SOURCE
আমির খান, হোলকার খান সহ কতিপয় নেতৃবৃন্দ শেষ রক্ষার তাড়নায় এগিয়ে আসলেও তেমন সুফল হয়নি বরং পরাজিত হয়ে তাদেরকে সন্ধি-চুক্তিতে আবদ্ধ হতে হয়। এভাবেই ইংরেজরা দিল্লী দখল করে নিয়ে এ মর্মে ফরমান জারি করেন যে, এখন থেকে ভারতের প্রশাসনিক নীতি এই হবে যে, সৃষ্টি আল্লাহর, সাম্রাজ্য সম্রাটের, আর প্রশাসন ও কর্তৃত্ব চলবে কোম্পানীর।
ইংরেজরা ক্ষমতা দখল করে নেওয়ার পর এদেশের মানুষের উপর নির্যাতনের যে বিভীষিকা সৃষ্টি করে, অর্থ সম্পদ শোষণের যে দস্যুবৃত্তি তারা শুরু করে, এদেশের মানুষের শিক্ষা সাংস্কৃতি, তাহজীব তামাদ্দুনের উপর তারা যে আগ্রাসী তৎপরতা চালায় এবং ক্ষমতার আসনকে পাকা পোক্ত করার জন্য তারা যে হীন ও জঘন্য ষড়যন্ত্রের আশ্রয় গ্রহণ করে সে এক দীর্ঘ ইতিহাস। পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে লোমহর্ষক নির্যাতনের শিকার হয় এই উপমহাদেশের মানুষ। বৃটিশ বেনিয়া সাম্রাজ্যবাদীরা স্বাধীনতাকামী মানুষের উপর নির্যাতনের পাশাপাশি একদল পদলেহী খোশামুদে গোষ্ঠীও তৈরি করার প্রয়াস গ্রহণ করে; যারা সাম্রাজ্যবাদী শাসনকেই দেশবাসীর জন্য কল্যাণকর বলে প্রচার চালাতে থাকে।
উপমহাদেশের সূর্য সন্তান শাহ ওয়ালী উল্লাহ রাহ, বস্তুবাদী সভ্যতার বিধ্বংসী সায়লাব থেজে জাতিকে রক্ষা করার জন্য এবং 'মা আনা আলাইহি ওয়া আসহাবী' এর আদর্শিক চেতনাকে সমুন্নত রাখার জন্য কুরআন সুন্নাহ ও আকাবিরে দ্বীনের তাশরীহাতের আলোকে ইসলামী জীবন ব্যবস্থা ও সমাজ সভ্যতার অভিনব দর্শন পেশ করে জাতিকে যে বেগবান ও কার্যকরী কর্মসূচি উপহার দিয়েছিলেন, সেই আলোকে গড়ে উঠা আন্দোলনের দিল্লীতে তখন নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন তারই সুযোগ্য সন্তান শাহ আব্দুল আযীয রাহ. । পিতৃপ্রদত্ত কর্মসূচীর আলোকে নয়া বিপ্লবের জন্য তিনি তখন লোক গড়ে চলেছেন।
তিনি যখন এহেন পরিস্থিতি অবলোকনে অনুধাবন করতে পারলেন যে, দেশ সম্পুর্ণভাবে ইংরেজ সাম্রাজ্যবাদীদের করতলগত। তারা দিল্লীর নামে মাত্র ক্ষমতাসীন সম্রাট থেকে এই মর্মে ফরমান আদায় করেনিয়েছে যে, এখন থেকে বাদশাহ সালামতের রাজ্যে ইষ্টইন্ডিয়া কোম্পানীরই হুকুম চলবে। সেদিন (১৮০৬ খ্রীঃ) তিনি দ্বিধাহীন কণ্ঠে ফতওয়া ঘোষণা করলেন- 'ভারত এখন দারুল হরব (শত্রুকবলিত এলাকা) সুতরাং প্রতিটি ভারতবাসীর কর্তব্য হল একে স্বাধীন করা'। ফতওয়ার প্রতিক্রিয়া
দাবানল হয়ে ছড়িয়ে পড়ল এই ফতওয়ার ঘোষণা। ভ্রান্ত প্রচারণায় দ্বিধাগ্রস্থ উম্মতের অনেকেই পেয়ে গেল সঠিক সিদ্ধান্ত, কর্তব্য হল সুনিশ্চিত। জ্বলে উঠল স্বাধীনতাকামী সংগ্রামী মানুষের হৃদয়ের বহ্নিশিখা।

