SOURCE
মীরজাফরদের বিশ্বাস ঘাতকতার ফলে নবাবের বাহিনী শোচনীয়ভাবে পরাজয় বরণ করে। ফলে সারা বাংলায় ইংরেজদের আধিপত্য সৃষ্টি হয়।
পলাশীর যুদ্ধের পর গোপন চুক্তি অনুযায়ী মীরজাফরকে ক্ষমতায় বসানো হয়। কিন্তু সে ইংরেজদের চুক্তি পুরোপুরি পালন করতে ব্যর্থ হলে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে মীর কাশিমকে বাংলার মসনদে বসানো হয়। কিন্তু মীর কাশিম ছিলেন। স্বাধীন চেতা মানুষ। ইংরেজদের অধীনতা তিনি সহ্য করতে না পারায় তাদের সাথে সংঘর্ষ বাধে।
অবশেষে মীর কাশিম ইংরেজদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন এবং বাংলার মসনদ পুনরুদ্ধার কল্পে মোঘল সম্রাট শাহ আলমের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করেন। অতপর তিনি অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা ও মোঘল সম্রাট শাহ আলমকে সঙ্গে নিয়ে এক মৈত্রীজোট গঠন করেন। এই ত্রিপক্ষীয় যুক্ত বাহিনী ১৭৬৪ সালের ২২শে অক্টোবর ইংরেজ সেনাপতি মেজর হেক্টর মূলরোর বিরুদ্ধে বক্সারের যুদ্ধে মুখোমুখি হয়।
যুদ্ধে সম্মিলিত বাহিনী শোচনীয়ভাবে পরাজয় বরণ করে। মীর কাশিম পালিয়ে নিরুদ্ধেশ হন এবং সম্রাট শাহ আলম গোলামী চুক্তিতে স্বাক্ষর করে দিল্লীতে ফিরে যান। এ সন্ধি অনুসারে দিল্লীর লাল কেল্লা ও তৎপার্শ্ববর্তী কিছু অঞ্চল ব্যতীত অবশিষ্ট মোঘল সম্রাজ্য ইংরেজদের দখলে চলে যায়।
সম্রাট শাহ আলমের সন্ধি চুক্তিতে আবদ্ধ হওয়ার ফলে গোটা উপমহাদেশের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজশক্তিসমূহ দু'টি শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়ে। ইংরেজ পক্ষ অবলম্বনকারী নতজানু সম্প্রদায়। যেমন, দিল্লীর সম্রাট শাহ
আলম, অযোধ্যার নবাব শুজাউদ্দৌলা, হায়দারাবাদের নবাব নিযাম, শিখ শক্তি প্রভৃতি। স্বাধীতাকামী শক্তি। যেমন রোহিলা খণ্ডের পাঠান রাজন্যবর্গ, মহীশুরের
সুলতান ফতেহ আলী টিপু, মারাঠাদের বিভিন্ন দল প্রভৃতি। স্বাধীনতাকামী শক্তিগুলোকে অবদমিত করার জন্য ইংরেজরা যেসব কুট- কৌশলের অশ্রয় নেয় এবং ঘৃন্যনীতি অবলম্বন করে তা ছিল নিরূপ
পরস্পরের উস্কে দেয়ার নীতি স্বাধীনতাকামী শক্তিসমূহকে দুর্বল করে ফেলার জন্য ইংরেজরা সর্বপ্রথম দেশীয় রাজন্যবর্গের মাঝে পারস্পরিক বিদ্বেষ সৃষ্টির প্রয়াস চালায়। এই চাল প্রয়োগ করে রোহীলা খণ্ডের স্বাধীনতাকামী শক্তিবর্গের বিরুদ্ধে অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলাকে উস্কে দেয়।
ফলে সুজাউদ্দৌলা ১৭৭৪ খ্রীষ্টাব্দে ইংরেজ বাহিনীর সহায়তায় রোহিলা নেতা হাফেজ রহমত খানের বিরুদ্ধে মীরণপুর কাটারার যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। যুদ্ধে রহমত খান পরাজিত ও নিহত হলে রোহিলাদের পতন ঘটে। এ ছাড়াও ধর্মে ধর্মে বিদ্বেষ উস্কে দিয়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাঁধিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ঘোলাটে করে রাখা ছিল তাদের শাসননীতির এক অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

