীক্ষা তো তাদের যেখান থেকে ইচ্ছা সেখান থেকে ধরবে এটাই হল মূল কথা। সবাই তো আর গ্রামারে পারদর্শী না তবে তারা যাচাই করার জন্য একটু ভেতর থেকেই প্রশ্নগুলো করেছে যেগুলো সচরাচর সবাই জানা থাকে না।

যাইহোক ৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে একজন অনুপস্থিত ছিল আমরা বাকি চারজন ভাইভাতে অংশগ্রহণ করি। একে একে সবার ভাইভা শেষ হলে সর্বশেষ আমি ভাইভা দিতে যাই এবং আমার মাধ্যমেই ভাইভা শেষ হয়। ভাইভা শেষ করার পরে সকলেই এক জায়গাতে বসে আমরা মিষ্টিমুখ করে যে যার গন্তব্যের দিকে ফিরে আসি।

ভাইবার ফলাফল পরে আলাদাভাবে জানানো হবে কে বলে তারা আমাদেরকে বিদায় দিয়ে দেয়। পরের রেজাল্ট কিভাবে দিবে সেটা তাদের এখতিয়ার ভুক্ত। তবে ফলাফলের ক্ষেত্রে এরকম সময় না নেওয়াটাই শ্রেয় কারণ এক্ষেত্রে সবাই ভিন্ন ভিন্ন মত প্রকাশ করবে এটাই স্বাভাবিক। তবে তবে এগুলোর ক্ষেত্রে সাথে সাথে ফলাফল ঘোষণা করাই উত্তম এতে আমাদের মনের মধ্যে কোন ধরনের সন্দেহ তৈরি হতো না কিন্তু পরবর্তীতে ফলাফল ঘোষণা করা হলে প্রত্যেকের মনে যেটা আমাদের জন্য মারাত্মক ধরনের কুফল বয়ে আনে।

ছবি সোর্স 
এরকম ক্ষেত্রে মারিং কাটিং টাই বেশি হয়ে যায়। পরীক্ষার সাথে সাথে ফলাফল ঘোষণা করলে সবার জন্যই ভালো হয়। সাথে সাথে ঘোষণা করলে কার সুখের কোন ধরনের সুযোগ থাকে না। এতে সবাই একরকম স্বস্তি লাভ করেন।

এতক্ষণ যারা আমার পোস্ট ধৈর্য ও মনোযোগ এর সহিত পড়লেন তাদের সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে শেষ করছি। আল্লাহ হাফেজ।

Comments