ঘুষ

A
arif567

আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু ।সবাই কেমন আছেন ।আশা করি সকলে ভালো আছেন। আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহর রহমতে আমিও ভাল আছি।

 

 

বন্ধুরা আজকে আমি যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব সে বিষয়টি হলো ঘুষ সম্পর্কে ।আল্লাহ তাআলা আমাকে সে বিষয়ে কিছু লেখার তৌফিক দান করুন আমিন।

 

 

 

ইসলামী ইসলামী পরিভাষায় ঘোষ হচ্ছে স্বাভাবিক অবৈধ উপায়ে যা কিছু পাওয়া যায় তার ওপর অবৈধ পন্থায়। যেমন কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী তার দায়িত্ব পালনের জন্য নিয়মিত বেতন বা পারিশ্রমিক পাওয়া সত্ত্বেও যদি বাড়তি কিছু অবৈধ পন্থায় গ্রহণ করে তাহলে তা হিসেবে বিবেচিত হবে। সব সময় টাকা পয়সা হয় না বরং উপহারের নামে বিভিন্ন বস্তু বা জিনিস প্রদান করা হয় ।নানা প্রতিশব্দ সমাজের লেনদেন হচ্ছে।

 

 

এরমধ্যে হচ্ছে চাপানের খরচা ,সেলামি খুশি করা, খরচাপাতি, ঈদ খরচা বকশিস ,মালপানি বোনাস কমিশন পার্সেন্টিজ ইত্যাদি ইত্যাদি, সুতরাং সুতরাং যেভাবেই হোক আর যে নামেই হোক কাগজের অন্তর্ভুক্ত ও হারাম।

 

 

 

ঘুষ একটি সামাজিক ব্যাধি। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান দায়িত্বশীল পদে থেকে হারাম অর্থ গ্রহণ হচ্ছে। যারা দেয় তারা ও সমান অপরাধী। বেআইনি ফায়দা হাসিলের জন্য যারা বিভিন্ন সুবিধা বা টাকা দিয়ে প্রবাহিত করতে চেষ্টা করে তারাই এ গুনাহ সংগঠনের অন্যতম শরিক।।

 

 

 

 

যারা ঘোষকে একটি প্রসিদ্ধ ব্যবস্থা হিসেবে প্রশ্রয় দেয় তারাই বেশি অপরাধী। আবার অনেক সময় কর্তাব্যক্তিরা গ্রাহককে বিভিন্ন উপায়ে দিতে বাধ্য করে ।এভাবে মাঝেমধ্যে বেড়ায় রক্ষকই ভক্ষক। নৈতিকতা অনেকে যাদের লালন করার কথা তারাই অন্যায়-দুর্নীতি কে ধারণ করে। এভাবে দুর্নীতির ডালাপালা সারা দেশে বিস্তার লাভ করে।

 

 

 

 

ঘুষ পশুত্বের জন্ম দেয় ।এমন এক জঘন্য প্রবণতা যে সমাজে তা চালু হয় সে সমাজের প্রশাসনের মেরুদন্ড ভেঙ্গে পড়ে। দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হাতে জিম্মি হয়ে পড়ে। ফলে ন্যায়-নীতির অপমৃত্যু ঘটে কোন পার্থক্য বিদ্যমান থাকে না। লোকজন নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা করে না ফলে অধিক পরিমাণে দুর্নীতি বৃদ্ধি পায় ‌।

 

 

ঘুষ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয় জনগণের জানমালের ।নিরাপত্তা অপরাধী চক্র অপরাধ করে ঘুরে বেড়ায় চলাফেরা করে মুখ ফুলিয়ে ।কারণ তারা জানে শত অপরাধ করেও ঘুষের বিনিময়ে ছাড় পেয়ে যাবে ।ফলে তাদের অন্তরে প্রশাসনিক আইনের কোনো ভয়-ভীতি থাকে না।

 

 

অপরদিকে নিপিরিত জনগন অসহায়ত্বের মাঝে দুকেদুকে মৃত্যুর প্রহর গুনতে থাকে। আদালতের শরণাপন্ন হয়ে ও তারা সঠিক বিচার পাওয়ার নিশ্চয়তা বোধ করে না। কারণ ঘোষের চমকে রাতারাতি পাল্টে যায় বিচারের গতি ।এ ধরন যে সমাজে প্রবণতা চালু হয় সে সমাজে অন্যায়ের যোগ্য অযোগ্যদের কোন পার্থক্য থাকে না।

 

 

 

অযোগ্য ব্যক্তিরা ঘোষের বদলাতে চাকরির গুরুত্বপূর্ণ পদ দখল করে থাকে। আর যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও ঘুষ দিতে না পারায় অনেক যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তিরা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। এক কথায় এভাবে বলা যায় এমন এক জঘন্য প্রবণতা যে সমাজে চালু হয় সে সমাজের মানুষেরা আর মানুষ থাকে না তাদের মনুষত্ব ধ্বংস হয়ে পশুত্বের জন্ম দেয়।

 

 

 

 

দুঃখের বিষয় হলো দেশের সব কাজেই এখন ঘুষ প্রয়োজন ।হাসপাতালে শিশু জন্মের সময় প্রসূতির ভর্তি ও যত্ন ইত্যাদি থেকে শুরু করে মৃত্যু ব্যক্তির কবর দেয়া পর্যন্ত প্রয়োজন হয় ঘোষের।

 

 

 

ঘুষ ছাড়া সরকারি কোন স্তরেই যে সাধারণের সেবার নেই সেটা অবধারিতভাবে মেনে নিয়েছে সবাই। প্রতিটি কাজের জন্য সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তন হচ্ছে ঘুষের হার।

 

 

 

অনৈতিক ও বেআইনি সুবিধা অর্জন করার জন্য কর্তাব্যক্তিদের প্রদান করা হারাম। তবে যদি কেউ নিজের ন্যায্য অধিকার বা বৈধ কাজ হাসিলের জন্য ঘুষ দিতে বাধ্য হয় এবং এছাড়া তার কাছে আর অন্য কোন উপায় না থাকে তাহলে সে অপারক হিসেবে গণ্য হবে। আশা করা যায় আল্লাহ তাআলা তাকে ক্ষমা করবেন কিন্তু সর্বাবস্থায় হারাম এবং কবিরা গুনাহ ।

 

বন্ধুরা আজকে এই পর্যন্তই সকলে আমার জন্য দোয়া করবেন আমিও সবার জন্য দোয়া করি সকলের সুস্বাস্থ্য কামনা করে এখানেই শেষ করছি সালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ

Comments