তিনি খ্রীষ্টানদের ধর্ম বিশ্বাসের সাথে ইসলামের সম্প্রীতি স্থাপনের এ উদ্যোগকে বাস্তবায়িত করার জন্য মদ ও শুকুরকে হারাম মনে করা ও কুকুরকে অপবিত্র জ্ঞান করা যুক্তি বিবার্জিত বলেও মন্তব্য করেন। এভাবে ইসলামের চিরন্তন আক্বীদাহ বিশ্বাসের বিপরীতে দাঁড়িয়ে ইংরেজদের মনোতুষ্টির জন্য তিনি উঠেপড়ে লেগে যান। ১৮৭৬ সালে সরকারী চাকুরি থেকে অবসর গ্রহণকালে তার আনুগত্য ও বিশ্বস্থতার প্রতিদান স্বরূপ ইংরেজ সরকার তাকে "স্যার" উপাধিতে ভূষিত করে। ১৮৮৮ সালে ইংরেজরা তাকে কে, সি, আই, এস উপাধিতেও ভূষিত করেছিল।
মূলত: স্যার সৈয়দ ওরিয়েন্টালিষ্টদের (অর্থাৎ প্রাচ্যদেশীয় ধর্ম-দর্শন নিয়ে গবেষণাকারী ইউরুপিয়ান চিন্তাবিদদের) চিন্তা চেতনা দ্বারা মারাত্মকভাবে প্রভাবিত ছিলেন। অথচ ইসলাম সম্পর্কে অমুসলিমদের গবেষণায় যে বস্তুনিষ্টতা রক্ষা পাবে না, এবং তারা যে ইসলামকে তাদের ধ্যান-ধারণার ছাঁচেই পেশ করবে, আর ইসলামকে বিকলাঙ্গ করার জন্য তাদের এই পরিকল্পিত গবেষণায় তারা যে ইসলামের চিরন্তন আক্বীদাহ বিশ্বাসকে বিকৃত করে পেশ করে ইসলামের চিরন্তনতার মূলে কুঠারাঘাত করবেই এই সাধারণ বিষয়টি স্যার সৈয়দ হয়ত অনুধাবন করতে পারেননি। ফলে ঐসব প্রাকৃতিবাদী গবেষকরা তাদের চশমায় ইসলামকে যেভাবে অবলোকন করেছেন, স্যার সৈয়দ সেটাকেই প্রকৃত ইসলাম ধরে নিয়ে সর্বজন স্বীকৃত ইসলামী মূল্যবোধের বিপরীতে পাশ্চাত্যের মানস প্রসূত ইসলামকে এদেশে প্রতিষ্ঠিত করতে উঠে পড়ে লেগেছিলেন। একারণেই তার চিন্তাধারা সনাতন ইসলামী আক্বীদা বিশ্বাসের সাথে বহু ক্ষেত্রেই সাংঘর্ষিক প্রতিপন্ন হয়েছে।
স্যার সৈয়দ মূলত: ছিলেন ন্যাচারিয়াল বা প্রাকৃতিকবাদে বিশ্বাসী। তিনি বিশ্বাস করতেন যে ইসলাম মানুষের স্বভাবজাত ধর্ম ও প্রকৃতির সাথে সঙ্গতি পূর্ণ এক জীবনাদর্শ। সুতরাং ইসলামের সকল বিধি-বিধান মানুষের স্বভাবজাত চাহিদার অনুকূল ও প্রকৃতির বিধানের সাথে সঙ্গতি পূর্ণ হতে হবে। একথা অবশ্যই সত্য। কিন্তু বিকৃত স্বাভাবকে যদি কেউ মানবীয় স্বভাব বলে ধরে নেয় আর প্রাকৃতি সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের দেওয়া আপেক্ষিক ও ত্রুটিপূর্ণ সিদ্ধান্তকে কিংবা বিজ্ঞানীদের অনুমান প্রসূত মন্তব্যগুলোকে যদি কেউ প্রকৃতির অলঙ্গনীয় বিধান বলে ধরে নেয় তাহলে তার সাথে যে ইসলাম বা কুরআনের সঙ্গতি থাকবে না এ কথাত স্বাভাবিকভাবেই বোধগম্য। স্যার সৈয়দ যেহেতু পাশ্চাত্যের জীবন ধারাকে মানবীয় স্বভাবের প্রতিকৃতি মনে করেছেন এবং বিজ্ঞানীদের সূত্রগুলোকে অকাটা বলে মনে করেছেন (যে সম্পর্কে খোদ বিজ্ঞানীরাও অকাট্য হওয়ার ধারণা পোষণ করে না)। একারণে কুরআন সুন্নার সর্বজন স্বীকৃত বহু বিষয় তার কাছে অবৈজ্ঞানিক, অপ্রাকৃতিক ও স্বভাব বিরোধী মনে হয়েছে। সুতরাং তিনি তার চিন্ত ার আলোকে ইসলামকে যুক্তিপূর্ণ, বিজ্ঞান সম্মত ও স্বভাবানুকূলে করার চেষ্টা করে ছেন।


মিথ্যা মানুষকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যায়
আপনার পোস্টের লেখা সুন্দর হয়েছে। কিন্তু ছবি না ব্যবহার করার কারণে পোস্টের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় নাই। নিচের দেওয়া লিংকে ক্লিক করে নিয়মগুলো পড়ে নিন
https://serey.io/bn/authors/sereybd/7463atxgc-h4en8n3qxd-im6x6pfdo
যেকোন প্রয়োজনে আমাদের ডিসকোর্ড চ্যানেলে যোগাযোগ করতে পারেন। - https://discord.gg/P4UFyjaZ
আপনার পোস্ট @sereybd দ্বারা কিউরেট করা হয়েছে। Serey Bangladesh কমিউনিটিতে পোস্টটি শেয়ার করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ
realsort-elyas দ্বারা ম্যানুয়ালি কিউরেট করা হয়েছে
Your post has been curated by @realsort-elyas.
If you want to get more upvote from me, please vote my witness from your wallet