Photo Source By
মনোনয়নের ক্ষেত্রে তাদের মর্জিই প্রবল হয়ে কাজ করবে। জিন্নাহ বললেন, 'পার্লামেন্টারী বোর্ড গঠনের দায়িত্ব আমার উপর থাকবে। আমি বোর্ডটি এমনভাবেই গঠন করব যাতে স্বাধীনতাকামী জাতিসংগঠক দলগুলোর প্রার্থী অধিক হারে মনোনয়ন পেতে পারে। জিন্নার এ কথায় আশ্বাহ হয়ে নেতৃবৃন্দ একটি অঙ্গীকারপত্র তৈরি করেন। সে অঙ্গীকারপত্রে নিম্নোক্ত ধারাগুলো উল্লেখ করা হয়ে ছিল।
এই নির্বাচনী প্যানেল মুসলিম লীগ পার্লামেন্টারী বোর্ড নামে কাজ করবে। (খ) প্রার্থী মনোনয়ন ও বোর্ড গঠনের দায়িত্ব এককভাবে মিষ্টার জিন্নার হাতে থাকবে।
এই প্যানেল নীতিগতভাবে কমিউন্যাল আইওয়ার্ড সম্বলিত দফাগুলো ছাড়া শ্বেত পত্রের সকল দফার বিরোধীতা করবে।
সরকারের কঠোর দমন নীতির নিন্দা জ্ঞাপন করতঃ কঠোর শাসন নীতি রহিত করনের জোর তৎপরতা চালানো হবে। ঐ সকল বিলের স্পষ্ট বিরুদ্ধাচরণ করতে হবে, যা ভারতবর্ষের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, অর্থনৈতিক স্বার্থ ও উন্নয়নের পরিপন্থী হবে।
ধর্মের সঙ্গে জড়িত বিষয়াদির ক্ষেত্রে আলেম উলামাদের সিদ্ধান্ত মুতাবিক মতামত গ্রহণ এবং তাদের দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে সংসদে উত্থাপিত কোন বিলের সমর্থন করা বা না করার নীতি মেনে চলতে হবে ।
ভারতবর্ষের উলামায়ে কিরাম যে সকল খসড়া আইন পার্লামেন্টে পেশ করার প্রয়োজন বোধ করবে, সেগুলো পার্লামেন্টে পেশ করতঃ পাশ করিয়ে নেওয়ার জন্য পূর্ণ প্রচেষ্টা চালাতে হবে এবং পার্লামেন্টে গৃহীত ধর্ম সম্পৰ্কীয় সিদ্ধান্তাবলী শরীয়ত সমর্থিত কিনা এ ব্যাপারে আলেম উলামারা যে সিদ্ধান্ত দিবেন, তা মেনে চলতে হবে।
সে অঙ্গীকারপত্রে একথাও ছিল যে, যদি লীগ এসকল বিষয় পালন করতে অসম্মত হয় তাহলে জমিয়তে উলামা লীগকে কোনরূপ সাহায্য সহযোগিতা করবে না।
উপরোক্ত শর্তাবলীর ভিত্তিতে মুসলিম লীগ পার্লামেন্টারী বোর্ড গঠিত হয়। নির্বাচন ছিল একেবারেই সন্নিকটে, অতএব বিলম্ব না করে সকলেই নির্বাচনী যুদ্ধে নেমে পড়লেন। অবশ্য মিঃ জিন্না প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে তার অঙ্গীকার মোটামোটি রক্ষা করেছিলেন, জমিয়তে উলামার ২০ জন প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। অন্যান্য দল থেকেও কয়েকজন প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল।
নির্বাচনী প্রচারণা ও মুসলিম লীগ আলেম-উলামাদের সারাদেশ ব্যাপী ধর্মীয় সূত্রে একটি নেটওয়ার্ক এমনতিই থাকে, যার ফলে জমিয়তে উলামার পরিচিতি সারাদেশ ব্যাপী এমনিতেই ছড়িয়ে পড়ে।

