শরয়ী কাযীদের হত্যা
শরয়ী কাযীদের পাইকারী হত্যা ঃ পেশোয়ার থেকে সাইয়্যিদ আহমদ রাহ. এর পাঞ্জভারে ফিরে আসার অল্প কয়দিন। পরই সামার গোটা অঞ্চল ও পেশোয়ারে অতর্কিত বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে এবং সে সব এলাকায় নিয়োজিত ইসলামী হুকুমাতের কার্যী, মুহতাসিব ও অন্যান্য কর্মচারীদেরকে একযোগে পাইকারীভাবে হত্যা করে ফেলা হয়। গোপন সূত্রে সাইয়্যিদ সাহেব ইতিপূর্বে এ ধরনের একটি বিদ্রোহের আবাস পেলেও তিনি তা বিশ্বাস করেননি। তিনি মনে করেছিলেন এগুলো স্থানীয় রেশারেশীর ফলে ছড়ানো ভুয়া খরব হবে হয়ত। শায়খ হাসান আলী নামে জনৈক ব্যক্তি স্থানীয় এক ইমামের মারফত এলাকার খানদের বিদ্রোহের পরিকল্পনা ও মুজাহিদদেরকে হত্যা করে ফেলার অভিপ্রায়ের সংবাদ সম্পর্কে অবগত হতে পেরে সাইয়্যিদ সাহেবকে এ মর্মে অবহিত করেন। কিন্তু সব শুনে সাইয়্যিদ সাহেব বলেন এ সংবাদ ভুয়া বলে মনে হচ্ছে। মানুষ আমাদের ও তাদের মাঝে ফাটল সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এগুলো ছড়াচ্ছে। এ ঘটনার দুই বা তিন দিন পর ইমামুদ্দিন নামে জনৈক লোক পেশোয়ার থেকে এসে এ মর্মে সংবাদ দেয় যে, সরদার পীর মুহাম্মদ মওলভী মাজহার আলীকে তার বাড়ীতে দাওয়াত করে নিয়ে সঙ্গী সাথী সমেত হত্যা করে ফেলেছে। সেই সঙ্গে আরবাব ফয়জুল্লাহ খানকেও তারা শহীদ করে ফেলেছে।এ সংবাদ শুনে সাইয়্যিদ সাহেব নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের নিয়ে পরামর্শ করেন এবং সামার গোটা অঞ্চলে যে সব মুজাহিদ নিয়োজিত ছিল তাদেরকে জরুরী তলব পাঠিয়ে পাঞ্জতারে ডেকে আনতে বললেন। কাযীউল কুযাত মওঃ রমযান আলী তখন শিওয়াহ মওজায় অবস্থান করছিলেন। সাইয়্যিদ সাহেব মাওঃ ইসমাঈলকে এ মর্মে নির্দেশ দিয়ে পাঠালেন যে, দ্রুত তার নিকট গিয়ে এ সংবাদ জানিয়ে তাদেরকে কালবিলম্ব না করে যে কাজ যে অবস্থায় আছে সে অবস্থায় ফেলে রেখেই পাঞ্জতারে চলে আসতে বলবে। কিন্তু মুজাহিদরা মনে করল যে, সম্ভবত তিনি মুজাহিদদেরকে সমবেত করে পুনঃ পেশোয়ারের দিকে অভিযান করবেন, তাই কেউ কেউ পরদিন আবার কেউ কেউ রাত্রের শেষ প্রহরে রওয়ানার সিদ্ধান্ত নিল। তারা স্থানীয় পরিচিতিজনদের থেকে এই বলে বিদায় নিল যে, সাইয়্যিদ সাহেব আমাদেরকে জরুরী কাজে তলব করেছেন; তাই চলে যেতে হচ্ছে। স্থানীয় বিদ্রোহীরা এ সংবাদ জানতে পেরে বুঝতে পারল যে, শিকার হাত ছাড়া হয়ে যাচ্ছে। সুতরাং দু'চার দিন পরে তাদের পরিকল্পনা কার্যকর করার সিদ্ধান্ত। থাকলেও তারা তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে সে রাতেই সর্বত্র এক যুগে ফেলে। স্থানীয় আলেম উলামাদের অনেকেই এমনকি হিন্দু নাগরিকরা পর্যন্ত এরূপ নৃশংসভাবে এই আল্লাহর রাহে নিবেদিত নিষ্পাপ মুজাহিদদেরকে হত্যা করতে বারণ করেছিল। কিন্তু পাষণ্ডরা কিছুতেই নিরস্ত হয়নি। যেখানে যাকে পেয়েছে নির্বিচারে বধ করছে। অসহায় মুজাহিদরা বুঝেঝ উঠার আগেই তাদের জীবন প্রদীপকে স্তব্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শত শত মুজাহিদ হয়েছে তাদের বলির শিকার।

