শ্রীকোট অভিযান

A
arif567
 শ্রীকোট ও ফুলড়ার অভিযানঃ অতঃপর কাশ্মীরের পথ পরিষ্কার করার জন্য মুজাহিদরা শ্রীকোট ও ফুলড়ায় অভিযান করে। তারা শাহকোট দুর্গ অধিকার করে নেয়। পায়েন্দা খান তখন বারুচী নামক স্থানে অবস্থান করছিল। শাহকোর্টের পলায়নপর সৈন্যরা তাকে গিয়ে জানায় যে, মুজাহিদরা শেরগড় দুর্গ দখল করে নেওয়ার সমূহ আশংকা রয়েছে। সুতরাং সে শেরগড়ের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়ে গেলে সে অঞ্চল বিনা যুদ্ধে মুজাহিদদের দখলে চলে আসে। এ পর্যায়ে এসে তার শক্তি একেবারে নিঃশেষ। হয়ে যায়। ফলে সে মহারাজ রঞ্জিৎ সিংহের জায়গীরদার হরিসিং- এর শরনাপন্ন হয় এবং তার নিকট সাহায্যের আবেদন জানায়। কিন্তু হরিসিং তাকে বিশ্বাস ঘাতক বলে আখ্যা দেয়। এমতাবস্থায় আপন পুত্র জাহান্দারকে হরিসিং- এর নিকট জমিন রেখে সে তাকে নিজের দলে আনে। সাইয়্যিদ আহমদ রাহ. শাহকোর্টের বন্দোবস্ত করে সৈন্যবাহিনী নিয়ে ফুলড়ার ময়দানে তাবু ফেলে দীর্ঘ দিন তারা সেখানে অবস্থান করেন। হাযারার যে পথে শিখদের আগমনের সম্ভাবনা ছিল সে পথে কড়া পাহারা মোতায়েন করা হয়। লোক মুখে প্রায়ই শুনা যেত যে, আজ আক্রমণ হবে, কিন্তু হতনা। এভাবে হতে হতে মুজাহিদরা বিষয়টিকে নিছক গুজব মনে করে এবং তারা অসতর্ক হয়ে যায়। ইতিমধ্যে এক দিন মুজাহিদরা ফজরের নামাযের আয়োজনে ব্যস্ত থাকাকালে অতর্কিত আক্রমণ হয়। অসতর্কতার মুহুর্তে এরূপ অতর্কিত আক্রমণের ফলে মুজাহিদ বাহিনী ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এ অবস্থায় যুদ্ধ চলতে থাকে, বিজয় শিখদের অনুকূলে চলে যায় এবং বহু মুজাহিদ শহীদ হয়। একদল মুজাহিদ এ সময় পার্শ্ববর্তী পাহাড়ে গিয়ে আশ্রয় নেয়। তারা পাহাড়ের উপর থেকে শিখদের উপর অবিরাম গুলি বর্ষণ করতে থাকে। ফলে শিখরা অতিষ্ঠ হয়ে ময়দান ছেড়ে পলায়ন করে। এ যুদ্ধে বহু মুজাহিদ অত্যন্ত বীরত্বের পরিচয় দেন।

Comments