Photo Source By
সকল ভারতীয় মিলে সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়া উচি তিনি আরো বনে, বর্তমান ভারতবর্ষের রাজনৈতিক অবস্থার প্রেক্ষিতে 'আমরা ভারতবাসী' এই ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হওয়া সময়ের একান্ত নিখুঁত ইসলামী শাসনের পরিবেশ গড়ে না উঠে পর্যন্ত বিদেশীদের অধীনতা মেনে নেওয়ার চাইতে স্বদেশী সকল ধর্মাবলম্বীদের সাথে মিলে মিশে সম্মিলিত শাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলাই উত্তম হবে। পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে এহেন পদক্ষেপ শরীয়তের লক্ষ্য উদ্দেশ্যের পথে অগ্রসর হওয়ার জন্য পূর্ব প্রস্তুতিমূলক অত্যাবশকীয় পদক্ষেপ হিসাবে বিবেচিত হওয়ার দাবী রাখে।
কিন্তু এই বক্তৃতাকে সম্বল করে মুসলিম লীগ সমর্থক পত্রিকা 'আল-আমান শিল্পী- পর দিন ফার্স্ট হেডিংয়ে বড় অক্ষরে এই বিভ্রান্তিমূলক রিপোর্ট করে বসে যে, মাও, হুসাইন আহমদ মদনী বলেছেন যে, 'জাতীয়তার ভিত্তি ভৌগোলিক অঞ্চল, জাতীয়তার ভিত্তি নয়। আর যায় কোথায়, সারা দেশে এই রিপোর্টের ভিত্তিতে তুলকালাম কাণ্ড ঘটে যায়।
মুসলিম লীগ সমর্থক পত্রিকাগুলো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসাবে এর উপর আলোচনা পর্যালোচনা এমনভাবে শুরু করে যে, এটি সময়ের সবচেয়ে মুখ্য বিষয়ে পরিণত হয়। হতে হতে বিষয়টি এই পর্যন্ত গড়ায় যে, হযরত মদনীকে কাফের বলে ফতওয়া দেওয়া হয়। এমন কি ইকবালের মত পণ্ডিত ব্যক্তিও হযরত মদনীকে ব্যাঙ্গ বিদ্রূপ করে তিনটি কবিতা পর্যন্ত লিখে ফেলে। এসব প্রচারণার ফলে সারাদেশের জন-মানসে হযরত মদনীর ব্যাপারে মারাত্মক বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
হযরত মদনী পত্র-পত্রিকায় তাঁর এ বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেন। অবশ্য 'তেজ' "আনসারী' ও 'ইহসান' প্রভৃতি পত্রিকা তাঁর বক্তব্য পূর্বেই হুবহু ছেপে প্রকাশ করে। কিন্তু প্রচারণার বদৌলতে পরিস্থিতি এতটাই নাজুক হয়ে যায় যে, হযরত মদনী জাতীয়তা সম্পর্কে তার দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাখ্যা করে 'মুত্তাহাদা কাওমিয়াত আওর ইসলাম' নামে একটি পুস্তিকা লিখে তা প্রকাশ করার প্রয়োজন মনে করেন।
তিনি সে পুস্তকে বলেছেন যে, রাসূল সা. মদীনায় হিজরত করার পর মদীনার হিফাজতের জন্য বিভিন্ন ধর্মাবম্বী সম্প্রদায়ের সমন্বয়ে যে সম্মিলিত ঐক্য গড়ে তুলে ছিলেন আমরা সম্মিলিত জাতি বলে সে ধরনের কাঠামোকেই বুঝিয়েছি।
এছাড়াও বিভিন্ন সভা সমাবেশে তিনি তাঁর এই বক্তব্যের তাৎপর্য্য ব্যাখ্যা করেছেন- যাতে প্রচারণা দ্বারা মানুষ বিভ্রান্ত না হয়। জৈনপুরে অনুষ্ঠিত জমিয়তের বার্ষিক অধিবেশনেও তিনি বিষয়টিকে আরো অধিকতর ব্যাখ্যা করে সুস্পষ্ট করে দিয়েছেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও জমিয়তে উলামার ভূমিকা ঃ ১৯৩৯ সালের ১লা সেপ্টেম্বর হিটলারের নেতৃত্বে জার্মানী সৈন্যরা পোল্যান্ড আক্রমণ এরই প্রেক্ষিতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা হয়। এ সময় জার্মান সৈনারা বৃটেন ও তার মিত্রশক্তিগুলোর বিরুদ্ধেও যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।

