বিয়ে

A
arif567

আসসালামুয়ালাইকুম কেমন আছেন সবাই? আশা করি সবাই ভাল আছেন। আলহামদুলিল্লাহ আমিও আল্লাহর রহমতে ভালো আছি।আজকে আমি আমার ছোট মামার বিয়ে সম্পর্কে কিছু বলবো

জহিরুল ইসলাম। আমার ছোট মামা। আঠারো বছর আগে আঠারো পেরিয়েছেন। হিসেবটা সহজ। তার বর্তমান বয়স ছত্রিশ। দশ বছর আগে বিএ পাস করেছেন। আজও বিয়ে করেননি। করবেন না এমন প্রতিজ্ঞাও করেননি । তবে বিয়ে করছেন না কেন? এমন প্রশ্নে হারু মামার সোজা সাপ্টা উত্তর, ‘নিজের বিয়ে নিজেই করলে তো অনেক আগেই করে ফেলতাম। বিয়ে করানোর দায়িত্ব অভিভাবকদের। তারা দায়িত্ব পালন করছেন না।’ আমরা ছুটে যাই অভিভাবকদের কাছে। অভিভাবক বলতে নানা আর কদম খালু। তারা তুলে ধরলেন তাদের গুরুতর অভিযোগ। এ পর্যন্ত তিরিশটি পাত্রী দেখা হয়েছে। সবগুলোই পছন্দ করার মতো। কিন্তু হারু মামা একটিকেও পছন্দ করেননি। বরং নানা ও খালুর পছন্দবোধ নেই এমন অপবাদ তুলেছেন। পাত্রী পক্ষের কাছে তাদের ছোট হতে হয়েছে। তাছাড়া সালামি বাবদ পাঁচশ পাঁচ টাকা করে, যাতায়াত ও মিষ্টি বাবদ গড়ে একহাজার টাকা করে খরচ ধরলে প্রায় অর্ধলক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। খরচটা ব্যাপার না! তবে মামার বিয়ের আলাপ করে তারা আর অপমানিত হতে চান না। উভয়ের কথাতেই যুক্তি আছে। কিন্তু অনেক সময় যুক্তিতে মুক্তি মেলে না। তর্কে তর্ক বাড়ে। চাই সেক্রিফাইস। উভয় পক্ষকেই সেক্রিফাইস করা দরকার। সেক্রিফাইসের কথা শুনে কদম খালু ক্ষেপে গেলেন, ‘আমাদের সেক্রিফাইস মানেই আরও অপমানিত হওয়া। আর অপমানিত হইতে পারুম না।’ মামাও তার যুক্তিতে অনঢ়, ‘আমার সেক্রিফাইস মানেই আমার অপছন্দে একটি মেয়েকে বিয়ে করা। দুদিন পরেই সংসারে ঝগড়া শুরু হবে। মানুষ হাসাহাসি করবে। তখন কি তাদের সম্মান বৃদ্ধি পাবে?’ উভয়ের যুক্তি শুনেই কিছু মানুষ মাথা নাড়ান। অকাট্য যুক্তি। তারা হালে পানি পান। যুক্তিতে থাকেন অনঢ়। মামার আর বিয়ে হয় না। আমরা বঞ্চিত রই মামির আদর থেকে।সেদিন বিকেলে। বাড়ির সামনের রাস্তার পাশে দুর্বার উপর বসে ফেসবুক চালাচ্ছি। এমন সময় হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এলেন জহিরুল মামা। চেহারায় চিন্তার ছাপ। আমি আঁতকে উঠলাম, ‘মামা কোনো দুঃসংবাদ?’ মামা কথা বললেন না। আমার হাতে একটা বিয়ের কার্ড ধরিয়ে দিলেন। আমি খুশিতে চিত্কার করে উঠলাম, ‘মামা তোমার বিয়ে! কী আনন্দ আকাশে বাতাসে!’ মামা আমার আনন্দ চিত্কার শুনে ব্যাপক বিরক্ত হয়ে বললেন, ‘আনন্দে ফাল পারিস না। আগে কার্ডটা পড়।’ আমি কার্ডে চোখ বুলালাম। নিরাশ হলাম। বিয়েটা মামার না। মামা কারো বিয়ের দাওয়াত পেয়েছেন। ঈদের পরদিনই বিয়ে। ‘মামা কার বিয়ে এটা?’ বেদনার্ত কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলাম।’ এটা আমার এক গ্রাম্য বন্ধুর মেয়ের বিয়ে। কিছু বুঝতে পারছিস! ‘মামার কণ্ঠ হতে একরাশ কষ্ট ছড়িয়ে পড়ল। আমি মামার দুঃখে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লাম। কোনো কথা বললাম না।’ মামা আমার হাতটা চেপে ধরলেন। ‘তুই তো নেট-টেট চালাস। অনেকে তোর পরিচিত। তুই একটা কিছু কর না। এ যেন মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি। মামার ঘটকালি পাওয়া পার্ট টাইম চাকরির চেয়ে ভালো। ‘হ্যাঁ মামা, তুমি সার্পোট দিলে আমি দেখতে পারি। আর আমি তো সনাতন পদ্ধতিতে মেয়ে দেখব না। মেয়ে তোমার পছন্দ হবেই। আর খরচা নিয়েও চিন্তা নেই। এ পদ্ধতিতে হাজার মেয়ে দেখলেও পঞ্চাশ হাজার তো দূরের কথা দশ হাজার টাকাও খরচা হবে না। শুধু আমার একটা বাইসাইকেল লাগবে। পরদিনই বাইসাইকেল চলে এল। পেয়ে গেলাম এক মাস নেট চালানোর টাকা।’ আমি চরম উত্সাহে মামাকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘কেমন মেয়ে তোমার পছন্দ ও কী পাস হতে হবে?’ ‘মেয়ে হবে সুন্দরী। লম্বা। ডিগ্রিতে পড়লে ভালো! চরিত্রবান। সম্ভ্রান্ত পরিবারের। মেয়ের বাবা-মাকেও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন হতে হবে। কারণ নানা-নানি ব্যক্তিত্ববান হলে নাতি-নাতনিও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন হবে।’ মামার পছন্দের লম্বা ফিরিস্তি। বুঝলাম, এজন্যই মামার বিয়ে হয় না। এখানেও সেক্রিফাইসের অভাব। কী আর করা! একটা মামি পাওয়ার আশায় পরদিন মামাকে নিয়ে গেলাম কলেজের সামনে। সেখানে ক্লাস শেষে ডিগ্রি কোর্সের শিক্ষার্থীরা বের হচ্ছেন। মামার কাজ মেয়ে দেখে পছন্দ করা। মামার পছন্দ হলো একটি মেয়েকে। আমি নিলাম মেয়েটার পিছু। বিস্তারিত জানতে হবে। চলে গেলাম বাড়ি পর্যন্ত। মেয়েটা বাড়িতে ঢুকতে যাবে। দরদ মাখানো কণ্ঠে ডাক দিলাম, ‘হ্যালো আন্টি, একটা কথা ছিল।’ মেয়েটা আমার দিকে তাকালো। তারপর রুমে ঢুকে গেল। একটি বাচ্চা কোলে নিয়ে মিনিট এক পর বাইরে এল। কথা বলল। আশায় গুঁড়ে বালি। আমি ফিরে এলাম। মামাকে বললাম, ‘মেয়েটি বিবাহিত। একটি ফুটফুটে বাচ্চাও আছে।’ মামা একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন। আমি মামাকে আশ্বস্ত করলাম, ‘আমি যখন পাখি মামা (ঘটক) হয়েছি, তোমার চিন্তা নেই। ঈদের মধ্যেই বিয়ে করতে পারবে।’ ইতোমধ্যে মামাকে আরও কয়েকটি মেয়ে দেখিয়েছি। কিন্তু সবদিক বিবেচনা করে একটাও তার পছন্দ হয়নি। আর যে মেয়েকে মামার পছন্দ হবে সেই মেয়ে পক্ষ যে মামাকে পছন্দ করবে তারও কোনো গ্যারান্টি নেই। কিন্তু প্রথম ঘটকালিতেই আমি ব্যর্থ হতে রাজি নই। বলেছি যখন তখন মামাকে ঈদের মধ্যেই বিয়ে করাব। তবে হয় তো এই ঈদে নয়। অন্য কোনো ঈদে। ঈদ আসা তো আর বন্ধ হয়ে যাবে না 

Comments

sereybd

অভিনন্দন! আপনার পোস্টটি সেরিবাংলাদেশের কমিউনিটি আইডি থেকে কিউরেশন করা হয়েছে। আপনি সেরি বাংলাদেশ ডিসকর্ড সার্ভারে get_upvote_serey চ্যানেলে আপনার পোস্ট লিঙ্ক জমা দিয়ে প্রতি 24 ঘন্টার মধ্যে একবার আমাদের কমিউনিটি  থেকে ভোটের অনুরোধ করতে পারবেন, ধন্যবাদ।

Join sereyBangladesh Discord server:- Join Discord (https://discord.gg/YKPqUku8)
Join sereyBangladesh Telegram :- Join Telegram (https://t.me/SereyBangladesh)