প্রভাব

A
arif567

ভারতবর্ষে শিয়াদের প্রভাব  বিচ্ছিন্নভাবে ভারতবর্ষে শিয়াদের অনুপ্রবেশ অনেক পূর্বে ঘটলেও রাজকীয়ভাবে তারা প্রতিষ্ঠার সুযোগ পায় মোঘল সম্রাট হুমায়ূনের শাসনামলে। শেরশাহের সাথে ১৫৪০ খ্রীঃ কনৌজের যুদ্ধে পরাজিত হয়ে হুমায়ূন ইরানে গিয়ে আশ্রয় গ্রহণ করেন। পারস্যের শিয়া সম্রাট তাহমান নিম্নোক্ত শর্তে তাদেরকে সাহায্য করতে সম্মত হন। ১. হুমায়ূনকে শিয়া সম্প্রদায়ের অন্তর্ভূক্ত হতে হবে, ২. ভারতে শিয়া মতবাদ প্রচারের সুযোগ দিতে হবে, ৩. কান্দাহার অঞ্চল তাকে দিয়ে দিতে হবে। অনিচ্ছা সত্ত্বেও হুমায়ূন এই সব শর্ত মেনে নেন এবং সম্রাট তাহমানের সহযোগিতায় তিনি তার হারানো রাজ্য পুনরুদ্ধার করেন।



 
Photo Source By 
ফলে স্বাভাবিক কারণেই শিয়ারা হুমায়ূনের
 দরবারে যথেষ্ট মর্যাদার আসন লাভ করে। রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতায় তারা এদেশে শিয়া মতাদর্শ প্রচারের তৎপরতায় যথেষ্ট অগ্রসর হয়ে যায় এবং বহু লোককে তারা শিয়া মতাদর্শে দীক্ষিত করে ফেলে। মীর জাফর, মীর সাদেক, সুজাউদ্দৌলা, নজফ খান প্রমুখ উচ্চ পর্যায়ের রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গও দুর্ভাগ্যক্রমে শিয়ামতাবলম্বী ছিল-যারা ইংরেজদের পৃষ্ঠপোষকতায় যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ও বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছিল।

তাছাড়া সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্যও তারা অভিনব কায়দায় প্রচারণা চালায়। এতে ইসলাম সম্পর্কে বহু বিভ্রান্তিকর বিশ্বাস, অনাচার ও কুপ্রথা সমাজে রেওয়াজ পায়। বাদশাহ হুমায়ূনের আমল থেকে রাজপৃষ্ঠপোষকতা লাভ করে এক সময় তারা যথেষ্ট প্রভাবশালী হয়ে উঠে। এমনকি এদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায়ও তারা যথেষ্ট প্রভাব ফেলতে সক্ষম হয়। শিয়াদের প্রতিরোধে উলামায়ে দেওবন্দের তৎপরতা :

শিয়াদের প্রতিরোধে এদেশের উলামায়ে হক সর্বদাই তাঁদের তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন। তবে শাহ ওয়ালী উল্লাহ রাহ.-এর যুগ থেকেই শিয়াদের জোরদার মুকাবেলা শুরু হয়। শিয়াদের বিশ্বাস ও আচার অনুষ্ঠানের বিভ্রান্তি উম্মোচন করতঃ সঠিক ইসলামী আক্বীদাহ বিশ্বাস সমাজের সামনে তুলে ধরার জন্য হযরত শাহ ওয়ালী উল্লাহ্ ‘ইযালাতুল খিফা' ও 'কুররাতুল আইনাইন' নামক দু'টি বলিষ্ঠ গ্রন্থ রচনা করেন ।

পরে তদীয় পুত্র শাহ আব্দুল আযীয রাহ. শিয়াদের যুক্তি প্রমাণ খণ্ডন করে ‘তুহফায়ে ইসনা আশারিয়্যাহ' রচনা করেন। এ গ্রন্থ রচনার কারণে শিয়া মতাবলম্বী আমীর নজফ খান তাঁর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে দিল্লী থেকে তাঁকে বহিষ্কার করে দেয়। হযরত ইসমাঈল শহীদও শিয়াদের রদ্দে ‘মানসাবে ইমামত' নামক একটি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন।

 এ সকল মনীষীদের রচনা, প্রচারণা, ওয়াজ ও বক্তৃতা দ্বারা এ দেশের বহু মানুষ শিয়া মতাদর্শ বর্জন করে পুনরায় সহীহ দ্বীনের দিকে ফিরে আসে। আলীগড়ের প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম ব্যক্তি নবাব মুহসীনুল মুলুক শিয়া মতাদর্শ বর্জন করে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের অন্তর্ভুক্ত হয়ে 'আয়াতে বাইয়্যিনাত' নামক তিন খণ্ডের বিশাল পুস্তক রচনা করে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের মতাদর্শের হক্কানিয়্যাতকে অত্যন্ত বলিষ্ঠ যুক্তি-প্রমাণের মাধ্যমে তুলে ধরেন। 

Comments

sereybd

অভিনন্দন, আপনার পোস্ট @sereybd দ্বারা কিউরেট করা হয়েছে। Serey Bangladesh কমিউনিটিতে পোস্টটি শেয়ার করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ

@shariarr দ্বারা ম্যানুয়ালি কিউরেট করা হয়েছে
20220913_222205.png