মোকাবেলা
গোলাম কাদিয়ানী ১২৫২ হিঃ মুতাবেক ১৮৩৫ খ্রীষ্টাব্দে পাঞ্জাবের গুরুদাসপুর জেলার কাদিয়ান অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করে এবং ১৯০৯ সালে মারা যায়। পূর্ব থেকেই তার পরিবার ইংরেজদের তন্ত্রীবহনের জন্য বিখ্যাত ছিল। গোলাম কাদিয়ানী ছিল অত্যন্ত মেধাবী ও প্রতিভাবান। লেখাপড়া সমাপ্ত করে সে পাঞ্জাবের এক অফিসে কেরানীর চাকুরী গ্রহণ করে। চাকুরী জীবনের প্রথম দিকে সে একজন ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি হিসেবে খ্যাত ছিল।
দেশে তখন ইংরেজ বিরোধী আন্দোলন তুঙ্গে। আলেম উলামারা ইংরেজ বিরোধী এই আন্দোলনকে জিহাদ বলে ফতওয়া দিয়েছেন। ফলে সারা দেশের মানুষ ইংরেজ বিরোধী আন্দোলনকে জিহাদের পবিত্র দায়িত্ব জ্ঞান করে মারমুখো হয়ে উঠে। ইংরেজেরা মুসলামনদেরকে অবদমিত করার জন্য যত পদক্ষেপই ইতিপূর্বে গ্রহণ করেছিল জিহাদের ফতওয়ার ফলে সবই ভেস্তে যেতে শুরু করল। আলেম উলামাদের এ ফতওয়াই তাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল। যদি কোন কৌশলে এ জিহাদী চেতনাকে দমন করা যেত তাহলে হয়ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হত— এই ধারণার বশবর্তী হয়ে তারা এর জন্য কৌশল খুঁজতে থাকে। মুসলমানদের মাঝ থেকে কোন একজন ধর্মীয় ব্যক্তিত্বকে যদি জিহাদ বিরোধী প্রচারণায় লাগিয়ে দেওয়া যায়, তাহলে এই অদম্য আবেগ হয়ত কিছুটা স্তিমিত হয়ে যাবে, কমপক্ষে এ বিষয় নিয়ে তাদের মাঝে আত্মকলহ অবশ্যই বেঁধে যাবে। এতটুকু হলেও তাদের দৃষ্টি সেই আত্মকলহে নিবদ্ধ হয়ে পড়বে, আর ইংরেজরা তাদের রোষানল থেকে আপাততঃ রক্ষা পেয়ে যাবে এই পরিকল্পনার আওতায় তারা লোক খুঁজতে থাকে। পাঞ্জাবের অফিস কেরানী গোলাম আহমদ ততদিনে ধর্মপ্রচারক হিসাবে মোটামুটি সুখ্যাতি কুড়াতে সক্ষম হয়েছিল। যেহেতু তার পরিবার পূর্ব থেকেই ইংরেজদের তাবেদার শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত ছিল, সুতরাং তাকেই তারা একাজের জন্য সমধিক উপযুক্ত বলে মনে করে। বিভিন্ন ধরনের অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা দিয়ে ইংরেজরা তাকে পূর্ণ মাত্রায় তাদের তাঁবেদারীতে নিয়োগ করে ।
শরীয়তের স্বীকৃত কোন বিধান রহিত করার কোন অধিকার কারো নেই। সুতরাং জিহাদের এ বিধান রহিত করতে হলে কমপক্ষে সংস্কারের লেবেল লাগানো ছাড়া কোন উপায় নেই কিংবা নতুন নবীর আবির্ভাবের প্রয়োজন। সুতরাং গোলাম আহমদকে একজন সংস্কারক হিসাবে পরিচিত করে তোলার জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা ইংরেজরা করে দিল। অজস্র বই-পুস্তক রচনা করে তার নামে ছাপিয়ে তাকে একজন পণ্ডিত ব্যক্তি হিসাবে পরিচিত করে তোলার যাবতীয় প্রয়াস গ্রহণ করা হল । প্রচারণায় বিভ্রান্ত হয়ে বহু লোক তার ভক্তবৃন্দের কাতারে এসে শামিল হল । এক পর্যায়ে সে ইংরেজ শাসনকে ভারতীয়দের জন্যে নিয়ামত বলে প্রচারণা চালাতে থাকে। কিছু লোকজনকে তার এসব অপকর্মের সমর্থক হিসাবে দেখতে পেয়ে সে তার দাবীকে আরেকটু অগ্রসর করে নিজেকে ইমাম মাহদী বলে দাবী করে।

