Photo Source By
দারুল উলুমের মুফতী ছিলেন মুফতী মুহাম্মদ শফী রাহ.। তিনি কংগ্রেসে যোগদানকে হারাম ঘোষণা করেন এবং "বিকায়াতুল মুসলেমীন মিন বিলায়াতিল মুশরেকীন' নামে একটি ফতওয়া প্রকাশ করেন। এই ফতওয়ার সমর্থনে স্বাক্ষর করেন মুফতি জামিল আহমদ, খাদেমে দারুল ইফতা, খানকায়ে আশরাফিয়া, থানাভবন ও মাও. জাফর আহমদ থানভী রাহ.। এ ফতওয়া সারাদেশে আনাচে কানাচে প্রচার করা হয়
পাকিস্তান সমর্থক উলামায়ে কিরামের উদ্যোগে ১৯৪৫ সালের ২০-২৯ শে অক্টোবরে কলকাতার মুহাম্মদ আলী পার্কে মাও. আযাদ সুবহানীর সভাপতিত্বে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় পাকিস্তান সমর্থক আলেমদের সমন্বয়ে ‘জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম' নামে একটি ভিন্ন রাজনৈতিক দল গঠন করা হয়। ফলে উলামায়ে দেওবন্দ দু'টি বিপরীতমুখী চিন্তার ভিত্তিতে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েন।
এক দলের চিন্তা ভাবনা ছিল, মুসলমানদের জন্য বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি পৃথক আবাসভূমি একান্ত প্রয়োজন, যেখানে যাবতীয় রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম ইসলামী শরিয়তের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে এবং সেই ভূ-খন্ডকে কেন্দ্ৰ করে ক্রমান্বয়ে গোটা ভারতবর্ষে ইসলামী শাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। আর অন্য দলের চিন্তা ভাবনা ছিল যে, মুসলামনরা সংখ্যাগরিষ্ঠ না হয়েও এদেশের ক্ষমতায় টিকে ছিল প্রায় সাতশত বৎসর। ইতিমধ্যে মুসলমানরা এদেশে তাদের আদর্শিক প্রভাব বিস্তারে যথেষ্ট অগ্রসর হয়ে গিয়েছিল। ইংরেজ বেনিয়ারাই তাদের এই ক্রমাগ্রগতির পথে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুতরাং এদেরকে উৎখাত করতে পারলে মুসলমানরা আবার তাদের পূর্ব অবস্থানে ফিরে যেত সক্ষম হবে।
তাঁছাড়া এই বৃহত্তর সাম্রাজ্য (যা ইংরেজরা যে কোনভাবেই গড়ে তুলেছিল) অখণ্ড থাকলে আন্তবিশ্বে ভারত একটি পরাশক্তি হয়ে টিকে থাকতে সক্ষম হবে। ফলে আন্তর্জাতিক আগ্রাসন ও বহিঃশক্তির অনুপ্রবেশ থেকে এদেশ আত্মরক্ষা করতে সক্ষম হবে। সুতরাং ইংরেজ বিতাড়নের প্রশ্নে সমগ্র ভারতবাসীকে ঐক্যসূত্রে গ্রথিত হতে হবে। অন্যথায় চেপে বসা এই জগদ্বল পাথরকে সরানো সম্ভব হবে না। তাই এ দল সর্বভারতীয় ঐক্যের প্রয়োজন অনুভব করেন তীব্রভাবে।
দু-দলই আপন আপন চিন্তা ধারার কথা সমাজের মানুষের কাছে তুলে ধরার জন্য জোর তৎপরতা শুরু করেন। জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের আলেমরা মানুষকে একথা জোরেসোরে বুঝাতে থাকেন যে, গুটি কতক অঞ্চল নিয়ে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হলে, অবশিষ্ট অঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মুসলমানদের ভবিষ্যৎ দুদর্শা চরমে গিয়ে পৌঁছবে এবং গোটা ভারত জুড়ে দীর্ঘ দিনে গড়ে উঠা মুসলিম ঐতিহ্য।

