: ইতিহাস ঐতিহ্য অবদান ৩০০ ইসলামের নামে দেওয়া এই সব ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের বিভ্রান্তি উদ্ঘাটন খুবই দুরূহ ও কষ্ট সাধ্য ব্যাপার বটে। দ্বীনের হিফাযতের তাকিদে তারা এই দায়িত্ব আধাম দিয়েছেন অত্যন্ত বলিষ্ঠভাবে। তাই দ্বীন সম্পর্কে কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর তৎপরতার কথা জানতে পারলেই তাদের সম্পর্কে তারা অত্যন্ত সজাগ দৃষ্টি রেখেছেন। কোথায়ও কোন অসুবিধা পরিদৃষ্ট হলে তারা অত্যন্ত মনোযোগের সাথে গভীরভাবে তা পরখ করে দেখেছেন। কারো বিভ্রান্তি সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হলে জনগণকে সে সম্পর্কে সচেতন করে দিয়েছেন। এবং বিভ্রান্তিগুলো কি তা চিহ্নিত করে দিয়ে তা নির্মূল করার জন্য নিজেদের সাধ্যমত প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছেন এবং এক্ষেত্রে দ্বীনের প্রকৃত ব্যাখ্যা কি হবে তাও তুলে ধরেছেন। ব্যক্তিগত যোগাযোগ, ওয়াজ-নসীহত, বক্তৃতা-বিবৃতির মাধ্যমে যেমন তারা এসকল বিভ্রান্তি নিরসনের চেষ্টা করেছেন অনুরূপভাবে বই পুস্তক রচনা করেও তা সাধারণ্যে বিতরণ করেছেন। স্যার সৈয়দের বিভ্রান্তিকর চিন্তাধারার জবাবে হযরত নানুতুবী রাহ. তাসফিয়াতুল আকাইদ নামক একটি মূল্যবান গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। যে মৌলিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে স্যার সৈয়দ বিভ্রান্তির শিকার হয়েছিলে, এ পুস্তকে সেই দৃষ্টিভঙ্গিগুলোর বিভ্রান্তিকে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছিল। তৎকালে প্রকাশিত "আল-বুরহান” পত্রিকার সম্পাদক মাওঃ মুহাম্মদ আলী বিছরামনী স্যার সৈয়দ রচিত তাফসীরে দুই শতাধিক স্থানে বিভ্রান্তিকর ব্যাখা রয়েছে বলে উল্লেখ করে তা চিহ্নিত করত প্রত্যেকটির জবাব প্রদান করেন। তাছাড়া এমদাদুল ফতওয়ার ৬ষ্ঠ খণ্ডে, হযরত ইউসুফ বিগৌরী রচিত ইয়াতিমাতুল বয়ান গ্রন্থে, মাও: আব্দুল হক হক্কানী রচিত আল বয়ান ফি উলুমিল কুরআন গ্রন্থে, তকী উসমানী রচিত উলূমুল কুরআন গ্রন্থে এ সকল আধুনিকাতাবাদী ও প্রকৃতিবাদীদের বিভ্রান্তিকর ব্যাখ্যা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
উলামায়ে দেওবন্দের অব্যাহত তৎপরতার ফলে স্যার সৈয়দ ও তার অনুগামীদের বিভ্রান্তি থেকে সমাজের বহু মানুষ রক্ষা পায়। এমনকি খোদ স্যার সৈয়দ প্রতিষ্ঠিত আলীগড়ে লেখাপড়া করেও বহু ব্যক্তি স্যার সৈয়দের মানসিকতাকে গ্রহণ না করে উলামায়ে দেওবন্দের চিন্তা চেতনাকে নিজেদের আদর্শ হিসাবে গ্রহণ করেছিলেন। মাও. আবুল কালাম আযাদ, হাকীম আজমল খান, ডা. আনসারী, ডা. যাকির হোসাইন, মাও. মুহাম্মাদ আলী জাওহার, মাও. সুলায়মান নদভী সহ অনেক উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিই উলামায়ে দেওবন্দের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ইংরেজ বিরোধী আন্দোলনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছিলেন। যদিও স্যার সৈয়দ বিশ্বাসী ছিলেন আপোষনীতিতে। পরবর্তীতে স্যার সৈয়দের খোলে দেওয়া পথে অনেক বিভ্রান্তির হোতারা আবির্ভূত হয়েছেন। সকলের ক্ষেত্রেই উলামায়ে দেওবন্দ একই নীতি অবলম্বন করেছেন এবং তাদের তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন । আজো সেই তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

