আদর্শ

A
arif567
 
Photo Source By 
শুধুমাত্র দলীয় আদর্শের প্রতীক হিসাবে একজন প্রার্থী দেওয়াই নির্বাচনে অংশ গ্রহণের উদ্দেশ্য ছিল। নির্বাচনে যেভাবেই হোক আইউব খান বিজয়ী হয়েছিলেন।

নির্বাচনের পর জমিয়তে উলামার কেন্দ্রীয় কমিটি পূর্ব পাকিস্তানে তাদের সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেন। যেহেতু পূর্ব পাকিস্তানের আলেম উলামাদের অধিকাংশই তখন নেযামে ইসলাম পার্টির নামে কাজ করে যাচ্ছিলেন, এবং নেযামে ইসলাম একটি পৃথক দলের রূপ গ্রহণ করে ফেলেছিল, একারণে উলামায়ে ইসলাম নামে পূর্ব পাকিস্তানে নতুন করে সংগঠন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। যেহেতু মাও. আতহার আলী তখন রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অনেকটা নিষ্ক্রিয় পালন করছিলেন; একারণে নেযামে ইসলাম তখন মাও মুসলেহ উদ্দিন, খতীবে আযম মাও. সিদ্দিক আহমাদ, চৌধুরী মুহাম্মদ আলী ও এডভোকেট ফরিদ আহমদের নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছিল। ১৯৬৩ সালে নেযামে ইসলামের যে দলীয় নির্বাচন হয় তাতে চৌধুরী মুহাম্মদ আলী সভাপতি ও এডভোকেট ফরীদ আহমদ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

এতে নেযামে ইসলামে উলামায়ে কিরামের নেতৃত্ব বলতে গেলে অবশিষ্ট থাকেনি। অপর দিকে আব্দুল্লাহ দরখাস্তী ও গোলাম গাউস হাজারভীর নেতৃত্বে জমিয়তে উলামা বেশ চাঙ্গা হয়ে উঠে। তারা পূর্ব পাকিস্তানে জমিয়তে উলামার সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করার উদ্যোগ নেয়। ফলে ১৯৬৬ সালের ১৬ই মার্চ ঢাকার নবাব বাড়ীতে পূর্ব পাকিস্তানের উলামায়ে কিরামের এক সম্মেলন আহ্বান করা হয়। উক্ত সম্মেলনে মাও. আব্দুল করিম শায়খে কৌড়িয়াকে সভাপতি ও মাওঃ শামসুদ্দীন কাসেমী কে সাধারণ সম্পাদক করে জমিয়তে উলামার নতুন কমিটি গঠন করা হয়। তারা নব উদ্যমে কাজ কর্ম শুরু করেন। এর ফলে উভয় পাকিস্তানেই জমিয়তে উলামার নেতৃত্ব চলে যায় সাবেক জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সমর্থক আলেমদের হাতে। বিষয়টি পাকিস্তান সমর্থক আলেমগণ সহজভাবে গ্রহণ করতে পারেননি। ফলে তাঁরা তাদের দলকে পুনঃসচল করার চেষ্টা করেন। মাওঃ আতহার আলী তখন পাকিস্তান সফরে যান। এবং পাকিস্তান সমর্থক আলেম উলামাদের নেতৃত্বে জমিয়তে উলামাকে পুনরায় তৎপর করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন । মুফতী শফী, মাওঃ জাফর আহমদ উসমানী, মাওঃ এহতেশামুল হক থানভী প্রমুখ উলামায়ে কিরামের সমন্বয়ে নতুনভাবে সাংগনিক তৎপরতা শুরু করার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু জমিয়তে উলামা নামে কাজ করা তাদের জন্য অসুবিধা জনক হয়ে পড়ে। কেননা এই নামে পূর্ব থেকেই যে দল কাজ করে যাচ্ছিল তারা তখন যথেষ্ট গতিশীল ছিল। ফলে ১৯৬৭ ইং সালে করাচীতে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে পার্টির উভয় পাকিস্তানের নেতৃবৃন্দের সম্মতিতে নামের ক্ষেত্রে ভিন্নতা সৃষ্টির প্রয়োজনে নিজেদের দলের নাম মারকাযী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ও নেযামে ইসলাম পার্টি রাখার সিদ্ধান্ত হয় 

Comments

পোস্ট অনেক ভালো হয়ছে