।
Photo Source By
এই অন্তব ফার এক বৎসর স্থায়ী হয়। কিন্তু
মুসলিম লীগ ও কংগ্রেস আপন আপন দাবীতে অনড় থাকে। দাঙ্গাও চলতে থাকে। যে কারণে সারাদেশে খণ্ড খণ্ড
দেশের এহেন নাজুক পরিস্থিতিতে বৃটেন সরকার সমস্যার দ্রুত নিরসনের জন্য তড়িৎকর্মা বলে খ্যাত লর্ড লুই মাউন্ট ব্যাটেনকে ভারতের বড়লাট করে পাঠায়। মাউন্ট ব্যাটেন ভারতে এসেই সকল রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের সাথে পৃথক পৃথক আলোচনায় বসেন। ভারত বিভক্তির প্রস্তাবটি তিনিও মেনে নিতে পারেননি। মাউন্ট ব্যাটেনও অখন্ড ভারতের প্রস্তাবের পক্ষে নেতৃবৃন্দকে ঐক্যমতে আনার যথেষ্ট চেষ্টা করেন। কিন্তু লীগনেতা মুহম্মদ আলী জিন্নাহ তার বিভক্তির প্রস্তাব থেকে সামান্যও নড়তে রাজী হননি। অবশেষে ১৯৪৭ সালের ৩রা জুন মাউন্ট ব্যাটেন পাকিস্তান প্রস্তাব মেনে নিয়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার কাজে আত্মনিয়োগ করেন।
পরিস্থিতির চাপে ১৪ই জুন কংগ্রেসের কার্যনির্বাহী পরিষদ থেকেও লীগের প্রস্তাবের সমর্থন ঘোষণা করা হয়। এ ঘোষণার অল্প কয়দিন পর ১৪ ও ১৫ই আগস্ট ১৯৪৭ ইং সালে যথাক্রমে পাকিস্তান ও ভারতের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়।
স্বাধীনতার শুভলগ্নে পশ্চিম পাকিস্তানের করাচীতে প্রথম পাকিস্তানের পতাকা উত্তোলন করেন মাও. শাব্বীর আহমদ উসমানী রাহ., আর পূর্ব পাকিস্তানের ঢাকায় পাকিস্তানের পতাকা উত্তোলন করেন জমিয়তের অন্যতম নেতা হযরত মাওলানা জাফর আহমদ উসমানী রাহ. । মূলতঃ উলামায়ে দেওবন্দের দু'টি দলই ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত লক্ষ্যকে সামনে নিয়ে কাজ করে গেছেন। এজন্য উভয় দলই তাদের রাজনৈতিক বক্তৃতায় সেই কাঙ্খিত উদ্দেশ্যের কথা জনগণের সামনে অকপটে ব্যক্ত করছেন। তবে একদল মনে করতেন, হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ ভারতের স্বাধীনতার এই মুহুর্তে মুসলমানদের জন্য আলাদা একটি ভূ-খণ্ড ইসলামী রাষ্ট্রের নামে বরাদ্দ করা নাহলে পরবর্তীতে সংখ্যাগরিষ্ঠতার চাপে এ স্বপ্ন বাস্তবায়িত নাও হতে পারে।
পরে হিন্দুদের চাণক্য চাল কাটিয়ে উঠা মুসলমানদের জন্য সম্ভব হবে কিনা তাও নিশ্চিত করে বলা যায় না। একারণেই তারা পাকিস্তান প্রস্তাবে জান বাজী রেখে সংগ্রাম করে গেছেন। চলমান হিন্দু মুসলিম দাঙ্গা গুলো তাদের এই চিন্তার পিছনে যুক্তি হয়ে কাজ করেছে।
আর অন্যদল মনে করেছেন, গোটা ভারতই মুসলমানদের দ্বারা শাসিত হয়েছে। ইংরেজরা মাঝখানে বাঁধা না হলে অদ্যাবধি মুসলিম আধিপত্যই বহাল থাকত। তাই ছোট একটি ভূ-খন্ড নয় গোটা ভারতবর্ষকেই ইসলামী রাষ্ট্র ঘোষণা করা সম্ভব হবে যদি ইংরেজদেরকে বিতাড়িত করা যায়। তাদের এই চিন্তার সম্ভাব্যতার পিছনে যুক্তি হয়ে কাজ করেছে অতীতের ইতিহাস। কেননা একদিন এদেশে মুসলমানরা গুটিকতক এসে লক্ষ লক্ষ মানুষকে মুসলমান বানিয়ে তাদের ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আশ্রয় দিয়েছে।

