ইনকার ২

A
arif567


 হাদীস অবশ্য অনুসরণীয় ছিল বটে, কিন্তু তা যথাযথভাবে সংরক্ষিত হয়নি বলে (কেননা হিজরী তৃতীয় শতকে সেগুলো সংকলিত হয়েছে) সেগুলোর নির্ভরযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হয়ে গেছে। তাই বর্তমানে এগুলো অবশ্য অনুসরণীয় হওয়ার মর্যাদা হারিয়ে ফেলেছে।


Source 

 আর একদল প্রবৃত্তির পূজারী হাদীসকে শরীয়তের প্রামাণিক ভিত্তি মনে করে বটে তবে শরীয়তের বিধি-বিধানের ব্যাপারে তাদের নিজস্ব কিছু থিউরী থাকে। এদের অধিকাংশই শরীয়ত সম্পর্কে গভীরজ্ঞান রাখেনা। যৎসামান্য লেখাপড়া করেই শরীয়তের বিধি-বিধানের ব্যাপারে নিজেকে মুজতাহিদ ভাবতে শুরু করে। ফলে পারিপার্শ্বিকতার প্রভাবে প্রভাবান্বিত স্বীয় মস্তিস্ক প্রসূত চিন্তাগুলোকেই তারা শরীয়তের প্রমাণপুষ্ট করার অপচেষ্টা করে। যদি কোন হাদীস তার এই চিন্ত াগুলোকে নাকচ করে দেয় তখন সেই হাদীসটিকে যেকোন খোঁড়া যুক্তি দাঁড় করিয়ে প্রামাণিকতার অযোগ্য বলে প্রমাণ করতে চেষ্টা করে। কেউবা উম্মতের নিকট সহীহ বলে স্বীকৃত হাদীসকে যয়ীফ বলে প্রমাণ করতে চেষ্টা করে, কেউবা স্থান-কালের প্রশ্ন উঠিয়ে বর্তমানে এই হাদীস প্রযোজ্য হতে পারে না বলে দাবী করে, আবার কেউবা হাদীসের ভাবার্থের স্বীকৃত ব্যাখ্যা বর্জন করে নতুন করে নিজের মনগড়া কোন ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়ে দেয়। এদের অধিকাংশই ছিলেন ইংরেজী শিক্ষায় শিক্ষিত, পাশ্চাত্যের চিন্তাধারা দ্বারা প্রভাবিত এবং পাশ্চাত্যের চিন্তাধারার কাছে মানসিকভাবে পরাজিত শ্রেণীর লোক। এরা পাশ্চাত্যের চিন্তা ধারাকে স্বীকৃত ও বিজ্ঞানীদের আবিষ্কারের নামে দেওয়া থিউরীগুলোকে অলঙ্ঘনীয় ধরে নিয়েই তাদের চিন্তার বুনিয়াদ রচনা করে। ফলে তাদের চিন্তাগুলো সে আলোকেই গড়ে ওঠে। ভারতবর্ষে যারা হাদীস অস্বীকার করেছে তাঁদের অধিকাংশই এ ব্যাধিতে আক্রান্ত।

গবেষকগণ মনে করেন যে, ভারত উপমহাদেশে হাদীস অস্বীকারের প্রথম সূচনা করে স্যার সৈয়দ ও তদীয় সঙ্গী মওলভী চেরাগ আলী। এরা মূলতঃ পাশ্চাত্যের চিন্তা ধারায় মারাত্মকভাবে প্রভাবিত ছিল। যে কারনে ইসলামের বহু বিষয়কে পাশ্চাত্যের চিন্তাধারার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ করতে গিয়ে সর্বজন স্বীকৃত ব্যাখ্যা বর্জন করে তারা নতুন ব্যাখ্যার আশ্রয় গ্রহণ করেছে। স্বকপোলকল্পিত এ সকল ব্যাখ্যা কোন হাদীসের পরিপন্থী হতে দেখলে সে সকল হাদীসের বিশুদ্ধতাকে তারা অস্বীকার করেছে। কিংবা হাদীসটি বর্তমানকালের জন্য প্রযোজ্য নয় বলে মন্তব্য করে দিয়েছে। কিছুকাল পরে এদের সমর্থকগোষ্ঠী আব্দুল্লাহ চক্রালভীর নেতৃত্বে “আহলে কুরআন' নামে একটি স্বতন্ত্র দল গঠন করে। নিজেদেরকে 'আহলে কুরআন' বা কুরআনের অনুসারী বলে দাবী করে প্রকারান্তরে তারা একথাই বুঝাতে চেয়েছে যে, আমরা কুরআনকে মানি, অন্য কিছু মানিনা। এর উদ্দেশ্য ছিল, যে সব হাদীস তাদের দৃষ্টিতে কুরআনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলে তাদের কাছে মনে হয়েছে সেগুলোকে অস্বীকার করা। কিন্তু তাদের দৃষ্টিতে সঙ্গতিপূর্ণ না হলেই প্রকৃত পক্ষেও যে তা সঙ্গতিপূর্ণ নয় এমন কথাতো বলা যায় না ।

Comments

sereybd

আপনার পোস্ট @sereybd দ্বারা কিউরেট করা হয়েছে। Serey Bangladesh কমিউনিটিতে পোস্টটি শেয়ার করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ

৥realsort-elyas দ্বারা ম্যানুয়ালি কিউরেট করা হয়েছে