Photo Source By
সকল বিষয়ের পূর্ণ ক্ষমতা ও ইখতিয়ার প্রদেশগুলোর হাতেই ন্যস্ত থাকবে। আর কেন্দ্রীয় সরকার কেবল ঐ সমস্ত বিষয়েরই অধিকার লাভ করবে, যেগুলো সকল প্রদেশের ঐকমত্যের ভিত্তিতে কেন্দ্রের উপর ন্যস্ত করা হবে এবং তা সকল প্রদেশের উপরই সমানভাবে কার্যকর হবে।
জমিয়াতে উলামায়ে হিন্দের দৃষ্টিতে স্বাধীন প্রদেশগুলোর রাজনৈতিক ঐক্য একান্ত অপরিহার্য এবং এটা দেশের জন্য কল্যাণকরও বটে। কিন্তু তা এমন রাজনৈতিক ঐক্য ও কেন্দ্রীয় শাসন ব্যবস্থা না হতে হবে যাতে নিজস্ব কৃষ্টি ও সংস্কৃতির ধারক নয়কোটি মুসলমানকে কোন সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায়ের দয়া-দাক্ষিণ্যের উপর জীবন যাপন করতে হয়।
এ হেন ঐক্য এক মুহূর্তের জন্য বরদাশত করা হবে। না বরং কেন্দ্রের প্রশাসনিক অবকাঠামো এমন কিছু নীতিমালার উপর প্রতিষ্ঠিত হওয়া অত্যবশ্যকীয় যাতে মুসলমানরা নিজেদের ধর্মীয়, রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার ক্ষেত্রে পূর্ণ আশ্বস্ত থাকতে পারে।
স্যার ক্রীপস রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনার পর এরূপ একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, শুধুমাত্র প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বৃটিশ সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন থাকবে, আর অন্য সকল বিষয়ে স্বাধীনতাকামীদের দাবী দাওয়া মেনে নেওয়া হবে। তবে বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে।
ঠিক এই সময়ে ২০, ২১, ২২ মার্চ-১৯৪২ ইং হযরত মদনী রাহ.-এর সভাপতিত্বে জমিয়তে উলামার বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সম্মেলনে সভাপতির ভাষণে হযরত মদনী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কতগুলো বিষয়ের উপর আলোকপাত করেন।
বিশ্বযুদ্ধ সম্পর্কে তিনি বলেন, এ যুদ্ধ ভারত থেকে অনেক দূরে চলছে। কিন্তু কুচক্রী ইংরেজরা ভারতকে এ যুদ্ধের সাথে জড়িয়ে ফেলার চেষ্টা করছে। অথচ এ যুদ্ধ চলাকালে বৃটিশ সরকার তার অধীনস্থ অন্যান্য সাম্রাজ্যগুলোকে আপন আপন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দিয়েছে, কিন্তু ভারতবর্ষকে সে সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি 'আটলান্টিক চার্টার' চুক্তির কথা উল্লেখ করে বলেন যে, এই বিশ্ব পরিকল্পনার আওতায় বৃটিশ সরকারও তার অধীনস্থ অসহায়, স্বাধীনতা বঞ্চিত মানুষের জন্য স্বাচ্ছন্দ্য ও স্বাধীনতা প্রদানের চিত্তাকর্ষক অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছিল।
ফলে ভারতবাসীও আশা করছিল যে, এই চুক্তির অঙ্গীকার মোতাবিক তারাও স্বাধীনতা লাভ করতে পারবে। কিন্তু ১৯৪১ সালের সেপ্টেম্বর মি. চার্চিল এ কথা পরিস্কার করে দিয়েছেন যে, ভারতবাসীরা যদি এই চার্টারের অঙ্গীকার মুতাবিক তাদের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের আশা করে থাকে তাহলে। তাদের জন্য নিষ্ফল আশা হবে।


ভাই জান তোমার লেখা টা অনেক ভালো হয়েছে