Photo Source By
হযরত বলেন এ জন্যই জমিয়ত মনে করে যে, মিস্টার ক্রীপসের সাথে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে আলোচনা করতে হবে। কারণ ওরা আমাদেরকে বারবার ধোঁকা দিয়েছে। আমরা আমাদের স্বাধীনতার অভীষ্ট লক্ষ্য থেকে কখনই পিছপা হতে চাই না। অত্যাচারী জালেমের সম্মুখে মাথা নত করতে আমরা কখনই প্রস্তুত নই।
দেশে বিরাজমান সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার উপর আলোকপাত করতে গিয়ে তিনি বলেন- এটা মূলতঃ ইংরেজ পলিসিরই পরিণতি । অন্যথায় দীর্ঘকাল যাবৎ এদেশে হিন্দু মুসলমান মিলেমিশে বাস করে আসছে, কখনই তাদের মাঝে এরূপ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছিল না।
তিনি আরো বলেন যে, যদিও এদেশে দীর্ঘদিন মুসলমানরা রাজত্ব করেছে, কিন্তু সে সময় হিন্দুরাও বড় বড় সরকারী পদে নিয়োজিত ছিল। একথা বলতে দ্বিধা নেই যে, ভারতবর্ষের স্বাধীনতা রক্ষা ও সমাজ পুনর্গঠনে মুসলমানদের অবদান অনেক বেশি। এদেশে মুসলমানের সংখ্যা নয় থেকে দশ কোটি। সভ্যতা ও সাংস্কৃতিক বিকাশে মুসলমানদের ভূমিকাই অগ্রগণ্য। তারা সারা দেশেই ছড়িয়ে রয়েছে। মোট ১১টি প্রদেশের মাঝে ৪টিতে তারা সংখ্যা গরিষ্ঠ। ভবিষ্যত পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রদেশের সংখ্যা ১৩তে উন্নতি করা হলেও ৬টিতে মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠতা সৃষ্টি হবে।
এই পরিস্থিতিতে যদি মুসলমানদের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বলে গণ্য করা হয় তাহলে মারাত্মক ভুল করা হবে। বৃটিশের অনুগ্রহ ছাড়া জীবন ধারণ দুষ্কর হবে- মুসলমানরা কি এখনও এই বিভ্রান্তিতে থাকবে? কখনই না, মুসলমান হয়ত নিজেদের ধর্মীয় স্বাধীনতা, আদর্শ ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা নিয়ে বেঁচে থাকবে, অন্যথায় গোলামীর জীবন অপেক্ষা মৃত্যুকেই প্রাধান্য দিবে।
স্বাধীন ভারতের রূপরেখা সম্পর্কে রাজনৈতিক দলগুলোর দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি আলোকপাত করতে গিয়ে তিনি বলেন, একদল এরূপ চিন্তাভাবনা করছে যে, স্বাধীনতার পর এদেশের ক্ষমতা সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুদের হাতেই থাকবে। আরেক দলের চিন্তাভাবনা এর সম্পূর্ণ বিপরীত।
তারা সর্বভারতীয় ঐক্যকে ভেঙ্গে দিয়ে প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য পৃথক ভূ-খণ্ডের দাবী উত্থাপন করছে, আর এই ভাগ বণ্টনের দায়িত্ব তারা বৃটিশ সরকারের হাতেই ন্যস্ত করতে চাচ্ছে। স্বতন্ত্র পাকিস্তানের দাবী তারা বেশ জোরেশোরেই প্রচার করছেন। কিন্তু তারা কি চিন্তা করে দেখেছেন যে, ভারতের প্রত্যেক প্রদেশেই রয়েছে মুসলমানদের অধিবাস, রয়েছে তাদের ধর্মীয় পবিত্র স্থান- মসজিদ, মাদ্রাসা, খানকা ও বিস্তর ওয়াকফ সম্পত্তি।
হাজার বছরে গড়ে উঠা এইসব ঐতিহ্য যা তিলে তিলে গড়ে উঠেছে— তা ছেড়ে যাওয়া কি সম্ভব? সেদিন তিনি যেন ভবিষ্যৎ সম্পর্কে চাক্ষুস দেখে দেখে বলছিলেন যে, 'পাকিস্তান আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের যে দৃষ্টিভঙ্গি তাতে ইসলামের দোহাই দিয়ে অর্জিত ভূ-খন্ডের শাসন ব্যবস্থা কখনই ইসলামী শাসন ব্যবস্থা হবে।


You Must Join Our Discord Channel: https://discord.gg/EwHKnZYa