জ্বীন টা প্রতিদিন আমার ব্লাউজ খুলে।
-কি বলিস?।
অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি। আমিও বিশ্বাস করতাম না।কিছুদিন যাবার পর নিশ্চিত হয়ে গেছি।
ব্লাউজ খুলে কি করে সে? জানিনা। তবে আমার বুকে আমি স্পষ্ট কারো ছোয়া পাই।
-যেমন?
মনে হয় কেউ আমার স্তন ভোগ করে নিচ্ছে।
-কোনো কবিরাজ দেখাসনি?
-না। তোকেই বল্লাম আমি।
পরশু আমার গায়ে হলুদ।
পরেরদিন বিয়ে।
স্বামীর কাছে কিভাবে মুখ দেখাব আমি। বা ওনার কাছে কিভাবে শিয়ার করব সেটাই ভাবছি।
-তোর ফ্যামিলি কে জানাতে পারিস।
আবার কি ঝামেলা হয় সেই ভয়ে জানাচ্ছি না
তুই তো জানিস রিয়াজ কে আমি গত ৫ বছর যাবৎ ভালবেসে এসেছি ভাগ্য আমার সহায়ক হয়েছে বলে ওর সাথে আমার বিয়ে হচ্ছে।
এখন বিয়ের আগে এসব নিয়ে মাতামাতি করলে যদি বিয়ে ভেঙ্গে যায়? কিন্তু তোর মনে হচ্ছে না? যে তুই রিয়াজ কে ঠকাচ্ছিস। জানিনা তবে রিয়াজকে ছাড়া আমার বেচে থাকার ইচ্ছে নেই
যা ভাল বুজিস। যাই হোক আমি যাচ্ছি রে। কলেজে এটাই তোর সাথে আমার শেষ দেখা।বিয়ের পর তো আর আসবি না।একেবারে তোর গায়ে হলুদে আসব।
হুম। ধনিয়া পাডার মেয়ে তাজকিয়া গত দুই মাস ধরে রাতের বেলা অসস্তি অশান্তি সহ্য করে আসছি। কোন এক জ্বীন তার ব্রা খুলে অশ্লীলতায় মেতে উঠে।তাজকিয়া অনুভব করে। কিন্তু চোখে দেখে না। বিষয়টি সবাইকে বলবে সেই মুখটাও নেই। বিয়ে ভাঙার ভয়ে সে আত্মগোপন করে রেখেছে সব।কিন্তু কে এই রিয়াজ?তাসকিয়াদের বাসার পাশেই রিয়াজদের বাসা।পাশাপাশি থাকায় প্রতিদিন তাদের দেখাটা হয়ে যেতো। রিয়াজ প্রতিদিন বাসার ছাদে ব্যায়াম করার জন্য আসতো। ার তাজকিয়া চা খাওয়ার বাহানায় ছাদে এসে রিয়াজকে দেখত। এই ঘটনা গত পাঁচ বছর ধরে ঘটে আসছে। তাজকিয়া রিয়াজকে কয়েকবার চিটিও পাটায় কিন্তু রিয়াজের হাতে কোনো চিটি পৌছায়নি রিয়াজের ছোট ভাই রাজু সব চিটি তার মায়ের হাতে দিত। রিযাজের মা ব্যাপারটা তাজকিয়ার মায়ের কাছে শিয়ার করে। ফ্যামিলি গতভাবে তাদের বিয়ে টিক হয়। সব টিকটাক ছিল তবে গত দুমাস ধরে তাজকিয়ার সাথে। কিছু অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটে আসছে। শিরোনামে এইটুকু ছিল চলুন এবার পরের ঘটনা জেনে আসি।কলেজ থেকে একরাশ দুশ্চিন্তা নিয়ে বাসায় পিরছিল তাজকিয়া। কড়া রৌদের প্রভাবে কপাল বেয়ে ঘাম প্রভাবিত হচ্ছে। সে দিকে কোনো খিয়াল নেই তার। তাজকিয়ার মস শুদু এই জ্বীনের ব্যাপার নিয়ে। কি হবে তার সাথে বা কি হতে যাচ্ছে তার সাথে। তয়েকদিন পর তার বিয়ে। না চায় সে বিয়ে ভাঙ্গুক না চায় রিয়াজকে ঠকাতে। করনীয় কাজটা তার সাধ্যের বাহিরে।বলতে গেলে কোনো সমধান খোজেপাচ্ছিল না সে । বাসায় পিরে ব্যাগটা টেবিলের উপর রাখে সে। ওর মা এসে বল্ল।
- কিরে এত ধেরি হল কেন তোর?তোকে বলছিলাম আজ তোর বিয়ের কেনাকাটা করতে যাব। সরি মা। মনে ছিল না। তাজকিয়া কোনো কথা না বাডিয়ে রুমে চলে গেল। দরজা বন্ধ করে আয়নার সামনে দাড়ায় আয়নায় নিজের চেহারা দেখে নিজেই কান্না করতে লাগল। তখন সে একটা খটখট শব্দ শুনতে পেল। তাজকিয়া ভয়ে জানালার দিকে তাকায়। হঠাৎ ধাপস করে কিছু পড়ার শব্দ শুনতে পায়। তাজকিয়া ভাবে জ্বীন টা দিনের বেলাও এসে যায়নি তো? হঠাৎ তাজকিয়া দেকে জানালা বেয়ে রিয়াজ তার ঘরে প্রবেশ করতেছে যা দেখে তাজকিয়া হতভম্ব হয়ে যাই বলতে গেলে একেবারে অবিশ্বাস্য। রিয়াজ তাজকিয়াকে কোলে নিল তারপর বিছানায় পেলে তারউপর চডে বসল। রিয়াজে প্রথম স্পশ, প্রথম নিশ্বাসের তাপ, প্রথম গায়ের গন্ধে যেখানে তাজকিয়া উত্তেজিত হওয়ার সেখানে সে হতবাগ হয়ে তাকিয়ে আছে। কি হল রিয়াজের। রিয়াজ তার কানে কানে বলতে লাগল কেমন হল আমার প্রিয় সুন্দরী বউ।এরকম সারপ্রাইজ হয়ত আশা করোনি? আগে উপর থেকে নামো। -নামব না যা বলার এখানেই বল।
- -তুমি এইভাবে এসোছো কেন,কেউ দেখে পেল্লে? কি হবে?
- -কি হবে জানো না?খারাপ বলবে সবাই বিয়ের আগেই?
- তাতে বিয়ে ভাঙ্গবে। ভাঙ্গতে দাও রিয়াজের সাথে তোর বিয়ে হতে দিব না আমি। হুট করে লাপিয়ে উঠে তাজকিয়া। রুমের কোথাও রিয়াজ নেই। তাজকিয়া বুকের দিকে তাকিয়ে দেখে আবারো ব্রা খোলা। এবার বুজতে বাকি রইল না এটা জ্বীন। তাজকিয়া আবারো কাঁদতে লাগল। এবার হয়ত রিয়াজকে সে একে বারের জন্য হারাতে বসছে। এমন সময় দরজার বাহির থেকে তাজকিয়ার মা ডেকে বল্ল কিরে তুই এখনও রেডি হসনি আমরা সবাই তোর অপেক্ষায় আছি। তাজকিয়া আম্মুর ডাকে বলে জ্বৃি আসছি মা।
- অসহায় তাজকিয়ার দিন এভাবেই কাটতে থাকে। তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে সে মার্কেটে যায়। কত স্বপ্ন ছিল বিয়ের কেনাকাটা টা আনন্দের সাথে করবে। সেখানে মন মরা হয়ে আছে তাজকিয়া সময় যত ঘনিয়ে আসছে তাজকিয়ার ভয় তত বেশি বাডতে থাকে। হয়রানির মাঝে কেনাকাটা শেষ করে মার্কেট থেকে ফিরে আসে তাজকিয়া। রাত ১০ টা বাজে। তাজকিয়া জানে একটু পরেই সেই জ্বীন আসবে। আবার তার অশালীন তান্ডব চালাবে। প্রতিদিনের মত আজও তার পুরো শরির ব্যাথা হয়ে যাবে। ভয়ে ঘুমাচ্ছে না তাজকিয়া। বিছানায় বসে অনমনা হয়ে ভাবছে সে।সে এক গভির ভাবনা। কিছুক্ষণ বাদেই তাজকিয়ার চোখ ঝাপসা হতে লাগল। তাজকিয়া হাপিয়ে উঠে। বুজতে বাকী নেই জ্বীন চলে এসেছে। তাজকিয়া দরজার দিকে এগিয়ে আসতে চাই। সে পালাতে চাই। আর সয্য হয় না তার এই অশরির অত্যচার। কিন্তু চোখ ঝাপসা হওয়ায় দরজা খোজে পাচ্ছে না সে। হেলে ঢুলে পডে যাচ্ছে সে। তখনি হুট করে ফ্লোরে পডে যায় তাজকিয়া। চোখ ঝাপসা হলেও সব অনুভাব করছে সে । তখনি সে অনুভাব করতে লাগল তার পিঠের নিচে কেউ হাত ডুকায়। তাজকিয়া চটপট করতে থাকে। অদৃশ্য হাতটি তাজকিয়াকে তুলে নিয়ে কোলে নেয়। এর পর বিছানার দিকে নিয়ে পেলে দেয় তাজকিয়া কে। তাজকিয়া ঝাপসা চোখ নিয়ে চটপট করছে আর চারদিকে দেখার চেষ্টায় আছে। এবং সেই মুহুর্তে তাজকিয়ার চোখে নতুন কোনো ঘটনা আটকে যায়।অনেক লম্বা কিছু একটা তাজকিয়ার পায়ের পাশে দাডিয়ে আছে।পুরো শরির কুচকুচে কালো। তার দেহ অনেক মোটা কিন্তু মাথা একেবারে ছোট। ঝাপসা চোখে এর চেয়ে ভাল আইডিয়া করতে পারেনি। যা দেখছে তাতেই জ্ঞান হারায় তাজকিয়া। রোদের আলো মুখে পডতেই লাপিয়ে উঠে তাজকিয়া। অনেক ঘাবডে আছে সে।তডিঘডি করে বিছানায় বসে পডে। নিচের দিকে তাকিয়ে দেখে আজও শরিরের কাপড নেই তার।গেন্জি বিছানায় সাথে ব্রা। ভেঙে পড়ে সে।এইভাবে আর নিতে পারছে না। কি করবে কিছুই ভেবে পাচ্ছে না। ক্লান্ত মস্তিষ্ক নিয়ে আবার শুয়ে পড়ে সে।কাল তাসকিয়ার গায়ে হলুদ মেহমানে বরপুর বাসা। বাসার চারপাশে আলোকসজ্জা আর বিয়ের স্টেজ তৈরি হচ্ছে। রিয়াজদের বিল্ডিংয়েও সেম অবস্তা।ব্যালকনিতে দাডিয়ে সব দেখছে তাজকিয়া। এইদিনটার জন্য গত ৫ বছর ধরে অপেক্ষায় আছে তাজকিয়া। আজ সেই দিন চলে এল। কিন্তু খুশিটা আর রইল না। মন খারাপের দেশে ঢুবে থাকে সে। তাজকিয়া কনফিউজড হয়ে আছে।বিয়ের পর রিয়াজের রুপ ধারণ করে সেই জ্বীন সহবাস না করে বসে। যদি বিয়ের পিডিতে রিয়াজের বদলে কবুল বলে? জ্বীন টা ইচ্ছে করলে অনেক আগেই সহবাস করতে পারত কিন্তু করেনি। কেন করেনি তা হয়ত তাজকিয়ার কাছে একটা রহস্যের গোলকধাঁধা।তবে যে কোনো মুহুর্তে যা কিছু হতে পারে। তবে জ্বীন তো হুমকি দিয়েই গেল রিয়াজের সাথে বিয়ে হতে দিবে না।তাজকিয়ার মাথায় কিছুই ঢুকছে না। ভাবতে না পেরে সে ব্যালকনি থেকে নিজের রুমে চলে আসে। মেহমানদের সময় দিতে দিতে দিনটা চলে যায়।তাজকিয়া সিদ্ধান্ত নেয় বিষয়টা রিয়াজকে বলে দিবে। যদিও বিযের আগে ওদের ফোন আলাপে জন্য বলা হয়েছে। কিন্তু রিয়াজ নিষেধ করে দেয়।কেন করছে সে জানে। এই মুহুর্তে তাজকিয়ার মনে হল রিয়াজকে ব্যাপারটা বলা জরুরী। কারণ সে চাইনা রিয়াজকে ঠকাতে। বিয়ে আগে ছেড়ে চলে গেলে হয়ত নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবে। কিন্তু বিয়ের পর ছেড়ে দিলে তাজকিয়ার সাথে তার ফ্যামিলিও ভেঙ্গে পড়বে।অব শেষে তাজকিয়া সিদ্ধান্ত নিল রিয়াজকে বিষয়টা বলবেই
- চলবে..................... লাইক কমেন্ট করে সাথেই থাকুন

