আদর্শ

A
arif567
 চরিত্রবান, ন্যায়পরায়ণ, সৎ ও পরিমার্জিত জীবন বোধ নিয়ে বেরিয়ে যায় একজন শিক্ষার্থী। এরা যে শুধু তাদের কর্মময় জীবনে আদর্শ নাগরিক হিসাবে জীবন যাপন করে তাই নয় বরং যারা তাদের সংস্পর্শে আসে তাদেরকেও সৎ ও পরিমার্জিত জীবন বোধের প্রতি অনুপ্রাণিত করে আদর্শবান মানুষ রূপে গড়ে তুলে।

photo Source By 
তাছাড়া এশিক্ষা ধারায় শিক্ষার্থীকে শিক্ষা জীবনের শুরুতেই এই অনুভূতি সৃষ্টি করে দেওয়া হয় যে, তোমার শিক্ষা গ্রহণের উদ্দেশ্য নিজেকে সৎ ও আদর্শবান মানুষ হিসাবে গড়ে তোলা এবং যথাসম্ভব অন্যকে সৎ ও আদর্শবান মানুষ রূপে গড়ে তোলার চেষ্টা করা। ফলে শিক্ষার্থী ঐ মানসিকতা নিয়েই তার শিক্ষা জীবন শুরু করে। তাই শিক্ষার্জনের সাথে সাথে নিজেকে আদর্শিকভাবে বিকশিত করাও তার জীবনের অন্যতম লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়। আখেরাতের জবাবদিহিতার চেতনা তার মাঝে এভাবে বদ্ধমূল করে দেওয়া হয় যে, সে নিজেই নিজেকে আমলীভাবে গড়ে তোলার জন্য ব্যতিব্যস্ত হয়ে উঠে। হককুল্লাহ ও হুকুকুল ইবাদের চেতনায় এমনিতেই পরিশুদ্ধ হয়ে আসে তার আমল ও ব্যবহারিক জীবনের সকল কাজ কর্ম।

খাওফে ইলাহীর তাড়নায় সদা এমন ভীত ও সন্ত্রস্ত থাকে যে, তার চেহারায় ফুটে উঠে তারই আভা। ফলে শিক্ষাজীবন সমাপ্ত করে তারা যেখানেই গিয়ে বসে না কেন সেখানেই তাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠে একটি আদর্শিক ও নৈতিক পরিমণ্ডল। তার সান্নিধ্য লাভ করে বহু মানুষ অনুপ্রাণিত হয় তার নিজের জীবনকে পরিশুদ্ধ করতে।

এভাবে সমাজের উপর তাদের এক ধরনের নৈতিক প্রভাব গড়ে উঠে। সামাজিক জীবনের নীতিনির্ধারণী প্রশ্নে এমনকি সামাজিক বিচারাচারেও তাদের এই প্রভাবের প্রতিফলন ঘটে থাকে। এককালে আলেম উলামারা এদেশে সরকারী ব্যবস্থাপনার বাইরে তাদের তত্ত্বাবধানে একটি পৃথক সামাজিক বিচারব্যবস্থাও গড়ে তুলেছিলেন। যেখান থেকে কুরআন সুন্নাহর ইনসাফপূর্ণ আইনের ভিত্তিতে সামাজিক বিচারকার্য সম্পন্ন করা হত।

অবশ্য বর্তমানে একটি চিহ্নিত মহল এই সামাজিক বিচারব্যবস্থার ভীত ভেঙ্গে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে। তারা তাদের হীন উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য এসব বিচারব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এদের মূল উদ্দেশ্য সমাজের নৈতিক ও আদর্শিক ভিত ভেঙ্গে দিয়ে একটি বাধাবন্ধনহীন স্বেচ্ছাচারী সমাজ ব্যবস্থার পথে অগ্রসর হওয়া বৈ কিছু নয়।

তাছাড়া এ ধারার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নৈতিক ও আদর্শিক পরিমণ্ডল সম্পর্কে সমাজের মানস পটে এমন একটি চিত্র অংকন করে দিয়েছে যে, এধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করা কোন শিক্ষার্থী আমলী দিক থেকে সামান্য কুতাহী করলে, সুন্নতের সামান্য খেলাপ চললে যারা নিজেরা সৎজীবন যাপন করে না তারাও এটাকে সুনজরে দেখেনা। এমনকি কোন নবাগত শিক্ষার্থীর মাঝে সামান্য কুতাহী দেখলেও সমাজ এর সমালোচনা করে।

Comments

sereybd

অভিনন্দন, আপনার পোস্ট @sereybd দ্বারা কিউরেট করা হয়েছে। Serey Bangladesh কমিউনিটিতে পোস্টটি শেয়ার করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ

@mahmud552 দ্বারা ম্যানুয়ালি কিউরেট করা হয়েছে
20220913_222205.png