কর্ম জীবন
কর্ম জীবনের শুরু ঃ আগ্রায় প্রথম শিক্ষকতার দায়িত্ব নিয়ে শুরু হয় তাঁর প্রথম কর্মজীবন। এখানে অবস্থান কালে তিনি রাজকীয় অনাচারের বিষয়টি গভীরভাবে উপলব্ধি করতে সক্ষম হন এবং জীবনের গতিপথ নির্ধারণের জন্য তিনি একটি সূত্রও পেয়ে যান যে, রাজা ও রাজার অমাত্যবর্গের সংশোধন ছাড়া সাধারণ মানুষের এই ব্যাপক বিকৃতির সংশোধন করা খুব সহজ হবে না। তিনি সিদ্ধান্তে পৌঁছে যান যে, রাজা ও প্রজার সম্পর্ক হল আত্মা আর দেহের ন্যায়। সুতরাং রাজরূপী আত্মার সংশোধন হলে প্রজারূপী দেহ এমনিই সুস্থ হয়ে উঠবে। আগ্রার শিক্ষকতা ছেড়ে দিয়ে ফিরে যান স্বদেশ সেরহিন্দে। সেখানেও শিক্ষকতার দায়িত্ব নিতে হয়। কিন্তু শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি শুরু করেন সাধারণ মানুষের মাঝে তাঁর সংস্কারমূলক কার্যক্রম। তাঁর সময়ে যে বিষয়গুলো ইসলামী চিন্তাধারা ও মূল্যবোধকে ব্যাহত বরং কার্যতঃ স্থবির ও বিকৃত করছিল সেগুলোকে মোটামুটি চার ভাগে ভাগ করা যায়। যথাঃ ১. আকবরের দ্বীনে ইলাহীর প্রভাবে সৃষ্ট আকীদা ও বিশ্বাসের বিকৃতি, ইসলামের বিধি-বিধান ও আইন-কানুনের পরিবর্তন, সাধারণ মানুষের মাঝে আমলী ইনহিতাত ও অধঃপতন এবং ব্যাপক নৈতিক অবক্ষয়। ২. স্বার্থান্বেষী আলেম নামধারী ব্যক্তিদের সৃষ্ট নানা ধরনের ধর্মীয় ও সামাজিক কুসংস্কার। বিদ'আতে হাসানার নামে ইসলামের গণ্ডিভূত নয় এমন বহু কর্মকাণ্ডকে ইসলামের নামে চালিয়ে দেওয়ার প্রবণতা। আর সেই সব অপসংস্কারের পিছনে পড়ে সাধারণ মানুষের ক্রমান্বয়ে নববী সুন্নতের সুমহান কর্মধারা থেকে বিচ্যুতি। ৩. আধ্যাত্মবাদী সুফিদের জ্ঞান-দ্বীনতার কারণে ইসলামের নির্মল আধ্যত্মদর্শন প্রাচ্যদেশীয় বিভিন্ন ধর্মের ভ্রান্ত দর্শনের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে পড়েছিল।

