জ্বীনের মাহফিলে মানুষের ওয়াজ করার ঘটনা!

furkan
আমার নাম আফজাল খান যখন আমার সাথে এই ঘটনাটি ঘটেছিল তখন আমার বয়স ছিল 27 বছর আমি আমাদের শহরের বিখ্যাত একটা মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেছিলাম আমার বাবা পেশায় যুক্ত হয়েছিলেন আমার বাবা একজন ধর্মানুরাগী মানুষ ছিলেন আর তাই তিনি আমাকে মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়ে দিয়েছিলেন আমি সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করার পরে মাদ্রাসায় ভর্তি হয় কোরআন তেলাওয়াত করতে আমার অনেক ভালো লাগতো তাই যখনই আমি সুযোগ পেতাম তখন খুব সুন্দর করে কোরআন তেলাওয়াত করতাম পাশাপাশি আমি একজন ভালো গায়ক ছিলাম আমি ইসলামিক হামদ নাত গাইতাম আমি জিন জাতি সম্পর্কে অনেক কিছু শুনেছিলাম আমি এটা জানতাম যে এই মাখলুক আগুনের তৈরী কিন্তু আমি এদের জীবন ও জীবিকা সম্পর্কে কিছুই জানতাম না আমি জানতাম না এরা কি খাইবা কিভাবে এদের জীবন পরিচালনা করে মাঝে মাঝে আমার কোন জিনিস সাথে সাক্ষাৎ করতে ইচ্ছে করতো কিন্তু আমি স্বপ্নেও ভাবি নি যে সত্যি সত্যিই জিনের সাথে আমার দেখা হবে কুরআন মাজিদের সূরা ঋণ রয়েছে আমি সূরা জ্বীন মুখস্ত করেছিলাম কিন্তু আমি জানতাম না যে সূরা জ্বীন আমার ইচ্ছে পূরণ করবে আমি কখনোই সুরা জিন এর উপরে আমার করিনি মাদ্রাসায় লেখাপড়া করার পরে আমি একটা 

মাদ্রাসার চাকরি নিয়েছিলাম এই মাদ্রাসা ও যথেষ্ট নামিদামি মাদ্রাসা ছিল এই মাদ্রাসার সামনে একটি মসজিদ ছিল এই মসজিদে ইমামতি করতাম আমাদের মাদ্রাসার আশপাশের এলাকা শিক্ষার্থী ছাড়ো দূর-দূরান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা করতে আসত অনেক বৃদ্ধ মানুষ ও কোরআনের তালিম নিতে আসতো আজকে জুম্মাবার আজকে আমি রাত তিনটার দিকে উঠেছি এটা ছিল সেপ্টেম্বর মাস গরম ধীরে ধীরে কমে আসছিল কিভাবে যেন আমি রাতেরবেলায় জায়গা পেয়ে গেলাম আমাকে অবশ্যই তাহাজ্জুদের জন্য উঠতেই হতো এরপর আমি মসজিদে আসলাম হোটেলে বারান্দা লাইটেস্ট চিঠি দিলাম কিন্তু আমিতো দেখে অবাক হয়ে গেলাম যে বারবার লাইটের সুইচ দেওয়ার পরেও লাইট জ্বলছে না কিন্তু কিছুক্ষণ আগেও তো লাইট অন ছিল আমি ভাবলাম হয়তো কারেন্ট চলে গেছে যাইহোক আমি মনে মনে ভাবলাম নফল নামাজ পড়তে পড়তে বিদ্যুৎ চলে আসবে এরপর আমি অজু করতে অজুখানা দিয়ে গেলাম সেখানে গিয়ে দেখলাম বাথরুমের লাইট অন ছিল আমি কিছুই বুঝতে পারছিলাম না আমি ভাবলাম হয়তো কারেন্ট চলে এসেছে যাই হোক এটা ভাবতে ভাবতে আমি অজু করে নিলাম অজু করতে আমার প্রায় দুই থেকে তিন মিনিট লেগেছিল অজু শেষ করে আমি সরাসরি মসজিদের বারান্দায় চলে আসে 

আমিতো দেখে অবাক হয়ে গেলাম যে এখনো পর্যন্ত মসজিদের বারান্দায় লাইট অন হয়নি আমি কিছু বুঝতে পারছিলাম না হালকা হালকা আলো বাথরুম থেকে আসছিল সেই আলোকে সম্বল করে আমি মসজিদের বারান্দায় জায়নামাজ বিছিয়ে দিয়ে নামাজের জন্য দাঁড়িয়ে যায় আমি কেবল মাত্র দুই রাকাত নামাজ পড়তেই লাইট জ্বলে উঠলো চারদিকে আলোয় ভরে উঠলো আমি ভাবতে থাকলাম এটা কি হচ্ছে প্রথমদিকে মসজিদের বারান্দায় লাইট জ্বলছিল না আর এখন নিজে থেকেই ঠিক হয়ে গেল আমি এটা ভেবে চুপ হয়ে গেলাম যে হয়তো কোন টেকনিক্যাল সমস্যা রয়েছে এ কিছুক্ষণ পরে আমি কোরআন নিয়ে বসে পড়লাম কোরান তেলাওয়াত আমার মনে হচ্ছিল আমার ডান দিক থেকে ঠান্ডা হাওয়া প্রবাহিত হচ্ছে আমার ডান দিকে একটা জানালা ছিল যার সামনে অনেক বড় একটা কালো পাথর ছিল আর এর পাশেই একটা বড় বটগাছ ছিল শুধু জানালা খোলা থাকতো তাহলে এই বাতাসে অবশ্যই বট গাছের পাতা ভেতরে আসতে মাদ্রাসার সকল শিক্ষক ও ছাত্র রা ফজরের নামাজের সময় উক্ত কিন্তু কেন জানিনা আজকে দেখলাম দুটো ছেলে মসজিদে চলে এসেছে আমি খেয়াল করলাম মসজিদের জানালা খোলা ছিল আমি ভাবতে থাকলাম হয়তো দুজন তাহাজ্জুদের নামাজ পড়তে উঠেছে ফজরের নামাজ শুরু 

হতে এখনও প্রায় দেড় ঘণ্টা বাকি ছিল আমি ভালো করে খেয়াল করলাম এই দুজন যুবক অপরিচিত ছিল তাদের কাপড় চোপড় ধবধবে সাদা ছিল তাদের দাড়ি অনেক লম্বা এবং কালো ছিল তারা মাদ্রাসাছাত্রদের মতোই পড়েছিল মুখী হয়ে বসেছিল তারা দুজন বারবার আমার দিকে তাকাচ্ছিল কিছুক্ষণ পরে আমি বুঝতে পারলাম এরা আমাদের মাদ্রাসার নয় এমনকি এরা কি গ্রামের নয় এরপর এসে যুবকেরা আমার কাছে তার আমাকে সালাম দিল আসসালামুয়ালাইকুম ওস্তাদ জি আমি সালামের উত্তর দিলাম ওয়ালাইকুম সালাম বাবা তোমরা কোথা থেকে এসেছো কি তোমাদের পরিচয় আমি তাদের এই প্রশ্ন করতেই তাদের মধ্য থেকে একজন ওর নাম হাসান বিন ইয়াসুফ বলল আরেক জনের নাম কালীন আমি মনে মনে ভাবলাম কালিমা আবার কেমন নাম মানুষ এর নাম কি এমন হয় নাকি এই যুবকদের চেহারা তাদের নামের মতোই অদ্ভুত রকমের ছিল আমি ভাবলাম হয়তো তারা শুধুমাত্র অর্থ ছিল না তার দাঁতগুলো মুক্তোর মতো জ্বলজ্বল করছিল তাদের চুল ঘন লম্বা এবং অনেক সুন্দর যা কিনা সাধারণ ছেলেদের থেকে একদম আলাদা ছিল তারা দুজন অসাধারণ গন্ধবিশিষ্ট সুগন্ধি লাগিয়েছিল এরপর তারা আমার কাছে বসে পড়ল তারা বলতে শুরু করল আমাদের একটা মাদ্রাসা আছে সেখানে অনেক শিক্ষার্থী 

পড়ালেখা করে বর্তমানে আমাদের মাদ্রাসায় 100 অধিক শিক্ষার্থী পড়ালেখা করে আমরা চাচ্ছিলাম আল্লাহর কোন একজন নেক বান্দা শিক্ষার্থীদের তালিম দেখতাছি আপনি যদি মেহেরবানী করে এই শিক্ষার্থীদের তালিম দিতেন তাহলে অনেক উপকার হতো আমরা সারা জীবন ধরে আপনার কাছে কৃতজ্ঞ থাকবো তাদের কথাবার্তা শুনে আমি অবাক হয়ে যাই তার আমার নাম পর্যন্ত জানতো আমি এটা ভেবে অবাক হয়ে গেলাম যে তারা কিভাবে আমার নাম জানতে পারল এরপর আমি ভাবতে থাকলাম বিভিন্ন এলাকায় আমি ওয়াজ মাহফিল করেছি আর এই জন্যই হয়তো এর আমার নাম জানতে পেরেছে তারা বলল জুম্মার দিনে তারা একটা মাহফিলের আয়োজন করেছে তারা আমাকে সেখানে কোরআন তেলাওয়াত করার জন্য দাওয়াত করল কিন্তু আমি বললাম আমি শুক্রবারে কোন দাওয়াত গ্রহণ করতে পারব না অন্য দিন হলে আমার কোন সমস্যা নেই কিন্তু সে যুবকেরা আমার কোন কথাই শুনতে চাইল না তারা বলল আপনি যদি আমাদের কথা না দেয় তাহলে আমরা এখান থেকে যাব না কি আর করার ওদের কাছে আমি হেরে গেলাম এরপর তাদের মধ্য থেকে একজন বলল আমাদের মুরুব্বীরা এখন একটা কাজে ব্যস্ত আছেন তারা এলাকায় নেই নইলে তাদের মাধ্যমে আপনাকে দাওয়াত করতাম প্রতিবছর আমরা মনুষ্য পৃথিবী 

থেকে একজনকে নিয়ে যায় এটা আমাদের অনেক ভালো লাগে এজন্য আমরা আপনাকে দাওয়াত করতে এসেছি আমার কাছে এই যুবকদের কথাবার্তা একদম অদ্ভুত লাগছিল তবে কিছুক্ষণ পরে তারা খুব জলদি করে এখান থেকে চলে গেল তারা চলে যাওয়ার পরে আমি তাদের সম্পর্কে ভাবতে থাকলাম কাউকেই আমি যুবকদের ব্যাপারে কিছুই বলিনি কারণ যেহেতু তারা মাহফিলের জন্য দাওয়াত দিয়েছে তাহলে তারা অবশ্যই মাহফিলের ব্যবস্থা করেছে পর দিন জুমার দিনের বেলা বারোটার সময় আমি তাদের জন্য অপেক্ষা করছিলাম কারন তারা আমাকে দাওয়াত করেছিল তাই তাদের এসে আমাকে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল এর কিছুক্ষণ পরে আমি দেখলাম মসজিদের বারান্দায় ডানদিকের সে জানালা থেকে একটা আলো আসছে কিছুক্ষণ পরে সেই আলো একটা সুদর্শন যুবক এলোমেলো আমি আগে কখনই এমন দৃশ্য দেখি নি তাই আমার কাছে সবকিছু একদম অদ্ভুত লাগছিল এরা যে মানুষ নয় চিন্তা এখন আর আমার বুঝতে বাকি রইল না কিন্তু আমি তাদের মাহফিলে যাওয়ার প্রতিজ্ঞা করেছিলাম এখন তো আমাকে ওয়াদা পূরণ করতেই হবে সেই যুবকদের আমার কাছে এসে মৃত হাসতে থাকলো পেছনের যুবকের হাতে একটি লাঠি ছিল না জানি কি যেন লাঠিতে লেখা ছিল সে কিছু একটা পড়তে শুরু করলো আর তখনি আমার 

চোখ বন্ধ হয়ে আসলো যখন আমি চোখ খুললাম তখনই দেখলাম আমি অসাধারণ সুন্দর একটা জায়গায় অবস্থান করছি চারদিকে উচু উচু পাহাড় অনেক বড় বড় গাছ পালা ছিল এটা ছিল অনেক বড় একটা খোলা মাঠ এই মাথার ওপরে ধবধবে সাদা আলো জ্বলজ্বল করছিল এগুলোর নিচে নামতেই মানুষের রূপ নিয়েছিল আমি জীবনে এই প্রথম এত বড় একটা দিনই মাহফিল দেখলাম তাও আবার এত সুন্দর জায়গায় সবকিছু দেখে আমার মুখ দিয়ে সুবহানাল্লাহ বের হয়ে গেল ধীরে ধীরে মানসম্পন্ন ভরে গেল চারদিকে শুধু মানুষ আর মানুষ তারা কালিমের আসার জন্য অপেক্ষা করছিল আমি মনে মনে ভাবছিলাম মানুষ যেভাবে আল্লাহর ইবাদত করে জেনে নাও কি সেভাবেই আল্লার ইবাদত করে আমি ভাবতাম জীবনে খারাপ কিছু তারা মানুষকে ভয় দেখায় মানুষের খারাপ করার চেষ্টা করে কিন্তু আজ আমি নিজের চোখে দেখলাম ঝিনেদাহ মানুষের মতো জীবন যাপন করে কিছুক্ষণ পরে আযান দেওয়া হল এরপর কেউ একজন ইমাম সাহেব হিসেবে আমার নাম ঘোষণা করল আমি সামনের দিকে এগিয়ে গেলাম কিন্তু আমার অনেক ভয় করছিল তারা এই প্রথম আমি এত বড় একটা জামাতের ইমামতি করতে চলেছিলাম আমি নামাজে ইমামতি পড়ে পেছনে ফিরে তাকিয়ে দেখি সম্পূর্ণ মাঠ মানুষ ভরে গেছে কিছু কিছু 

সাদা আলো এখনো পর্যন্ত আকাশে দেখা যাচ্ছিল সম্পূর্ণ মাঠে শুধু যুবকদের দেখা যাচ্ছিল সকলের চেহারায় ছিল নূরানী তাদের চেহারা চাঁদের মতো জ্বলজ্বল করছিল এর পর তারা আমাকে কুরআন তেলাওয়াতের জন্য অনুরোধ করলো আমি স্বপ্নার জিন থেকে তেলওয়াত শুরু করলাম আমি দেখলাম সবাই খুব মনযোগ দিয়ে আমার তেলোয়াত শুনছে সম্পূর্ণ মাঠ কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে গেল এখনো অনেক গুলো আলো মাটির উপরে দেখা যাচ্ছিল মাহফিলে বৃদ্ধ-যুব-শিশু সহ সবাই উপস্থিত ছিল যখনই কোন সাদা আলো আকাশ থেকে নেমে আসত তখন সে অসাধারণ সুন্দর একটা যুবকের উপনীত এরপর তাদের মোবারক জানানো হচ্ছিল তাদের মাথায় সাদা কাপড় বেঁধে দেওয়া হচ্ছিল এরপর তাদের একটা করে কুরআন দেয়া হচ্ছিল সকল কে এমন অবস্থায় দেখে হৃদয় প্রশান্তি মিল ছিল আমার তেলোয়াত শেষে বুজুর্গ ব্যক্তি দাও আমার সঙ্গে দেখা করতে আসলে বুঝতে পারলাম তার আমার আগমনী অনেক খুশি হয়েছেন এরপর দেখলাম একজন বুজুর্গ আমার কাছে আসলেন এরপর তিনি আমাকে সালাম দিয়ে বসার জন্য অনুরোধ করলেন বুজুর্গ ব্যক্তি কে আরবি ভাষায় কথা বলছিলেন আমিরপুর সবার উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেওয়া শুরু করলাম মাহফিল শেষে তারা আমার শুকরিয়া আদায় করলেন 

এরপর জৈব যৌগ আমাকে বসতে বলেছিলেন তার হাতে একটা উপহার দেখতে পেলাম সেকারিটি কুরআন শরীফ ছিল যা কিনা স্বর্ণের কালি দিয়ে লেখা ছিল আর এই জন্য কোরআন শরীফ টা অনেক আকর্ষণীয় দেখাচ্ছিলো সেই বুজুর্গ আরবি ভাষায় আমার সামনে কিছু একটা পড়লেন তিনি অনেক মূল্যবান পাথরের তৈরি একটা তাসবিহ আরবি আয়াত লেখা একটা কাঠের লাঠি আমাকে দিলেন এরপর তিনি আমাকে বিদায় জানালেন যে যুবকটি আমাকে এখানে নিয়ে এসেছিল সেই যুবককে আমার কাছে আসলো একটা খোলা মাঠে নিয়ে গেল এরপর না জানি সে কিছুটা পড়ল সাথে সাথে আমার চারিদিকে অন্ধকারে পরিপূর্ণ হয়ে গেল যখন আমি আলো দেখতে পেলাম তখন আমি বুঝতে পারলাম আমি মসজিদের জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আছে আমার মনে হচ্ছিল আমি কোন একটা স্বপ্ন দেখেছি কিন্তু এটা স্বপ্ন নয় সত্যি ছিল এরপর কয়েকজন মানুষ আমাকে দেখে বলল হুজুর আপনি হঠাৎ করে এখানে কিভাবে এসেছেন আপনাকে অনেক অস্থির দেখাচ্ছে কেন আসলে তারা তো জানেনা আমার সাথে কি হয়েছে আজব ঘটনা আমি ভুলতে পারিনা আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করতে থাকি এই বলে যে হে আল্লাহ আমাকে আরো এমন মাহফিলে শামিল হওয়ার তৌফিক দান করুন 

Comments

mdrasel442
আসসালামু আলাইকুম আশা করি ভাল আছেন ভাই আপনার গল্পটা পড়ে খুবই ভালো লাগলো আসলে কি ভাই জিনেদের মিলাদ মাহফিলে মানুষ যেতে পারে বা মানুষের মিলাদ মাহফিলে কি আসতে পারে সেটা আমার জানা ছিল না আর গল্পটা কি আসলেই সত্যি কারের