সূফীবাদ
এছাড়াও সূফীবাদের অনুসারীরা মুহিউদ্দিন ইবনুল আরাবীর মারিফত (আল্লাহর পরিচয়) সংক্রান্ত “ ওয়াহদাতুল উজুদ" এর দর্শন আমদানী করে ব্যাপকভাবে তার চর্চা শুরু করেছিল। যার সারকথা ছিল: বিশ্ব চরাচরের সকল বস্তু এক একটি একক শক্তি। আর এই একক শক্তিগুলোর সামষ্টিক রূপই হল আল্লাহ। যার অর্থ দাঁড়ায়; আল্লাহ একটি সামষ্টিক একক। আর পৃথিবীর সকল বস্তুই তার এক একটি ক্ষুদ্র একক। এই একক গুলোর বাইরে আল্লাহর পৃথক কোন অস্তিত্ব নেই। এ কারণে সূফীগণ তখন বলতেন সর্বত্রই তাঁর অস্তিত্ব বিদ্যমান। এরা আবার তকদীরের ব্যাপারে এই বিশ্বাসে বিশ্বাসী ছিল যে, জগতের সব কিছুই বস্তুর প্রভাবে হয়। আর সব বস্তুই যেহেতু ইশ্বরের একক, অতএব বলা যায় সব কিছুই ইশ্বর থেকেই ঘটে। এ কারণে তারা সর্বেশ্বরবাদী বিশ্বাসে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। মুজাদ্দিদে আলফে সানী এরও সংস্কার করেন। তিনি এই 'ওয়াহদাতুল উজুদ এর ধারণা প্রত্যাখ্যান করে 'ওয়াহদাতুশ শুহুদ' এর ধারণা সাধারণ্যে প্রচার করেন। যার সার অর্থ ছিল সকল সৃষ্টিই এক শ্রেণীভূক্ত। অর্থাৎ তাঁরা কেউই স্রষ্টা না, বরং সকলেই অন্য কর্তৃক সৃষ্ট। আর স্রষ্টা তার পৃথক অস্তিত্ব নিয়ে বিরাজমান। সৃষ্টি তাঁর স্রষ্টাকে একত্রিত করে সূফীরা যেখানে 'সর্বত্রই তিনি' বলে শ্লোগান দিচ্ছিল, তিনি সেখানে “সর্বত্রই তিনি নয়” বরং Easy if a “সবকিছুই তাত্থেকে সৃষ্ট” এই শ্লোগান শুনিয়ে দিলেন। এভাবে আধ্যাত্ম সাধনার স্তর বিন্যাস করে কোন স্তরের কি হাল হয় তা সবিস্তারে বর্ণনা করে দিয়ে একদিকে যেমন তিনি সাধকদেরকে বিভ্রান্তির হাত থেকে রক্ষা করার প্রয়াস গ্রহণ করেছেন। তেমনি ভাবে সাধারণ মানুষকেও বিভ্রান্ত সূফীদের প্রবঞ্চনার হাত থেকে রক্ষা করেছেন। বলতে গেলে দিকভ্রান্ত সূফীদেরকে তিনি কুরআন সুন্নাহ ভিত্তিক একটি গতিশীল ধারায় প্রবাহিত করেছেন।

