ইমরান ভাইয়ের বিয়ের শেষ পর্ব

A
arif567

 আসসালামুআলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু সবাই কেমন আছেন আশা করি সকলে ভালো আছেন আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহর রহমতে আমিও ভাল আছি ।

 

আজকে আমি আমার বন্ধুর বিবাহ শেষ পর্ব সম্পর্কে কিছু বলবো আল্লাহপাক আমাকে বলার তৌফিক দান করুন। ভাইয়ের বাবা বলেন নিজের টাকায় যদি মোটরসাইকেল কিনতে তাহলে সরে ফেলে দিতেনা ইমরান ভাই রেগে গিয়ে ঘরে গিয়ে শুয়ে থাকেন মাগরিবের নামাজ আদায় করেন এরই মাঝে তার মামাতো ভাই বলেন ভাই এত রাগ কইরেন না কিছুক্ষণ পরে রাগ পানি হয়ে যাবে ইমরান ভাইয়ের অনেক সুন্দর লাগতেছিল আমাকে হঠাৎ স্টাইলিশ চুল কাটানো আবার আমার মামাতো ভাই বলতেছে আমার রাগ পানি হয়ে যাবে ইমরান ভাই কিছুই বুঝে উঠতে পারছিল না আর এইদিকে রাগে গজগজ করতে ছিল তো মাগরিবের নামাজ আদায় করেন মাগরিবের নামাজ আদায় করে ইমরান ভাই হঠাৎ করে ঘর থেকে শুনতে পারেন বাহিরে অনেক মানুষ কথা বলতেছেন ইমরান ভাই একটু উঁকি দিয়ে দেখেন বাড়ির যত মানুষ আছে সবাই চেয়ার গোল করে বসে বসে গল্প করতেছে আর বলতেছে কাজিসব এখনো আসে নাই এই সব কথাগুলো বলতেছে ইমরান ভাইয়ের ঘরে বসে রয়েছে এক পর্যায়ে তাদের আগের মাদ্রাসার মুহতামিম সাহেব আসেন এবং সকলকে সালাম দেন তারপর হুজুরদের জন্য চেয়ার নিয়ে আসেন তিনি সেখানে বসেন এবং গল্প করতে থাকেন এক পর্যায়ে হুজুর বলেন যার বিবাহ সে কোথায় পুচকু ছেলেটা কোথায় কারণ ইমরান ছিল ছোট মানুষ হুজুর দের কাছে তখনও ছোটবেলায় হুজুরদের কাছে লেখাপড়া করতো অনেক কথা বলাবলি এরপর ইমরান ভাইয়ের আমাদেরকে বলা হয় যে মিমকে নিয়ে আসতে ইমরান ভাইয়ের ঘরে যায় তার মামাতো ভাই ইমরান ভাইকে নিয়ে আসেন বলেন ইমরান ভাইকে বলেন তোমার হুজুর আসছে তখন ইমরান ভাই বাইরে যায় তখন বলে অনেক মশকারি করে ইমরান ভাইয়ের সাথে বলে কিরে ইমরান আজকে তুই কী করতে চাচ্ছিস ইমরান তখনো বুঝতে পারে নাই হঠাৎ করে এক হুজুর বলে আমাদেরকে না জানিয়ে এইতো কাজ শেষ করে ফেলেছিস তখন ইমরান ভাই জিজ্ঞেস করে আমি তো কিছুই বুঝতে পারতেছি না আপনার কি বলতেছেন তখন ইমরান ভাই বলেন আমাদেরকে এক সপ্তাহ আগে তোমার পিতা আমাদেরকে দাওয়াত দিয়েছেন তোমার বিয়ে উপলক্ষে ইমরান ভাইয়ের তখন মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার উপক্রম অন্যদিকে অনেক খুশি কারণ সে তার মনের মানুষকে পাইতেছে ইমরান ভাইয়ের সাথে মশকারি করা হয় অনেক গল্প করা হয় তারপর এশার নামাজের সময় হয়ে যায় সকালে নামাজের জন্য প্রস্তুতি নেয় ইমরান ভাইয়ের উঠান অনেক বড় তাই যারা পুরুষ মানুষ তারা সকালে উঠে নামাজ পড়ে উঠানে মাদুর বিছিয়ে দেওয়া হয় সকালে নামাজ আদায় করে হুজুর বলেন আমরা তো হুজুর মানুষ অনেক সময় না খেয়ে থাকতে পারবো আপনারা কি পারবেন না খেয়ে থাকতে অর্থাৎ বিয়েটা কি খাবার আগে হবে না খাবার পরে তখন ইমরানের বাবা এবং ইমরানের মামা বললেন খাবার আগেই বিবাহ কার্য শেষ করাটাই ভাল তখন হুজুর বললেন ইমরানের বিবাহতে কত টাকা দিবেন তখন ইমরান ভাই বললেন যে শরীয়ত অনুযায়ী ইসলামিক নিয়ম অনুযায়ী আমার বিবাহ হবে তখন তিনি তার পিতাকে বললেন যে তুমি এখন কত টাকা মহারানা দিতে পারবে যেটা আমি আমার স্ত্রীকে দিতে পারবে তখন পরিবারের সবাই মিলে 30000 টাকা নির্ধারণ করলেন তারপর হুজুর ইসলামিক নিয়ম অনুযায়ী বিবাহ করেন এবং সবাইকে ওই মজলিসে খেজুর ছিটিয়ে দিলেন বিবাহ হওয়ার পর সবাই খাওয়া-দাওয়া করলেন হুজুররা মাদ্রাসায় চলে গেলেন ইমরান ভাই আর তার মামাতো বোন খাওয়া-দাওয়া করালেন সবাই মিলে অনেক আনন্দ করলেন এবং তাদের সাথে অনেক মশকারি করেন একপর্যায়ে ইমরান ভাই আর মামাতো ভাইকে জিজ্ঞেস করলেন আমাকে কেন এগুলো আগে বল নাই তখন ইমরান ভাই বললেন সবাইকে বলে দেওয়া হয়েছে কেউ যেন তোমাকে না বলে যে তোমাদের বিবাহ এমন কি আমার বোনকে বলে দিও বলে দেওয়া হয়েছে যেন তোমাকে না বলে তখন আর কি করার এভাবে যখন অনেক রাতে ওগো নিয়ে যায় অনেক আনন্দ উল্লাসের মাঝে তখন ইমরান ভাইয়ের জন্য একটি ঘর সাজানো হয় যে ঘরকে আমরা সাধারণত বলে থাকি বাসরঘর তাদের জন্য আলাদা একটি ঘর সাজানো হয় তার মামাতো ভাই তার চাচাতো ভাইয়েরা বাটি সাজ বাটি তালা মারা ছিল তখন ইমরান ভাই চাবি খুজতে ছিল এক পর্যায়ে বলতেছিল ঘরের চাবি কোথায় অনেক খোঁজাখুঁজির পর অনেক অনেক কে ডাকার পর যখন চাবি পাচ্ছিলো না তখন ইমরান ভাইকে বলেন আমাকে কেউ চাবি দিবেন কি না যদি না দেন তাহলে আমি তালা ভেঙ্গে ফেলবো এক পর্যায়ে যিনি চাবিটা নিয়েছিলেন ইমরান ভাইয়ের কাছে দিয়ে দেন ইমরান ভাই ঘরে প্রবেশ করেন তারপরে ইমরান ভাইয়ের বউকে অর্থাৎ উনার মামাতো বোন যাকে বিবাহ করেছেন তাকে ঘরে দিয়ে আসেন তার আত্মীয়-স্বজন ইমরান ভাইয়ের অনেক ভয় লাগতেছে তিনি সর্বপ্রথম কোন মেয়ের সামনে একাকীত্ব একটি ঘরে রয়েছে তখন শীতকাল ছিল এরই মধ্যে ইমরান ভাই অনেক গাড়ি ছিল তখন তার মামাতো বোন বলে আপনি কেমন পুরুষ শীতকালে আছেন আপনি এত ভ��় পান কেন তখন ইমরানের বলে আমি এখন কোন কথা বলতে পারব না আগে আমরা দুই রাকাত নামাজ পড়ে নিই তারপর কথা বলবো তারপর ইমরান ভাই এবং তার হবু স্ত্রী নামাজ আদায় করে তারা গল্প করেন এইভাবে গল্প করতে করতে তারা ফজরের নামাজের সময় হয়ে যায় তারা ফজর নামাজ আদায় করে ঘুমিয়ে পড়েন এবং সকাল 11 টায় ঘুম থেকে উঠেন তখন সকালে বলেন যে ইমরান ফজরের নামাজের পর আর কখনো ঘুমাতেন না সে ইমরান বউ পেয়ে এখন এগারোটার সময় উঠেছে ইমরান ভাই অনেক লজ্জা পায় বিয়ে করার তিন দিন পর ইমরান ভাই মাদ্রাসায় চলে আসেন তারপর যখন আবার 15 দিন পরে বাড়িতে যান তখন সকালে বলেন যে ইমরান বছরে একবার আসতে না আসতেই ইমরান 15 দিন পর কিভাবে চলে আসলো তো ইমরান ভাই অনেক লজ্জা পাই এভাবেই তাদের চলতে থাকে তারা একে অপরকে পেয়েছে এ জন্য তারা অনেক খুশি আমি দোয়া করি তারা যেমন সারা জীবন একসাথে থাকতে পারেন আল্লাহতালা যেমন তাদের এই ভালোবাসা সারাজীবন টিকে রাখেন এই দোয়া করি আর সকলেই তাদের জন্য দোয়া করবেন তারা যেন সারা জীবন একসাথে থাকতে পারে তাদের দীর্ঘায়ু কামনা করে সকলের দীর্ঘায়ু কামনা করে আমি আজকে এখানেই শেষ করছি সকলে আমার জন্য দোয়া করবেন আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু‌

Comments