আসসালামুআলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু সবাই কেমন আছেন আশা করি সকলে ভালো আছেন আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহর রহমতে আমিও ভাল আছি আজকে আমি আপনাদেরকে কিছু আল্লাহ তায়ালার শুকরিয়া সম্পর্কে বলব নেয়ামতের শুকরিয়া সম্পর্কে আমরা কিভাবে আল্লাহ তায়ালার নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করব তার সম্পর্ক সম্পর্কে অল্প কিছু কথা ব আল্লাহ তা'আলা বলেন..
لان شكرتم لازيدنكم ولئن كفرتم ان عذابي لشديد
অর্থ:: তোমরা আল্লাহ তা'আলার শুকরিয়া আদায় কর তাহলে আল্লাহ তা'আলা তোমাদের নেয়ামত বাড়িয়ে দিবেন আর যদি তোমরা আল্লাহ তায়ালার শুকরিয়া আদায় না করো তাহলে আল্লাহ তা'আলা তোমাদের কে কঠিন আজাবের মধ্যে লিপ্ত করে দিবেন
একবার হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন যে আপনাকে তো আল্লাহ তাআলা আগে-পরের সকল গুনাহ মাফ করে দিয়েছেন তারপরও আপনি রাত জেগে এত ইবাদত করেন যে আপনার পদযুগল ফেটে যায় তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম বললেন আমি কি আল্লাহ তাআলার কৃতজ্ঞ বান্দা হবো না
নেয়ামতের শুকরিয়া কয়েক ভাবে আদায় করা যায় অনেক ভাবে আদায় করা যায় তার মধ্যে একটি হলো মুখের মাধ্যমে যেমন আমরা আল্লাহ তায়ালার শুকরিয়া বেশি বেশি বেশি আদায় করব তার জিজ্ঞেস করবো তার তাসফি পর্ব এবং তিনি যা বলেছেন তার দেখানো পথে চলবো এগুলোই হল মুখের দ্বারা শুকরিয়া আদায় আর অঙ্গ পতঙ্গের মাধ্যমে শুকরিয়া আদায় হলো আল্লাহ তাআলার নামাজ পড়া নামাজ কোনো মুসলিম যদি মুসলমান হয় তাহলে মুসলমান হওয়ার পরে তার সর্ব প্রথম যে কাজটি হলো তা হলো আল্লাহ তাআলার ইবাদত ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি হল নামাজ নামাজ ঠিক তার সবকিছুই ঠিক নামাজের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার শুকরিয়া আদায় হয় নামাজ হলো আল্লাহ তাআলার হুকুম আর যে ব্যক্তি নামায আদায় করে না সে আল্লাহ তাআলার হুকুম অমান্য করে না অর্থাৎ আল্লাহ তায়ালার শুকরিয়া আদায় করে না যার জন্য কঠিন আযাবের লিপ্ত হবে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে বেশি সময় লাগে না তারপরও মানুষ এটা করতে চায়না কিয়ামতের ময়দানে সর্বপ্রথম যে হিসাব নেয়া হবে তাহলো নামাজবাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ তেমন নামাজ পড়ে না খুব অল্প সংখ্যক লোক নামাজ পড়ে অথচ বাংলাদেশের মুসলমানদের উচিত নামাজ পড়া উচিত নয় এটা ফরজ প্রত্যেক মুসলমানের জন্য নামাজ পড়া ফরজ কিন্তু আমরা কি করি নামাজ বাদ দিয়ে অন্য সকল কাজ করি এজন্য আমাদের কোন কাজে বরকত হয় না এক কথায় বলা যায় যার নামাজ ঠিক তার সব ঠিক আপনি যদি নামাজটা ঠিকমত আদায় করে কোন কাজ করেন তাহলে সেই কাজটা তাড়াতাড়ি শেষ হবে এবং বরকত পাওয়া যাবে আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ঘুম থেকে উঠতেন তখন আল্লাহ তা'আলার শুকরিয়া আদায় করতেন আমরা কি আল্লাহ তায়ালার শুকরিয়া আদায় করি করিনা আমরা ঘুম থেকে দেরি করে শুকরিয়া আদায় করব কখন ঘুম থেকে উঠে অফিস-আদালত ব্যাংক এসব জায়গায় দৌড়াদৌড়ি শুরু করে দেই কখনো আল্লাহতালা সর্ব সর্ব অবস্থায় আল্লাহ তায়ালার শুকরিয়া আদায় করা যায় যেমন ধরেন আল্লাহ তাআলা আপনাকে এই দুটি চোখ দিয়েছে আপনি যার মাধ্যমে শুকরিয়া আদায় করতে পারেন কিন্তু আমরা করি না যার চোখ নেই সেই একমাত্র বোঝে আর আমাদের চোখ থাকতে আমরা আল্লাহ তায়ালার শুকরিয়া আদায় করি না আমরা বেশি বেশি শুকরিয়া আদায় করব তাহলে আল্লাহ তাআলা আমাদের নেয়ামতের শুকরিয়া বাড়াই দিবেন আর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় দিলে বাড়িয়ে দিলে আমাদের সব জায়গায় বরকত হবে আমাদের যাদের পাশে তারা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে পারি আর যাদের পা নেই তারা কি করে তারা হেঁটে যেতে পারে না তারা আল্লাহর কাছে বলে আল্লাহ থাকত তাহলে আমি মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়তাম আর আমাদের যাদের পাশে তারা মসজিদে যাই না ঘরে বসে থাকি সিনেমা দেখি নাটক দেখি এগুলো দেখে দেখে সময়গুলো শেষ করে দিচ্ছি জীবন থেকে একটা মুহূর্ত হারিয়ে যাচ্ছে মন থেকে একটা সেকেন্ড হারিয়ে যাচ্ছে মানে আপনার জীবন থেকে সে সময়ে হারিয়ে যাচ্ছে তার কখনো ফিরে আসবে না আর সেই সময়টা যদি আপনি আল্লাহর ইবাদতের মধ্যে কাটিয়ে দেন তাহলে সেই সময়টা পরকালে কাজে আসবে তবে আমরা আল্লাহ তাআলার বেশি বেশি শুকরিয়া আদায় করব আর আল্লাহ তাআলার হুকুম মানবো আল্লাহতালা যা কিছু করতে নিষেধ করছেন সেগুলো আমরা করবো না আর যা হুকুম করেছেন সেগুলো আমরা পালন করব তাহলে আমরা আল্লাহ তাআলার খাঁটি বান্দা হতে পারব আর আমরা যদি আল্লাহর খাঁটি বান্দা হয়ে যায় তাহলে আমাদের জন্য জান্নাত নিশ্চিত আর যদি আমরা আমরা আল্লাহর খাঁটি বান্দা না হয় তাহলে আমাদের জন্য জাহান্নাম জাহান্নামের ভয়ংকর আজাব তা একমাত্র আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন আমরা শুধু রোদের আলো সহ্য করতে পারি না ওই কিয়ামতের ময়দানে যখন আমাদের মাথার এক হাত উপরে সূর্য থাকবে তখন কি অবস্থাটা হবে হাদীসে এসেছে যে মাথার মতো গলে গলে পড়তে থাকবে আর যারা আল্লাহ তাআলার নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করেছে এবং আল্লাহর হুকুম মেনে চলেছে আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে আরশের নিচে ছায়া দিবেন তাই ভাই আমরা আল্লাহ তায়ালার শুকরিয়া আদায় করব তার হুকুম মতো চলুন আজকে এই পর্যন্তই সকলে আমার জন্য দোয়া করবেন আমিও সকলের জন্য দোয়া করি আর আমরা সবাই আল্লাহ তাআলার বেশি বেশি নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করব আল্লাহ তা'আলা আমাদের সবাইকে বেশি বেশি নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করার তাওফীক দান করুন আমীন

