SOURCE
পিন্ডারী নেতা চীতু আত্মসমর্পন করেন। যুদ্ধ শেষে দূর্ত ইংরেজরা একেকজনকে এক একটি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অঞ্চলের অধিপতি বানিয়ে দিয়ে তাদের সাম্রাজ্যকে নিষ্কন্টক করে তোলে। পরবর্তীতে লর্ড হেস্টিংসে ১৮১৮ সালে মারাঠার তৃতীয় যুদ্ধে তাদেরকে পরাজিত করে হোলকার ও ভোসলা রাজ্য অধিকার করেন। এ ছাড়া লর্ড এলেনবারার ১৮৪৩ সালে কোন যৌক্তিকতা ছাড়াই সিন্ধু অঞ্চল কুক্ষিগত করে ইংরেজ রাজ্যভূক্ত করেন।
পর রাজ্য দখল নীতি শক্তি প্রয়োগ করে বা প্রত্যক্ষ যুদ্ধের মাধ্যমে রাজ্য দখল। এই নীতি অবলম্বন করে ইংরেজগণ উপমহাদেশের অধিকাংশ রাজ্য দখল করে নেয়। লর্ড ডালহৌসী এই নীতির ভিত্তিতে ১৮৪৮ সালের দ্বিতীয় শিখ যুদ্ধের মাধ্যমে সমগ্র পাঞ্জাব এবং ১৮৫২ সালের দ্বিতীয় ব্রহ্মযুদ্ধের মাধ্যমে পেংগু প্রদেশ দখল করে নেয় ।
বর্তন নীতি বা স্বত্ব বিলোপ নীতি এই নীতির মূল কথা ছিল বৃটিশের অধীন বা বৃটিশ শক্তি কর্তৃক সৃষ্ট কোন দেশীয় রাজ্যের রাজবংশের কোন উত্তরাধিকারী না থাকলে রাজ্যগুলো সরাসরি বৃটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত হয়ে যাবে। ডালহৌসী এই নীতি প্রয়োগ করে সাতারা, নাগপুর, ঝাঁসি প্রভৃতি রাজ্য দখল করেন।
প্রজাহিতের অজুহাতে রাজ্য দখল নীতি কুশাসনের অজুহাতে অযোধ্যার নবাবকে সিংহাসনচ্যুত করে ডালহৌসী বিশাল অযোধ্যা রাজ্যটি অধিকার করে নেন। নিয়ামের বেরায় প্রদেশ, সিকিম প্রভৃতি রাজ্যও একই অজুহাতে দখল করা হয়। এভাবে একদিন গোটা উপমহাদেশ ইংরেজদের দখলে চলে যায় এবং গোটা উপমহাদেশের মানুষ কার্যতঃ তাদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়ে। গ. শাসন শোষণ সংক্রান্ত কর্ম তৎপরতা
বিশাল উপমহাদেশে বৃটিশ সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখার জন্য ইংরেজরা এ দেশের জনসাধারণের উপর নির্যাতনের স্টীমরোলার চালায়। এদেশের মানুষকে দাবিয়ে রাখার জন্য তারা যে সমস্ত কর্মতৎপরতা চালায় সেগুলোকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়। অর্থনৈতিক আগ্রাসন ও শোষণ। রাজনৈতিক নির্যাতন ও হয়রানি। ধর্মীয় আগ্রাসন। শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে আগ্রাসন। এ সকল ক্ষেত্রে তাদের আগ্রাসন ও নির্যাতনের উপর বিস্তারিত আলোচনা পরে। আসছে।
ভারতীয় উপমহাদেশে আগত বিদেশী বণিকদের মাঝে ইংরেজরা দীর্ঘ প্রায় ২'শ বছর পর্যন্ত রাজত্ব করে। ফলে ভারতীয় মুসলিম শাসনের ঐতিহ্য ধ্বংস হয়ে পড়ে। যার কারণে গোটা ভারতবর্ষে নেমে আসে এক নৈরাশ্যের অমানিশা। মূলতঃ ঊনবিংশ শতকের শুরুর দিকে যখন ইংরেজ কর্তৃক দিল্লীর মসনদের ক্ষমতা কুক্ষিগত হয়ে পড়ে তখন থেকেই এ দেশের মানুষ স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করে।

