বার্তা বাহক

A
arif567
 সাহাবীগণ নবীর সাহচর্য ও সান্নিধ্য লাভ করে এবং তাঁর কর্মময় জীবনের সমগ্র বিষয় অবলোকন করে দ্বীন সম্পর্কে যে উপলদ্ধি লাভ করেছিলেন, তাই তারা ব্যক্ত করে গেছেন তাবেঈনদের কাছে। সাহাবীগণের সান্নিধ্য ও সাহচর্য লাভ করে এবং তাদের কর্মময় জীবন অবলোকন করে তাবেঈনগণ দ্বীন সম্পর্কে যে উপলব্ধি লাভ করেছিলেন তা তারা ব্যক্ত করে গেছেন তাবই-তাবেঈনদের কাছে। এভাবে দ্বীন সাহচর্য ও উপলব্ধির ক্রম পরস্পরায় এসে পৌঁছেছে আমাদের পর্যন্ত। এখানে অভিধানের অর্থগত দিকটির চেয়ে ক্রমপরস্পরায় দ্বীনের যে ব্যাখ্যা ও আদর্শিক রূপ বর্তমান পর্যন্ত পৌঁছেছে সেটিই মূল ও প্রকৃত রূপ হিসাবে পরিগণিত হবে। সাহাবীগণের যুগ থেকে বর্তমান পর্যন্ত যে শব্দ যে অর্থে প্রয়োগ হয়ে আসছে সে অর্থই গ্রহণীয় হবে। সাহাবায়ে কিরাম নবী সা. এর ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ থেকে দ্বীনের যেরূপ অনুধাবন করতে পেরেছিলেন, পরবর্তীদের লাগামহীন ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের কারণে সেই মূল রূপ যাতে হারিয়ে না যায় কিংবা বিকৃত না হয় সে জন্য পূর্ববর্তী আইম্মায়ে মুজতাহেদীন ও উলামায়ে মুহাক্কেকীন অত্যন্ত চিন্তাভাবনা ও গবেষণার মাধ্যমে দ্বীনের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে এমন কতিপয় নীতিমালা প্রণয়ন করে গেছেন যা অনুসরণ করে চললে দ্বীনের সেই রূপ সংরক্ষিত থাকবে- সাহাবায়ে কিরাম যা নবী কারীম সা. থেকে উপলব্ধি করেছিলেন। দ্বীনের ব্যাখ্যার নামে কেউ তার ব্যক্তিগত ইচ্ছা অভিপ্রায়ের প্রতিফলন ঘটানোর পথ যাতে চিরতরে রুদ্ধ হয়ে যায়, সে জন্য তারা অক্লান্ত পরিশ্রম করে গেছেন। এক্ষেত্রে তারা এত ব্যাপক খিদমাত আঞ্জাম দিয়ে গেছেন যে, কুরআন সুন্নায় ব্যবহৃত প্রতিটি মৌলিক শব্দের সংজ্ঞা পর্যন্ত তারা দিয়ে গেছেন। যাতে পরবর্তীকালে শুধুমাত্র অভিধান নির্ভর কোন ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ পেশ করে দ্বীনের মৌলিক রূপ পরিবর্তনের কোন অবকাশ না থাকে। এমনকি যদি মানুষের ব্যবহৃত ভাষায় কালক্রমে শব্দের অথর্গত দিকের কোন পরিবর্তনও সাধিত হয় তথাপি যেন দ্বীনের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে এর কোন প্রভাব না পড়ে।

বস্তুতঃ কুরআন সুন্নায় ব্যবহৃত মৌলিক শব্দেসমূহের তৎকালে প্রচলিত ভাষায় বিভিন্নার্থে প্রয়োগ থাকলেও কুরআন ও হাদীসে সেগুলোকে একটি নির্দিষ্ট অর্থের জন্য প্রয়োগ করা হয়েছে, যে অর্থের ব্যাখ্যা স্বয়ং নবী সা. দিয়ে গেছেন এবং সাহাবায়ে কিরাম বর্ণনা করে গেছেন। ফলে কুরআন সুন্নায় ব্যবহৃত প্রতিটি মৌলিক শব্দের ভাষায় প্রচলিত সাধারণ অর্থের বাইরে শরীয়ত প্রদত্ত একটি অর্থের পরিমণ্ডল তৈরি হয়ে গেছে এবং ঐ সকল শব্দের একটি শরয়ী বিধান 

Comments