বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
আলোচনা করতে ছিলাম দাড়ি সম্পর্কে আলোচনা করব আল্লাহতালা তৌফিক দান করুন আমিন।
দাড়ি পুরুষত্বের পরিচয় ।দাড়ি আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে পুরুষের জন্য এক বড় ও মহান নেয়ামত দ্বারা তিনি পুরুষকে অনুগৃহীত করেছেন ।এবং নারী জাতি থেকে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন পুরুষত্বের পরিচয় প্রদান করে তার সৌন্দর্যকে প্রস্ফুটিত করেছেন ।
কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো অধিকাংশ পুরুষ কাপুরুষতা ও বিবেকহীন তার পরিচয় দিয়ে দাঁড়ি ফেলে নিজেদেরকে নারীদের কাতারে নিয়ে দাঁড় করায়। ভাবতে অবাক লাগে কিভাবে তারা সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর দেয়া এই মহান নেয়ামতের সন্তুষ্ট না হয় তা পরিবর্তন করে নিজেদেরকে নারী জাতির সাথে সাদৃশ্য করতে চায় ।ইসলামের শত্রুদের সাথে নিজেদেরকে মিলাতে যায় আর ধারণা করে যে এতে রয়েছে অধিক সুন্দর্য ও ব্যক্তিত্ব।
ভাবখানা এমন যেন দাড়ি সেভ না করলে পুরুষের সৌন্দর্য ও ব্যক্তিত্ব ফুটে উঠে না ।পুরুষকে দাঁড়ি দিয়ে যেন আল্লাহ পাক বিপদে করেছেন নাউজুবিল্লাহ ।তাই সেই ভুল শুধরাতে তারা যেন মহা ব্যস্ত হয়ে পড়েছে নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক অধিক জ্ঞান রাখেন। দাড়িহীন যদি সুন্দর হতো তবে তা করতে আল্লাহ তাআলা ছিলেন কিন্তু তিনি জানেন যে দাড়ির মধ্যেই পুরুষের সৌন্দর্য ও বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান তাই তিনি দাড়ির মাধ্যমে পুরস্কারে সম্মানিত ও মর্যাদা করেছেন। পার্থক্য করেছেন নারীদের থেকে।
কিন্তু মেয়েলি স্বভাব ও কাপুরুষের মনোভাব নিয়ে বেড়ে ওঠা কতিপয় নামধারী পুরুষ দাড়ি শেভ করে পুরো পুরুষ জাতির ওপর কলঙ্কের তিলক এঁকে দিচ্ছে ।সর্বনিম্ন এক মুষ্টি দাড়ি রাখা ওয়াজিব। যাদের দাড়ি বড় হয় তাদের জন্য সর্বনিম্ন এক মুষ্টি পরিমাণ দাড়ি রাখা ওয়াজিব ।কেটে ছোট করে রাখা বা সেভ করা হারাম ও কবীরা গুনাহ।
চার মাযহাবের ইমামগণ ঐক্যমত্য পোষণ করেছেন আর দাড়ি না রাখার গুনা গুনা সর্বদাই হতে থাকে। এমনকি গুম ও নামাজ রত অবস্থায় ও গুনাহ হতে থাকে। আর যদি কেউ তাকে অপছন্দ করে অথবা দাড়ি নিয়ে ঠাট্টা বিদ্রুপ করে কিংবা দাড়িওয়ালা লোক কে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে তবে সে ইসলাম থেকে বহিস্কৃত হয়ে কুফরীতে লিপ্ত হয়। এবং মুরতাদ হয়ে যায় ।
দাড়ি শেভ করা আল্লাহর সৃষ্টিকে বিকৃত করার নামান্তর । দাড়ি রাখা সকল নবী রাসূলের সুন্নাত অভ্যাস ও ধর্মীয় রীতি স্বাস্থ্যের জন্য দাড়ি বহু উপকারী ।দাড়ি যে শুধু ধর্মীয় বিধান তা কিন্তু নয় স্বাস্থ্যের জন্যও দাড়ি বহু উপকারী চিকিৎসা ।বিজ্ঞানের মতে যদি দাড়ি শেভ করা হয় তবে মস্তিষ্ক দুর্বল হয়ে পড়ে, চোখের দৃষ্টি কমে যায় ,যৌন শক্তি কমে যায় ,।
দাড়ি রাখলে মস্তিষ্ক সুস্থ, থাকে দৃষ্টিশক্তি ভালো থাকে ,যৌন শক্তি অটুট থাকে ,মাথার চুল রাখা যদি বড় হয় তাহলে মুখের দাড়ি কে অসহ্য লাগে কেন ?মাথায় টাক পড়লে কত চিন্তা তা ছাড়ানোর চেষ্টা চুল গজানোর। অথচ দেহের প্রধান আকর্ষণ চেহারাকে বানায় সম্পূর্ণ নিজ ইচ্ছায় এরচেয়ে নির্লিপ্ত আর কি হতে পারে।
একটু ভেবে দেখুন মানুষের হায়াত মওতের কথা বলা যায় না। আল্লাহ না করুন যদি দাড়ি বিহীন অবস্থায় কারো মৃত্যু হয় তাহলে হাশরের ময়দানে আল্লাহর রাসূলের সামনে দাঁড়াবেন কোন মুখ নিয়ে। মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন উম্মত বলে পরিচয় দিবেন ?হাউজে কাউসারের পানি পান করাবেন নেয়ার জন্য সুপারিশ করবেন তখন যদি তিনি বলেন তুমি আমার উম্মত না। যদি আমার উম্মত হতে তবে আমার আদর্শের প্রতীক তোমার মুখে থাকত আমার সামনে থাকে তাহলে কি করবেন কোথায় যাবেন দয়া করে ঠান্ডা মাথায় একটু চিন্তা করে দেখুন ।
দাড়ি শেভ করা বা এক মুষ্টির কম রাখা শুধু শরীয়ত থেকে মুখ ফেরানো নয় বরং তা মানব প্রকৃতি ও সুস্থ গানের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার সমতুল্য। সুতরাং এক মুষ্টি পরিমাণ দাড়ি রাখা প্রতিটি পুরুষের একান্ত আবশ্যক আল্লাহ সবাইকে বুঝার এবং আমল করার তাওফীক দান করুন আমীন।
বন্ধুরা আজকে পর্যন্ত। সকলে আমার জন্য দোয়া করবেন। আমরা সকলের জন্য দোয়া করি সকলের সুস্বাস্থ্য কামনা করে আজ কে এখানে শেষ করছি ।আসসালামুআলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ।

