বিদ্যমান

A
arif567


Source 

বদর, উহুদ, খন্দক, তাবুক, খায়বার যুদ্ধগুলির মূলে ছিল এই ইহুদি । এই ইহুদিরা তাওরাত, ইঞ্জিল, পাঠ করে এমনিভাবে বিশ্বনবীর পরিচয় পেয়েছিল, যেমন কোনো হারানো সন্তানকে তার পিতা দীর্ঘদিন পর হলেও পরিচয় পেয়ে যায়। কুরআন মাজীদে ইহুদিদের চরম বদস্বভাবের সমস্ত গোপন কথা প্রকাশ করে দেওয়া হয়েছে । তারা এখন কুরআন পড়ে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মুসলমানদের চরম ক্ষতিসাধনে লিপ্ত হয় ।

 বিশ্বনবী [সা.] তিরোধানের পর দেশ-বিদেশের কয়েক হাজার ইহুদি গোপনে পরামর্শ করল যে, সারা বিশ্বজুড়ে আমাদের বদনামের মূল এই কুরআন আর বিশ্বনবী মুহাম্মদ [সা.]। বর্তমান সমগ্র বিশ্বে লাখ লাখ কুরআনের হাফেজ বিদ্যমান থাকার ফলে কুরআনকে ধ্বংস করা কোনোমতেই সম্ভব নয় । এমতাবস্থায় আমাদের বিশ্বনবী [সা.]-এর লাশ চুরি করে খণ্ড খণ্ড করে কেটে আগুন দিয়ে পুড়ালে আমাদের মনের বিদগ্ধ আগুন কিছু নিরাময় হতে পারে ।

তাই তারা দেশ-বিদেশের কয়েক হাজার ইহুদি গোপনে পরামর্শ করল যে, বিশ্বনবী [সা.]-এর পবিত্র দেহ তারা চুরি করবে এবং খণ্ড খণ্ড করে কাটবে অতঃপর আগুন দিয়ে পুড়াবে এবং চরম অপমান করবে। ইহুদিদের দল এই অঘটন ঘটাবে তা মহান আল্লাহ আকাশ-পাতাল সৃষ্টির বহু পূর্ব থেকে অবগত ছিলেন । তাই তিনি বিশ্বনবী [সা.]-কে তাঁর জীবদ্দশায় এবং মৃত্যুর পরও রক্ষাকরবেন বলে এই আয়াত আল কুরআনে নাজিল করেছিলেন-'আল্লাহু ইয়াছিমুকা মিনান্নাসে হে রাসূল! সমগ্র বিশ্ববাসী, যে যেভাবেই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে শত্রুতা করুক না কেন, আমি আপনাকে রক্ষা করবই বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ [সা.]-এর তিরোধানের পর ৫৫৫ হিজরী সালে বাগদাদের সবচাইতে বড় অলীয়ে কামেল ন্যায়পরায়ণ বাদশাহ নুরুদ্দিন এক রাতে এশার নামাযান্তে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত কুরআন তেলাওয়াতে মনোনিবেশ করেন এবং রাত্রি অর্ধেক অতিবাহিত হয়ে গেলে তিনি না ঘুমিয়ে, তাহাজ্জুদের নামায আরম্ভ করেন ।

দীর্ঘ সময় পর্যন্ত দোয়া ও মুনাজাতের পর তিনি ঘুমিয়ে পড়েন । এই ঘুমন্ত অবস্থায় আল্লাহর নবী [সা.]-কে স্বপ্নযোগে দেখতে পান । তিনি সামনে এসে বলছেন যে, 'হে নুরুদ্দিন! দীর্ঘদিন যাবৎ তিন কুখ্যাত ইহুদি আমাকে কষ্ট দিচ্ছে আর আমার সঙ্গে চরম বেয়াদবিতে লিপ্ত আছে । এই তিন বেয়াদবকে ধরো-আর যত সত্বর হয় তাদেরকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান কর । তিন লোকের চেহারাও তাঁকে দেখানো হয় এবং তিনি বিচলিত অবস্থায় আছেন তারও প্রমাণ পাওয়া যায় । আল্লাহর ওলী বাদশাহ নুরুদ্দিন এই ভয়াবহ স্বপ্ন দেখে ভয়ে ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থায় ঘুম থেকে জেগে উঠলেন এবং তিনি বহুমুখী চিন্তায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন ।

 বহুমুখী চিন্তার মধ্যে সবচাইতে বড় চিন্তা এই ছিল যে, আল্লাহর নবীর সঙ্গে কুচক্রী ইহুদিরা এমন কী বেয়াদবি করতে পারে? তিনি তো এখন জীবিত নন? তবে কেন তিনি ইহুদিদের কবল হতে উদ্ধার পাওয়ার জন্য আমাকে অনুরোধ করছেন? তিন ইহুদির চেহারাও আমাকে দেখানো হলো, এরাই বা কে? আর এরা আল্লাহর নবীর ওপর এমন কী বিপদ আনতে পারে ও বেয়াদবি করতে পারে? আর তাদেরকে পাকড়াও করার কথা বলা হচ্ছে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের কথাও বলা হচ্ছে। শয়তান তো কোনো দিন আল্লাহর নবী [সা.]-এর অবয়বে আসতে পারে না । আর এই অবয়ব আল্লাহর নবী [সা.]-এর ছাড়া আর কারো হতে পারে না । 

Comments