নামাজের কিছু সামাজিক উপকারিতা এবং শারীরিক উপকারিতা

A
arif567

আসসালামুআলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু সবাই কেমন আছেন আশা করি ভাল আছেন আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহর রহমতে আমিও ভাল আছি।

 

 

বন্ধুরা আজকে আমি যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব সে বিষয়টি হলো নামাজ এর সামাজিক উপকারিতা এবং শারীরিক উপকারিতা সম্পর্কে কিছু কথাবার্তা বলবে আল্লাহতালা তৌফিক দান করুন আমিন।

 

 

 

প্রথমে আমি সালাত এর সামাজিক উপকারিতা সম্পর্কে কথা বলব । সালাত কায়েম করার দ্বারা ব্যক্তিজীবন হতে বিবেকবর্জিত কাজ বিতাড়িত হয় সামাজিক শৃঙ্খলা আর উন্নতি হয় আল্লাহ তাআলা বলেনঃ নিশ্চয়ই সালাত অশ্লীলও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে।

 

 

 

জামাতের সাথে সালাত আদায়ের জন্য কাতারবন্দী হওয়ার মাধ্যমে উঁচু-নিচু ধনী-দরিদ্র হ্রাস পেয়ে সাম্য গুণের সৃষ্টি হয়। প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ে সালাত আদায়ের মাধ্যমে সমাজের দায়িত্ব ও সময়ানুবর্তিতার প্রতিফলন ঘটতে পারে।

 

 

জামাতে নামাজ পড়ার মাধ্যমে যেভাবে ইমাম নির্বাচন করা হয় তেমনি এ ভাবে সমাজ নেতা নির্বাচনের শিক্ষা দিয়ে থাকে। ইমাম তার ইমামতের মাধ্যমে নেতৃত্বের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হোন।

 

 

 

ইমামের যথাযথ অনুসরণ ও অনুকরণ এর মাধ্যমেই মুক্তাদির এই শিক্ষা অর্জিত হয় মসজিদ তৈরি এবং তা রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমেই মানুষের মধ্যে এই সামাজিক গোষ্ঠী সৃষ্টি হয় শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সালাত আদায়ের মন-মানসিকতা থেকেই সৃষ্টি হয়।

 

 

 

প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায়ের এবং সালাতের নিয়ম পদ্ধতি সঠিকভাবে পালন করার মাধ্যমেই মানুষের মধ্যে এই বিশেষ গুণ এর সৃষ্টি হয় দৈনিক পাঁচবার যথাসময়ে সালাত আদায়ের মাধ্যমে একজন মানুষ নিয়ম শৃঙ্খলা বোধ সম্পন্ন হয়ে যায়।

 

 

এখন আমি সালাত এর শারীরিক কিছু উপকারিতার কথা বলব। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সকালে ঘুম থেকে উঠে অজু করতে বর্তমান আধুনিক বিজ্ঞান বলে চোখের ছানির কার্যকরী ওষুধ হলো সকাল সকাল চোখের ভেতর পানির ঝাপটা মারা যে ব্যক্তি তাহাজ্জুদের সময় উঠবে অজু করবে সে তো তার চোখে উত্তমরূপে পানির ঝাপটা মারবে এভাবে তার চোখের ছানির ওষুধ সেবন করা হয়ে যায় ফলে তার চোখে ছানি পড়বে না সুবহানাল্লাহ।

 

 

মানুষের শরীরকে যদি বৈশ্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হয় তাহলে দেখা যায় এটি পাম্প সাদৃশ্য এর ইনপুট আউটপুট রয়েছে গোটা শরীরে তাজা রক্ত যাচ্ছে আবার আসছে তিনি বলেন মানুষ যখন দাঁড়িয়ে থাকেন বা বসে থাকে তখন তার নিম্নাংশে রক্তের চাপ তুলনামূলক বেশি থাকে।

 

 

 

যেমন তিন তলা বিল্ডিং এর নিচতলায় পাম্প লাগানো থাকলে নিচতলায় পানি বেশি থাকে দ্বিতীয় তলায় কিছু পানি থাকে আর তৃতীয় তলায় একদম পানি থাকে না দেখুন পাম্প একটাই কিন্তু নিচতলায় পানি দিলেও তৃতীয় তলায় পানি দিচ্ছে না।

 

 

 

এই উদাহরণটি সামনে রেখে বাবুল মানুষের হার্ট রক্ত পাম্প করছে এবং এ রক্ত মানুষের নিচের অঙ্গ পতঙ্গ গুলোতে যথাযথভাবে করছে কিন্তু উপরের অঙ্গ পতঙ্গ গুলোতে সেভাবে করতেছে না এজন্য এমন একটা অবস্থার প্রয়োজন যখন মানুষের মাথা নিচে থাকবে এবং তার হাত উপরে থাকবে ফলে রক্তের প্রবাহ তার শরীরের উপরের অংশ অর্থাৎ তার পুরো মাথায় পৌঁছে যাবে।

 

 

 

আর এটি সম্পন্ন হয় নামাজের সময় মানুষ নামাজের মধ্যে সিজদায় গেলে মনে হয় যেন পুরো শরীরের রক্ত মাথায় গিয়ে ভর্তি হয়ে গেছে সিজদা একটি দীর্ঘ করলেই অনুভব করা যায় চেহারার সুক্ষ সুক্ষ সেগুলোতেও রক্ত পৌঁছে গেছে।

 

 

 

মোটকথা মানুষ সাধারণত সব সময় বসে বা দাঁড়িয়ে অথবা শুয়ে থাকে আর এ সকল অবস্থায় মানুষের মাথা খাটের উপরে থাকে কেবল নামাজ এর মধ্যেই সিজদা অবস্থায় মানুষের মাথা তার হাতের নিচে থাকে তখন রক্তের প্রবাহ মাথার মধ্যেও যথাযথভাবে আপ ডাউন করতে থাকে।

 

 

 

নামাজে সিজদা করার কারণে মুখের সমস্ত শিরা-উপশিরায় রক্ত প্রবাহিত হয় এ জন্য যারা নামায পড়ে তাদের চেহারার মধ্যে তরতাজা ভাব বিদ্যমান থাকে আর যারা নামায পড়েনা তাদের চেহারায় বিষণ্নতা থাকে এজন্য হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত আছে যে ব্যক্তি নামায পড়ে তার চেহারায় নুর থাকে নামাজের দীর্ঘসময় সিজদা করলে চেহারা কি পরিমান তরতাজা থাকে এবং সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় তা যদি নারীরা জানত তাহলে তারা সিজদা থেকে কখনো উঠতো না।

 

 

বন্ধুরা আজকের পর্যন্তই সকলে আমার জন্য দোয়া করবেন আমিও সবার জন্য দোয়া করি সকলের সুস্বাস্থ্য কামনা করে আজকে এখানেই শেষ করছি আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু

Comments