দাবীদার

A
arif567
 প্রত্যেক নতুন দাবীর প্রেক্ষিতেই তাকে উলামায়ে হকের পক্ষ থেকে অজস্র প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে। উলামায়ে হক তার দাবীর অসঙ্গতির বিষয়টি যুক্তি প্রমাণ দ্বারা তুলে ধরলে সে এসব প্রশ্ন এড়ানোর জন্য তার পূর্ব দাবী থেকে সরে গিয়ে আরেকটি নতুন দাবী করেছে। প্রতিশ্রুত মসীহ আসমান থেকে আগমন করবেন অথচ গোলাম কাদিয়ানী এসেছে মায়ের জঠর থেকে সুতরাং এটি কি করে সম্ভব হবে-এ প্রশ্ন এড়ানোর জন্যই সে এক নিজেকে ঝিল্পী নবী বা ছায়া নবী (অর্থাৎ নবীর ছায়া হিসেবে আবির্ভূত) বলে দাবী করে। কিন্তু এরূপ ঝিল্লী নবীর আবির্ভাবের কোন বর্ণনা কুরআন সুন্নায় নেই, সুতরাং এ প্রশ্ন এড়ানোর জন্য শেষ পর্যন্ত ১৯০১ সালে সে নিজেকে পূর্ণ নবী বলে দাবী করে এবং কুরআনের কতিপয় আয়াতের অর্থ বিকৃত করে তার আগমনের কথা কুরআনে উল্লেখ রয়েছে বলে দাবী করে। যেমন সুরায়ে আছ-ছাফ-এর-৬ নং আয়াতে উল্লেখ রয়েছে "স্মরণ কর, সেই সময়ের কথা যখন মারিয়াম তনয় ঈসা আ. বললেন, হে বনী ইসরাইল। আমি তোমাদের নিকট রাসূল হিসাবে আবির্ভূত হয়েছি। আমার পূর্বে যে তাওরাত গ্রন্থ রয়েছে আমি তার স্বীকৃতি প্রদানকারী, এবং আমি সুসংবাদ প্রদানকারী এমন একজন রাসূলের আবির্ভাব সম্পর্কে যে আমার পরে আসবে, যার নাম হবে আহমদ।' এই আয়াতে মূলতঃ ঈসা আ. এর ভাষ্যে নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সা. এর আগমনের সুস বাদ বিবৃত হয়েছে। কেননা নবী সা. যমীনে যেমন মুহাম্মদ নামে পরিচিত ছিলেন তেমনি আসমানে তিনি আহমদ নামে পরিচিত। কিন্তু গোলাম আহমদ কাদিয়ানী দাবী করেছে যে, এই আয়াতে তার আগমনের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে।

অনুরূপভাবে যে সব আয়াত ও হাদীসে নবী সা. কে 'খাতামুন নাবিয়ীন' বা সর্বশেষ নবী বলা হয়েছে সে সব আয়াত ও হাদীসে উল্লেখিত 'খাতাম' শব্দের অর্থ বিকৃত করে এ দ্বারা মোহরাংকিত নবী বা শ্রেষ্ঠ নবী বুঝানো হয়েছে বলে সে উল্লেখ করেছে। সে দাবী করেছে যে, তার নিকট বিভিন্ন ভাষায় ওয়াহী আসে এবং সে সব ওয়াহীতে জিহাদ রহিত করণসহ অন্যান্য বিধি-বিধান অবতীর্ণ হয়েছে। (বিস্তারিত জানার জন্য শামসুদ্দীন কাসেমী রাহ, প্রণীত 'কাদিয়ানী ধর্মমত' দ্রষ্টব্য) এছাড়াও দ্বীন ও শরীয়ত সম্পর্কে বহু মিথ্যা, আজগুবী ও উদ্ভট মন্তব্য সে করেছে। গোলাম আহমদের প্রতিরোধে উলামায়ে দেওবন্দ ও

বিভিন্ন বর্ণনা দ্বারা বুঝা যায় যে, হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজেরে মক্কী রাহ., হযরত শাহ আব্দুর রহীম রায়পুরী রাহ., হযরত কাসেম নানুতুবী রাহ. প্রমুখ মনীষীগণ এধরনের একটি ফিনা যে আত্মপ্রকাশ করবে তা ইলহামের মাধ্যমে পূর্ব থেকেই অবগত হতে পেরেছিলেন।

গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর আত্মপ্রকাশের পর তার বাড়াবাড়ি সম্পর্কে সর্ব প্রথম লুধিয়ানার আলেম উলামাদের দৃষ্টি পড়ে।

Comments

sereybd

অভিনন্দন, আপনার পোস্ট @sereybd দ্বারা কিউরেট করা হয়েছে। Serey Bangladesh কমিউনিটিতে পোস্টটি শেয়ার করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ

@shariarr দ্বারা ম্যানুয়ালি কিউরেট করা হয়েছে
20220913_222205.png