কিছু কথা

A
arif567
হত্যার ভয় দেখিয়ে অবদমিত করা যায় না। চেতনার বহ্নিকে রোধ করা যায় না। কারারুদ্ধ করেও। সম্রাটের ক্রোধ, দরবারীদের আক্রোশ, দুর্গের প্রস্তর প্রাচীর ঘেরা অন্ধকার প্রকোষ্ঠের বন্দিতৃ কোন কিছুই অবদমিত করতে পারল না মুজাদ্দিদে আলফে সানীকে। তিনি দুর্গে বন্দী অন্যান্য লোকদের মাঝে প্রচার করতে শুরু করলেন ইসলামের অমিয়বাণী। ইসলামের সঠিক ধ্যান-ধারণা ও চিন্তা-চেতনার কথা ব্যাখ্যা করে বুঝালেন তাদেরকে। তাঁর কুরআন ও সুন্নাহ ভিত্তিক বলিষ্ঠ উপস্থাপনা ও চরিত্র মাধুর্যে মুগ্ধ হয়ে দলে দলে কয়েদী তাঁর হাতে বায়'আত গ্রহণ করতঃ সংস্কারবাদী এই চেতনার দীক্ষা গ্রহণ করতে শুরু করল। চোর, ডাকাত, ব্যভিচারাসক্ত মদ্যপ, ঘাতক, খুনী লুটেরা সব ধরনের কয়েদী তাঁর শিষ্যত্ব গ্রহণ করে অল্পদিনেই পাল্টিয়ে ফেলল জীবনের গতিধারা। জিন্দানখানা পরিণত হল ইবাদাত খানায়। তাঁকে জেলে বন্দী করার কারণে সারা দেশে এর প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং তাকে মুক্ত করার জন্য শুরু হয় দুর্বার আন্দোলন। দু'বছর কেটে গেল জিন্দান খানায়। দুর্গপতি সম্রাটকে লিখে পাঠালেন, 'নবাগত এই বন্দীর প্রভাবে এখানকার পশুগুলো মানুষে আর মানুষগুলো ফেরেশতায় পরিণত হয়ে যাচ্ছে।' রিপোর্ট পাঠে সম্রাট ঘাবড়ে গেলেন, অভিভূতও হলেন এবং সাথে সাথেই তাঁকে মুক্তি দিয়ে সসম্মানে দিল্লী নিয়ে আসার হুকুম দিলেন। যুবরাজ শাহজাহানকে পাঠানো হল তাঁকে সংবর্ধনা দিয়ে এগিয়ে আনার জন্য। দরবারে পৌঁছলে সম্রাট নিজেই তাঁকে স্বাগত জানালেন। কিন্তু পূর্বের ন্যায় আবারও সিজদা কিংবা কুর্ণিশের পরিবর্তে শেখ আহমদের তেজদ্বীপ্ত কণ্ঠে ধ্বনিত হল 'আসসালামু আলাইকুম'। রাজ অতিথি হিসাবে দরবারে আসার এ সুযোগকে তিনি কাজে লাগালেন তাঁর সংস্কার আন্দোলনের পক্ষে। সম্রাটের সঙ্গে তিনি মতবিনিময় করলেন এবং তিনি সম্রাটকে রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সকল অনাচারের অশুভ পরিণতি সম্পর্কে হুঁশিয়ার করে দিলেন।

Comments