হিন্দুস্তান এর ইতিহাস পর্ব ৫

A
arif567
যারা সাম্রাজ্যবাদী শালা 19 02-91 BY BOYZZ0Z বলে প্রচারণা চালাতে থাকল। স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দানকারী আলিমদের থেকে জনগণকে বিচ্ছিন্নতV Oddo করার জন্য তারা এনী ও ভাড়াটে দাবীও খরিদ করে নেয় এবং তাদের মাধ্যমে সংগ্রামী আলিম সমাজের বিরুদ্ধে নানাহ অপপ্রচার ও কুৎসা রটনার প্রয়াসে মেতে উঠে। তাদেরকে রাসুল বিদ্বেষী, ওয়াহানী ও কাফির বলে ফওয়া খরিদ করে তা সাধারণ্যে ব্যাপকভাবে প্রচার করা হয়। এর সাথে সাথে দেশবাসীকে আত্মকলহে জড়িয়ে দিয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামের গণজোয়ারকে অন্যখাতে প্রবাহিত করে ক্ষমতার টলটলায়মান আসনকে টিকিয়ে রাখার অপকৌশলে মেতে উঠে এবং বিভেদ সৃষ্টির কুটিল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। উপমহাদেশের সংখ্যা গরিষ্ঠ সচেতন দুটো সম্প্রদায় হিন্দু ও মুসলমানদের মাঝে সাম্প্রদায়িক হিংস্রতার আগুন উস্কে দেয় যে আগুনে আজও পুড়ছে এদেশের শান্তিকামী নিরীহ মানুষ। এছাড়াও তারা খ্রীষ্টান মিশনারীদের মাধ্যমে দেশবাসীকে ধর্মান্তরিত করার এবং ব্রাহ্মণ্যবাদী স্বামী দয়ানন্দজীর শুদ্ধি আন্দোলনের মাধ্যমে মুসলমানদের বিভ্রান্ত করার প্রয়াস পায়। ওয়াকফ সম্পত্তিগুলো বাজেয়াপ্ত করণের মাধ্যমে মুসলমানদের ধর্মীয় শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র তথা মাদ্রাসাগুলোকে কার্যতঃ অচল করে দেয়। ভূমিনীতিতে পাঁচশালা ও দশশালা বন্দোবস্ত নীতি প্রবর্তন করে এবং জমিদারী ক্রয়ে হিন্দুদেরকে অগ্রাধিকার প্রদান করে স্বাধীনতা সংগ্রামের বলিষ্ঠ শক্তি মুসলমানদেরকে অর্থনৈতিক দিক থেকে দেওলিয়া করে। ফেলার পদক্ষেপ গ্রহণ করে। অবশ্য বিশ্বাসঘাতক গোষ্ঠী নবাব, নাইট, রায় বাহাদুর, খান বাহাদুর, রায় সাহেব, খান সাহেব ইত্যাদি উপাধীতে পুরস্কৃত হয়। অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছিল যে, এদেশের স্বাধীনতা বুঝি ফিরে আসবে না আর কোন দিন। শিক্ষা, সংস্কৃতি, ধর্ম সব যাবে ধ্বংস হয়ে। উপমহাদেশের জন্য সে ছিল এক চরম দুর্যোগের দিন। এদিকে স্বাধীন থানাভবন সরকারের পতনের পর আন্দোলনের অন্যতম সিপাহ সালার হযরত হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কী রহ, কোনক্রমে আত্মগোপন করে মক্কা শরীফে হিজরত করে যেতে সক্ষম হন। সেখান থেকে তিনি তাঁর অনুসারীদের পুনরায় সংগঠিত করার প্রয়াস নেন। কিছুদিন পর সাধারণ ক্ষমার সুবাদে হযরত কাসিম নানুতবী ও হযরত রশীদ আহম্মদ গাঙ্গুহী রহ.-এরও মুক্তভাবে কর্মক্ষেত্রে নেমে আসার সুযোগ হয়। আবার নতুন করে পরামর্শ চলে কোন পথে আসবে এদেশের নিরীহ নির্যাতিত মানুষের কাংখিত স্বাধীনতা; মুক্তি হবে সহজতর? অন্যদিকে স্বাধীনতার স্বপ্নে বিভোর থাকার ফলে এবং সংগ্রাম ও যুদ্ধের আয়োজনে ব্যস্ত থাকার কারণে দীর্ঘদিন শিক্ষা দ্বীক্ষার প্রতি ফিরে তাকানোর সুযোগ হয়নি মুসলমানদের। তদুপরি ইংরেজদের কুটিল ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে পর্যুদস্ত হয়ে পড়ে মুসলমানদের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক দিক। তদস্থলে চাপিয়ে দেয়া হয়।

Comments