Photo Source
বস্তুতঃ পারভেজ ছিল স্যার সৈয়দের চিন্তাধারার একজন বলিষ্ঠ সমর্থক। পাকিস্তান সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চাকুরীরত এই লোকটি দেশের জনগণকে আইন-শৃঙ্খলার অনুসারী বানানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে। ধর্মের প্রতি মানুষের দুর্বলতার বিষয়টিকে এক্ষেত্রে কাজে লাগানোর মানসে সে এরূপ একটি মতবাদ প্রতিষ্ঠা করতে চেষ্টা করে যে, রাষ্ট্রীয় আইন মেনে চলার অর্থই হল ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা। যেহেতু তার দেওয়া এই থিউরী বহু হাদীসের পরিপন্থী ছিল সে কারণে সে হাদীস অস্বীকারের ধৃষ্টতা প্রদর্শন করে।
সে তার চিন্তাধারার আলোকে কুরআনের একটি নয়া তাফসীরও রচনা করে। উক্ত তাফসীরে সে ইসলামের শ্বাশত ও স্বীকৃত বহু বিষয়ের মনগড়া ব্যাখ্যা দিয়েছে। পারভেজ তার তাফসীরে প্রমাণ করতে চেষ্টা করেছে যে, কুরআনে 'আল্লাহ' ও 'রাসূল' শব্দ ব্যবহার করে মূলতঃ একটি কেন্দ্রীয় ক্ষমতাশীল শক্তিকে বুঝানো হয়েছে। পারভেজ তার তাফসীরে একথাও উল্লেখ করেছে যে, রাসূল সা. এর দায়িত্ব কেবল এতটুকুই ছিল যে, তিনি আল্লাহর দেওয়া বিধি-বিধানকে মানুষ পর্যন্ত পৌঁছিয়ে দিবেন, সুতরাং কোন মানুষকে তাঁর অনুসরণের নির্দেশ দেওয়ার অধিকার তাঁর ছিলনা। সে আরো দাবী করেছে যে, কুরআনে বর্ণিত অর্থনৈতিক বিধানাবলী তথা উত্তরাধিকার আইন, লেনদেন, করজে হাসানা, ঋণদানের বিধান, যাকাত ও সাদকা খায়রাতের বিধানসমূহ প্রথম যুগের সাথেই সীমাবদ্ধ ছিল।
কেননা তখন তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা ছিল নিতান্ত করুণ! তাই তাদের মাঝে অর্থনৈতিক ভারসাম্য সৃষ্টির লক্ষ্যে এসব বিধান দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীকালে প্রত্যেক দেশের কেন্দ্রীয় পরিষদ সে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা বিচার করে কোন আইন কতটুকু কার্যকর করা হবে তা নির্ধারণ করবে। তার এ দাবীর প্রকারান্তরে অর্থ দাঁড়ায় এই যে, কেন্দ্রীয় পরিষদ ইবাদতের বিধিবিধানকে পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করতে পারবে।
হাদীস সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে সে বলে যে, ‘এগুলো মূলতঃ অনারবীয়দের ষড়যন্ত্র ও মিথ্যার ঝুলি। তার মতে আখেরাত বলতে ভিন্ন কোন জগতকে বুঝায় না বরং এর অর্থ হল অনন্ত ভবিষ্যত, আর জান্নাত জাহান্নাম দ্বারা মূলতঃ মানুষের সুখ ও দুঃখের অবস্থাকে বুঝানো হয়েছে। আদম বলতে নির্ধারিত কোন ব্যক্তিকে বুঝানো হয়নি, মিরাজ ছিল নবী সা. এর একটি স্বপ্ন মাত্র।


অভিনন্দন, আপনার পোস্ট @sereybd দ্বারা কিউরেট করা হয়েছে। Serey Bangladesh কমিউনিটিতে পোস্টটি শেয়ার করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ