পলিসি

A
arif567

 Photo Source By 
কোন মুসলমান এতে ি পোষণ করতে পারে না। কিন্তু যদি বর্তমান পরিস্থিতিতে বৃটিশ শাসনের ছত্রছ পৃথক ইসলামী রাষ্ট্রের ঘোষণা দেওয়া হয় তাহলে এটি নিঃসন্দেহে হবে একটি প্রতারণামূলক পদক্ষেপ, যা দ্বারা মূলতঃ ইংরেজ পলিসী DIVID AND RULE- এর সার্থক প্রতিফলন ঘটবে।

 এ পলিসী ইংরেজরা সর্বত্র প্রযোগ করছে। এ পলিসী প্রয়োগ করে তারা তুরস্ককে ভেঙ্গে খান খান করে দিয়েছে, আরব দেশগুলোকে টুকরো টুকরো করে দিয়েছে। বর্তমানে ভারতেও তারা সেই পলিসীই চালিয়ে যাচ্ছে। গভীরভাবে তলিয়ে দেখলে হয়তবা দেখা যাবে যে, পাকিস্তান আন্দোলনের এ প্রস্তাব লন্ডন, অক্সফোর্ড, কিংবা কেমব্রিজ থেকেই অবতীর্ণ হয়েছে। মূলতঃ এ প্রস্তাব হল ঐক্যবদ্ধ স্বাধীনতা আন্দোলনের পথকে রুদ্ধ করার এক হীনকৌশল মাত্র।

এটা ভারতবর্ষের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য এক বিরাট হুমকী, সংখ্যালঘু মুসলিম অধ্যূষিত অঞ্চলের মুসলমানদের জন্য এটা মৃত্যুর পূর্ব সংবাদ। যেসব লাভের কথা এতে দেখানো হয়েছে, তা আমাদের বোধগম্য নয়। আমরা এটুকু বুঝি যে, ঐক্যবদ্ধ স্বাধীনতার দাবীদার দু'টি শক্তির একটি শক্তি অর্থাৎ মুসলমানদেরকে হাত করার জন্য এটি একটি প্রতারণামূলক কৌশল মাত্র।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে সারা পৃথিবীতে যে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় তা ভারতীয়দের স্বাধীনতার দাবীর প্রতি বৃটিশ সরকারকে নমনীয় হতে বাধ্য করে। ফলে ১৯৪২ সালের ২৫শে মার্চে স্বাধীনতাকামীদের সাথে তাদের দাবী দাওয়ার বিষয়ে আলোচনা করার জন্য বৃটিশ সরকার স্যার ক্রীপসকে পাঠান।

এসময় সকল রাজনৈতিক দল ভারতের স্বাধীনতার রূপরেখার ব্যাপারে নিজেদের দৃষ্টি ভঙ্গির কথা মি. ক্রীপস-এর সামনে তুলে ধরে। জমিয়তে উলামাও এক্ষেত্রে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দেয়। ইতিহাসে যা 'মাদানী ফর্মুলা' নামে পরিচিত ঃ

জমিয়তে উলামা বার বার এ ঘোষণা দিয়ে আসছে যে, ভারতবর্ষের পূর্ণ স্বাধীনতাই জমিয়তের মূলদাবী। এ বিষয়ে গোটা ভারতবর্ষের মুসলমানদের ঐকমত্য রয়েছে এবং এটাকে তারা নিজেদের মুক্তির একমাত্র উপায় বলে মনে করে।

জমিয়ত একথাও স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে যে, স্বদেশের স্বাধীতার এই আবর্তে মুসলমানরা সম্পূর্ণরূপে স্বাধীন থাকবে। যে আইনের ভিত্তি এসকল বিষয়ের পূর্ণ স্বাধীনতার উপর প্রতিষ্ঠিত হবে না এমন কোন আইন মুসলমানরা কখনোই মেনে নেবে না।

Comments

ভাই জান তোমার পোস্ট টা অনেক ভালো হয়ছে