হিন্দুস্তান এর ইতিহাস পর্ব ৭

A
arif567
 স্বপ্নযোগে নির্দেশিত। দারুল উলুম দেওবন্দ ও তার অনুসারীরা মূলতঃ মা আনা আলাইহি ওয়া আসহাবীর পতাকাবাহী এক কাফেলা। কেননা নবী ও সাহাবীরা যে পথে চলেছেন তার অনুসারীদেরকেই বলা হয় আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত। আকাবিরে দেওবন্দ সেই মত ও পথ থেকে জীবনের কোন অধ্যায়ে এক চুল পরিমাণও বিচ্যুত হননি। তারা কুরআন সুন্নাহকে গ্রহণ করেছেন বিজালুল্লাহ, তথা পূর্ব যুগীয় মনীষীগণের ব্যাখ্যার আলোকে, আবার রিজালকে গ্রহণ করেছেন কুরআন ও সুন্নার মাপকাঠিতে যাচাই করে। কুরআন সুন্নাহকে বাদ দিয়ে তারা যেমন রিজাল পুরস্তী বা ব্যক্তি পূজায় ডুবে যাননি। অনুরূপভাবে রিজালকে বাদ দিয়ে কুরআন সুন্নার মনগড়া ব্যাখ্যা, তা'বীল ও তাহরীফের চোরা পথেও পা বাড়ান নি। তারা বিশ্বাস করেন যে, রিজালুল্লাহ তথা পূর্বসূরি উলামা ও সুলাহায়ে উম্মতের স্বীকৃত ব্যাখ্যার আলোকে কুরআন সুন্নার অনুধাবনই হল হক্কানিয়্যাতের ভিত্তি। আর কুরআন সুন্নাহ বিরোধী জ্ঞান অথবা নিজের মনগড়া ব্যাখ্যার আলোকে কুরআন সুন্নার সমঝই হল বাতিল। মূলতঃ দেওবন্দী মদ্রাসাসমূহ হচ্ছে 'উম্মাতাও ওয়াসাতান' বা প্রান্তিকতা বিবর্জিত মধ্যমপন্থী উম্মত গড়ার বলিষ্ঠ কেন্দ্র। তাই এধারার অনুসারীরা যেমন আবেগ ও ইশক বিবর্জিত নজদীদের মত আবেগ ভক্তিহীন নয় অনুরূপভাবে আকল ও যুক্তি বিবর্জিত আবেগপ্রবণ ইশক পূজারী বা ওয়াজদীও নয়। উলুম ও ফুনুনের এক সমন্বিত শিক্ষা কেন্দ্র হল এই দেওবন্দী মাদ্রাসাসমূহ। ঈমান ও আকায়েদ, নৈতিকতা ও আখলাক, দরস ও তাদরীস, তরবিয়াত ও প্রশিক্ষণ, তাসনীফ ও তালীফ, দাওয়াত ও তাবলীগ, তাযকিয়্যাহ ও ইহসান, সংগ্রাম ও জিহাদ, রাজনীত ও অর্থনীতি, সাহিত্য ও সংস্কৃতি এমনকি মানবকল্যাণের ও উসওয়ায়ে নববীর এমন কোন ক্ষেত্র নেই যা উলামায়ে দেওবন্দের নেতৃত্ব সুলভ সরব পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেনি। এই দেওবন্দী মাদ্রাসাসমূহ আধ্যাত্মিক রাহনুমায়ীর প্রাণকেন্দ্রও বটে। আকাবিরে দেওবন্দ হযরত কাসেম নানুতবী, ফকীহুল উম্মাহ হযরত মাওঃ রাশীদ আহমদ গাঙ্গুহী, হাকীমুল উম্মাত হযরত মাওঃ আশরাফ আলী থানভী, শায়খুল আরব ওয়াল আযম হযরত মাওঃ হুসাইন আহমদ মদনী, মাওঃ সাঈদ আহমদ সন্দ্বীপী, মাওঃ শামসুল হক ফরিদপুরী, মাওঃ আতহার আলী, মুফতী ফয়জুল্লাহ, মুফতী মাহমুদ হাসান গাঙ্গুহী, হযরত মুহাম্মদ উল্লাহ হাফেজ্জী হুযুর, হযরত শায়খে বাগা হযরত শায়খে কৌড়িয়া প্রমুখ মনীষীগণসহ অসংখ্য আধ্যাত্মিক রাহবার এধারায় আবির্ভূত হয়েছেন। তাদের মেহনতের বদৌলতে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, আফ্রিকা, আমরিকা ও লন্ডনসহ পৃথিবীর বহুদেশে লক্ষ লক্ষদেওবন্দ আন্দোলন ও ইতিহাস আল্লাহ প্রেমিক আল্লাহর প্রেমে মত্তু হয়ে আল্লাহ আল্লাহ অPEGION মুখরিত করে তুলছে। পান করছে ঐশী প্রেমের শারাবান তাহুরা। বাতাস বলতে গেলে দ্বীন রক্ষার এক বলিষ্ঠ দুর্গ হল এই দেওবন্দী ধারার প্রতিষ্ঠানসমূহ। হিফাযতে দ্বীনের এমন কোন ক্ষেত্র নেই যেখানে আসলা আকাবিরে দেওবন্দের সরব উপস্থিতি বিদ্যমান নেই। ইসলাম ও মুসলমানদের। উপর যেখানেই আক্রমণ হয়েছে সেখানেই তারা ব্যাঘ্রের ন্যায় বজ্র কঠিন হুংকার দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। ইসলামের দুশমনদের সকল ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে বাতিলের মুখোশ উন্মোচন করে দিয়েছেন সুষ্পষ্টভাবে। বৃটিশ বেনিয়াদের কণ্ঠ ষড়যন্ত্র, শিখদের চক্রান্ত, হিন্দু ব্রাহ্মণ্যবাদীদের চানক্য চাল, শিয়া, কাদিয়ানী, বিদ'আতী বাহাঈদের ফিতনা, আধুনিক ইংরেজি শিক্ষিতদের বিভ্রান্তিকর ব্যাখ্যার ফিতনাসহ সকল ফিতনার মুকাবিলায় উলামায়ে দেওবন্দ সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। হককে হক ও বাতিলকে বাতিল হিসাবে চিহ্নিত করে দিয়েছেন। সুষ্পষ্টভাবে। উপমহাদেশীয় মুসলিম উম্মাহর উপর উলামায়ে দেওবন্দের অবদান। অপরিসীম। । সেই অবদানের ইতিহাস এক সুদীর্ঘ না লেখা ইতিহাস। আমাদের নতুন প্রজন্মতো বটেই অনেক পুরানো ঐতিহাসিকও এই শিক্ষা ব্যবস্থার ঐতিহ্যগত ধারা, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও অবদানের খতিয়ান সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণ রাখেন না। সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্তের যাতাকলে চাপা দিয়ে রাখা হয়েছে ইতিহাসের না লেখা এই বিরাট অধ্যায়। কিন্তু দুঃখনীয় হলেও সত্য যে, ইতিহাসের ধারা পাল্টাতে যে বীর মুজাহিদরা কাজ করেছিল অতিসঙ্গোপনে আপন ভুবনে, সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ও তাদের তল্পীবাহকদের ষড়যন্ত্রের ফলে আজ তারাই চে ঐতিহাসিক নির্যাতনের শিকার। যেহেতু ইতিহাসের স্বাভাবিক ধারা বেয়েই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ঐতিহাসিক দারুল উলূম দেওবন্দ, তাই আমরা ভারত বর্ষে মুসলমানদের আগমন ও মুসলিম শাসনের ক্রমবিকাশের ইতিহাসের উপর সংক্ষিপ্ত আলোকপাত করে নেওয়া প্রয়োজন মনে করছি।

Comments