দ্বিনী ইলাহের নীতি

A
arif567
 দ্বীনে ইলাহীর কতগুলো নির্ধারিত রীতিনীতি ছিল। যথাঃ (১) এ ধর্মের কলেমা ছিল "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আকবার খলীফাতুল্লাহ।" (২) জন্মবার্ষিকী পালন এবং বিভিন্ন উৎসবে স্বধর্মীদের ভোজের আমন্ত্রণ করতে হত। দ্বীনে ইলাহীর রীতিনীতি ও (৩) তার অনুসারীরা পরস্পর সাক্ষাৎকালে নতুন প্রথায় সম্ভাষণ করত। প্রথম ব্যক্তি বলত, “আল্লাহু আকবার" দ্বিতীয় ব্যক্তি "জাল্লা জালালুহু" বলে প্রতি উত্তর দিত (৪) মদ, জুয়া, ও সুদ এ ধর্মে বৈধ ছিল। (৫) সম্রাট আকবরকে সিজদা করা ও দাঁড়ি মুণ্ডনকে বৈধ মনে করা হত। (৬) পর্দা প্রথাকে রহিত করা হয়েছিল এবং কেউ মুসলমান হতে পারবে না এমর্মে নির্দেশ জারী করা হয়েছিল। (৭) কসাই, জেলে প্রভৃতি নিম্নজাতের লোকদের সাথে মেলামেশা পরিহার করার নির্দেশ ছিল (৮) অগ্নিকে পবিত্র মনে করা হত এবং সব ধর্মকে শ্রদ্ধা প্রদর্শন করার বিধান ছিল। (৯) ইসলামের চতুর্থ স্তম্ভ যাকাতের বিধান রহিত করা হয়েছিল। (১০) শুকর এবং কুকুর নাপাক হওয়ার হুকুম রহিত করা হয়েছিল। (১১) ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভ হজ্জব্রত পালন নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। (১২) হিন্দুদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করাকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। এক কথায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে হিন্দুদের প্রথা অনুসরণ করা হত। এগুলো ছাড়া দ্বীনে ইলাহীর অনুসারীদের জন্য আরো অনেক আচার অনুষ্ঠান রীতিনীতি পালন করতে হত। যারা এধর্মের অনুসারী ছিল তাদেরকে চারটি জিনিস যথা- ধন, জীবন সম্মান ও ধর্ম সম্রাটের জন্য উৎসর্গ করতে হত। উপরোক্ত আলোচনার দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, বাদশাহ আকবরের প্রচারিত “দ্বীনে ইলাহী”-এর কারণে উপমহাদেশ থেকে সত্যিকার দ্বীন ইসলাম চিরতরে বিদায় নিতে যাচ্ছিল। কিন্তু আল্লাহ পাক তাঁর চিরন্তন নিয়মের আওতায় বাতিলের বিরুদ্ধে হক্কের পাতাকা সম্মুন্নত রাখার জন্য কাউকে না কাউকে পাঠিয়ে থাকেন। যেখানে ফেরাউন ছিল, সেখানে হাতে লাঠি দিয়ে পাঠিয়েছেন মুসা আ. কে, আবু জেহেল, উতবা ও শায়বার বিরুদ্ধে হিদায়াতের যাদুকরী বাণী দিয়ে পাঠালেন সরওয়ারে দু আলম সা. কে। ঠিক তেমনি আকবরের ভ্রান্ত আকীদা ও ধর্মমতকে ভেঙ্গে চুরমার করে দেওয়ার জন্য পাঠালেন হযরত শায়েখ আহমাদ সেরহিন্দী মুজাদ্দিদে আলফে সানী রাহ. কে।

Comments