আমার স্কুল জীবন

A
arif567

আসসালামুআলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু সবাই কেমন আছেন আশা করি সকলে ভালো আছেন আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহর রহমতে ভালো আছি আজকে আমি আপনাদের নিকট আমি যখন স্কুলে পড়তাম তখনকার কিছু কথা বলব আমার যখন পাঁচ বছর হয় তখন আমাকে আমার গ্রামে একটি স্কুলে ভর্তি করে দেওয়া হয় কিন্তু দুঃখের ব্যাপার হলো আমার স্কুলে যেতে হলে অবশ্যই আমাকে একটি বাসের উপর দিয়ে যেতে হবে বাসর উপর দিয়ে যেতে হবে মানে অর্থাৎ একটি সাঁকোর উপর দিয়ে যেতে হবে আর যে সাঁকোটি একটি বাঁশ দিয়ে তৈরি ছিল আর সাঁকোটি প্রায় 200 ফুট লম্বা ছিল এইজন্য পার হতে অনেকটাই কষ্ট হতো এবং অনেক ভয় লাগত কারণ আমি ছোট পার হতে পারতাম না আমাকে আমার এক চাচা চাচাতো ভাই তিনি আমাকে পার করে দিতেন হাত ধরে ধরে কিন্তু সে আমাকে প্রতিদিন কিভাবে পার করে দিবেন কারণ তিনি পঞ্চম শ্রেণীতে পড়তেন আর আমি ক্লাস ওয়ানে পারতাম এজন্য তিনি পার করতে পারেন না কারণ তিনি চলে যান স্কুলে এগারোটার সময় আর আমার যেতে হয় নয়টার সময় আর নয়টার সময় তিনি চাইতেন এজন্য আমার অনেক কষ্ট হয় তো আমার আমাকে ছাত্ররা সাঁকো পার করে দিতে চাইত না বরং আমার সাথে তারা অনেক ঠাট্টা মশকারি করত আর তারা বলত আমি সাঁকো পার হতে পারি না এই জন্য আমার মা-বাবা দেখলো যে আমি স্কুলে যেতে পারিনা তখন আমার মা-বাবা আমার নানার সাথে যোগাযোগ করলেন এবং বললেন আমার সমস্যার কথা তখন আমার নানা নানী মামা খালা তারা বললেন আমাকে নানার বাড়ি দিয়ে আসতে কারণ আমার নানার বাড়ির ওই স্কুলে যেতে হলে কোন সাঁকো পার হয়ে যেতে হয় না তারপর আমার মামা আমাকে নিতে আসে তাদের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমি তাদের বাড়ি চলে যাই আমি আমার মামারবাড়িতে সাত বছর লেখাপড়া করি ক্লাস ওয়ান থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত আমি আমার মামারবাড়িতে লেখাপড়া করি এবং মাদ্রাসায় দুই বছর লেখাপড়া করি আমার মামার বাড়ি থেকে আমার মামার বাড়ি থেকে এক কিলোমিটার স্কুলটি ছিল স্কুলের নাম ছিল কাতকাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্কুলের একজন শিক্ষক আমার নানার বন্ধু ছিল আমাকে তার সাথে পরিচয় করিয়ে দেন এবং তাকে বলে দেন যেন আমাকে তিনি ভালোভাবে পরান এবং আমাকে দেখে রাখেন তারপর আমি প্রতিদিন স্কুলে যেতাম সাথে আমার এক মামাতো বোন যাইতো সে নার্সারিতে পরতো আমি ওয়ানে পড়তাম আমরা দুজনে একসাথে বড় মামার বাড়িতে থাকি আমার একটা অভ্যাস ছিল আমি চেয়ারে বসে পড়তে পারতাম না আমি সব সময় শুয়ে শুয়ে পড়তাম আমার শুয়ে পড়লে পড়া তাড়াতাড়ি হতো এবং অনেক মনোযোগ সহকারে পড়তে পারতাম এজন্য আমি যখন শুয়ে শুয়ে পড়তাম তখন আমাকে তারা কেউ কিছু বলতো না কারণ এটা আমার অভ্যাস ছিল কারণ আমি এভাবে বেশি লেখাপড়া করতে পারি আমাকে ভালো ছাত্র বানানোর জন্য সবচাইতে বেশি যার অবদান তিনি হলেন আমার খালা তিনি আমাকে মারতেন আদর করতেন আমাকে খাইয়ে দিতেন আমাকে পড়া বলে দিতেন আমাকে হাতের লেখা দিতেন আমাকে অংক শিখাতে যাবতীয় কাজ যাবতীয় আমার যত কাজ ছিল তিনি করতেন আমাকে মানুষ বানানোর জন্য তিনি তিনি সবকিছু করেছেন আমার খালা এখনো বলে যে আমার ছেলেকে আমি ভালোভাবে লেখাপড়া করাতে পারি না কারন সে আমার কথা মানতে চায় না আর তুমি আমার কথা যে পরিমাণ মানতা মানতা সে আমার কথা মানে না এজন্য সে তেমন লেখাপড়া পারেনা আমার নাম আরাবুল তো যদি রোল নাম্বার 1 2 3 4 এর মধ্যে যদি না থাকে তাহলে এই বাড়িতে থাকতে পারবোনা আমি এই ভয়ে খুব মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করতাম কারণ আমি ছোট ছিলাম বুঝতাম না আমার ভাগ্যটা এতই ভালো ছিল যে আমার সবসময় রোল নাম্বার 1 থেকে 4 এর মধ্যেই থাকতো এইজন্য আমি অনেকবার স্কুল থেকে পুরস্কার পাইতাম আমার শিক্ষক��া বলতেন সে কতদূর থেকে আসছে তার পরেও সে এক নাম্বার 2 নাম্বার হয়ে পুরস্কার নিয়ে যায় আর তোমরা নিজের বাড়ি থেকে লেখাপড়া করেও পুরস্কার নিতে পারে না আমার সেই দিন অনেক আনন্দ লাগছিল এবং সেই অনুষ্ঠানের মধ্যে আমার মা উপস্থিত ছিলেন আমার মা খুশির আনন্দে সেদিন কে দিয়েছিলেন আমি সেই দিনটির কথা এখনো বলতে পারিনা স্কুল জীবনের কথা আমার খালার কথা আমার নানার বাড়ির কথা আমি এখনো বলতে পারিনা আমার গ্রামের চাইতে আমার নানার বাড়ির লোকেরা আমাকে বেশি এখনো চিনে কারণ শৈশবকালে আমি আমার নানার বাড়িতে বড় হই এবং সেখানেই আমি আমার স্কুল জীবন শেষ করি আল্লাহতালা আমার নানা নানী মামা মামী খালা যাদের স্পর্শ থেকে আমি আজকে এই পর্যন্ত আসতে পারছি আল্লাহতালা যেন তাদের সবাইকে যেন জান্নাত দান করেন আমীন আসসালামু আলাইকুম রাহমাতুল্লাহ

Comments