Photo Source By
মদীনায় মসজিদে নববীর পাশে বসে হাদীসের দরস দানের বদৌলতে ভারতের মাটিতে পা দেওয়ার সাথে সাথেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাঁকে হাদীসের শিক্ষক হিসাবে পাওয়ার জন্য উদগ্রীব ছিল। বোম্বাই-এ সংবর্ধনা দিতে এসে আমরুতা জাে মসজিদ সংলগ্ন মাদ্রাসার মুহতামিম মাও. হাফেজ জাহীদ হাসান সাহেব সেখানেই হযরত মদনীকে তার মাদ্রাসায় সদরুল মুদাররেসীন হিসাবে নেওয়ার প্রস্তাব করেন।
হযরত শায়খুল হিন্দ এ প্রস্তাব সমর্থন করেন ও সেখানে যাওয়ার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিয়ে দেন। এ দিকে দারুল উলূম দেওবন্দের মুহতামিম হযরত হাফেজ আহমদ সাহেব এ সংবাদ জানতে পেরে শায়খুল হিন্দ রাহ. কে জানালেন যে, দারুল উলুমে হযরত মাদানীকে পূর্ব থেকেই নিয়োগ দানের সিদ্ধান্ত হয়ে আছে। কিন্তু শায়খুল হিন্দ আমরুহায় যাওয়ার বিষয়টিকে প্রাধান্য দেন।
কিছুদিন ইউ. পি. তে সফর ও রাজনৈতিক সভা সমাবেশে অংশগ্রহণ করার পর শাওয়াল মাসে হযরত মদনী রাহ. আমরুহায় গমন করেন এবং নিয়মিত দরস দিতে শুরু করেন। কিন্তু দু' মাস পর অর্থাৎ মুহাররম মাসে শায়খুল হিন্দ রাহ. তাকে দেওবন্দ চলে আসার জন্য সংবাদ পাঠান। কিন্তু আমরুহার মুহতামিম সাহেব অন্য একজন শিক্ষক নিয়োগ করা পর্যন্ত তাকে রাখার অনুমতি চাইলে খায়খুল হিন্দ সম্মত হন। কিন্তু ইতিপূর্বে শায়খুল হিন্দ ইংরেজদের সহযোগিতা না করার জন্য যে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন, সে ডাকে সাড়া দিয়ে আলীগড়ের ছাত্ররা সরকারী ইউনিভার্সিটি বয়কট করে এবং একটি স্বাধীন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার জন্য বিরাট কনফারেন্স আহ্বান করে।
হযরত শায়খুল হিন্দ ছিলেন তার সভাপতি। এ সময় শায়খুল হিন্দ হযরত মদনীকে আমরুহা হতে সরাসরি আলীগড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন। অগ্যতা তিনি আলীগড়ে চলে যান। সম্মেলন শেষে 'জামিয়া মিল্লিয়া'র উদ্বোধন করতঃ শায়খুল হিন্দ দিল্লীতে ফিরে আসেন। হযরত মদনীও তার সাথে দিল্লী চলে আসেন। ঠিক এহেন মুহূর্তে (১৯২০ সালের নভেম্বরে) মাও. আব্দুল্লাহ মিশরী মাওঃ আবুল কালাম আযাদের পক্ষ থেকে এই বার্তা নিয়ে শায়খুল হিন্দের নিকট আগমন করেন যে, 'কলকাতা আলীয় মাদ্রাসার ছাত্ররাও সরকারী মাদ্রাসা বর্জন করেছে এবং কলকাতার নাখুদা মসজিদে মাও. আব্দুর রাজ্জাক মালিহাবাদীকে প্রধান শিক্ষক করে একটি স্বাধীন কওমী মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এখানে একজন যোগ্য আলেমের প্রয়োজন। সুতরাং একজন যোগ্য ব্যক্তিকে প্রেরণ করুন।" হযরত শায়খুল হিন্দ হযরত মদনী রাহ. কে সেখানে যাওয়ার নির্দেশ দেন।
এদিকে ১৯২০ সালের ১৯,২০,২১ শে ডিসেম্বর দিল্লীতে হযরত শায়খুল হিন্দকে সভাপতি ঘোষণা করে জমিয়তে উলামার এক কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। শারিরীক অসুস্থতার কারণে তিনি তাতে ভাষণ দিতে পারেননি। তবে তার পক্ষ থেকে "অসহযোগ” শিরোনামে একটি লিখিত ভাষণ হযরত মাওলানা শাব্বীর আহমদ উসমানী রাহ পাঠ করে শুনান। হযরত মদনী এ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

