ইংরেজদের সামরিক শাসন
ইংরেজদের সামরিক প্রস্তুতি ঃ করার অনুমাত এ দিকে মোঘলদের অধীনস্থ স্থানীয় কর্মচারীগণ লোভের কারণে ইংরেজদের কাছ থেকে অবৈধ কর আদায় করতে শুরু করে। কখনও তাদের পণ্যও বাজেয়াপ্ত করে। ফেলা হত। এই অজুহাত দেখিয়ে হুগলীর ইংরেজ কুঠিয়াল সাহেবরা তাদের কুঠি সুরক্ষিত করে অত্যাচারী কর্মচারীদের বাধা প্রদানের প্রস্তুতি গ্রহণ করে। ইংরেজগণ বলপূর্বক হুগলী দখল করলে মোঘলদের সাথে সংঘর্ষ হয় এবং শায়েস্তা খান হুগলী দখল করে ক্ষমতালিপ্সু ইংরেজদের শুধুমাত্র শায়েস্তাই করেননি বরং বাংলা হতে বিতাড়িত করেন। বিচক্ষণ ইংরেজ জবচার্নক আওরঙ্গজেবের অনুমতি নিয়ে বর্তমান কলিকাতার শোভাবাজার এলাকায় যা সুতানটি নামে পরিচিত ছিল- স্বগোত্রীয়দের নিয়ে ১৬৮৭ খ্রীষ্টাব্দে একটি বসতি স্থাপন করেন। ১৬৮৭ খ্রীষ্টাব্দে ক্যাপটেন উইলিয়ম হীমের নেতৃত্বে একটি নৌ বছর চট্টগ্রাম অধিকার করলে মোঘলদের সঙ্গে পুনরায় সংঘর্ষ শুরু হয়। ফলে জবচার্নক সুতানটি ত্যাগে বাধ্য হয়। ১৬৯০ খ্রীষ্টাব্দে মোম্বাইয়ের ইংরেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আওরঙ্গজেবের চুক্তি হলে জব চার্নক পুনরায় বাংলায় প্রত্যাবর্তন করেন। ১৬৯১ খ্রীষ্টাব্দে সুবাদার ইব্রাহিম খান সম্রাটের আদেশক্রমে ইংরেজদের অবাধ বাণিজ্যের অনুমতি দেন। ১৬৯৬ খ্রীষ্টাব্দে ইংরেজগণ তাদের বাণিজ্য কুঠিকে জলদস্যুদের আক্রমণ থেকে রক্ষার অজুহাতে সেগুলোকে দুর্গে পরিণত করার সুযোগ লাভ করে এবং এর ফলে বাংলায় তাদের ব্যবসা বাণিজ্য উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং তাদের ক্ষমতা ও প্রতিপত্তির সুদৃঢ় ভীত তৈরী হয়। ১৬৯৮ খ্রীষ্টাব্দে ইংরেজগণ বাৎসরিক বার শত টাকা খাজনা প্রদানের অঙ্গীকার ভিত্তিতে কলিকাতা (কালীঘাট), সুতানটি, গোবিন্দপুর নামে ৩টি গ্রামের জমিদারী লাভ করেন। পরবর্তীকালে এটিই মহানগরী কলিকাতায় রূপান্তরিত হয়। ১৭০০ খ্রীষ্টাব্দে ইংল্যান্ডের তদানিন্তন রাজা তৃতীয় উইলিয়ামের নামানুসারে কলিকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ প্রতিষ্ঠিত হয়। এভাবে কলিকাতা, মাদ্রাজ ও বোম্বাই ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শক্তির অভ্যুত্থানের প্রধান তিনটি কেন্দ্রে পরিণত হয়। ১৬৯৮ খ্রীষ্টাব্দে ইংল্যান্ডে একটি বিলের মাধ্যমে ইষ্টইন্ডিয়া কোম্পানী নামে অপর একটি বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হয়।

